তরুণ চক্রবর্তী: গৌতম রায়। এক ডাকে বাঙালিরা সবাই চেনেন বরাকের হাইলাকান্দির এই বিতর্কিত কংগ্রেস নেতাকে। অসমের দাপুটে প্রাক্তন মন্ত্রী। হিতেশ্বর শইকিয়া বা তরুণ গগৈ, দু‌জনের জমানাতেই ছিল তাঁর দাপট। অসম ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি হয়ে দেশবিদেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন। এহেন গৌতম রায়ের নামেও নাগরিকত্ব নিয়ে জমা পড়েছে আপত্তি। আপত্তি উঠেছে তাঁর নাতির নামেও।
এনআরসি–‌তে বাঙালিদের নামের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে হয়রানির অভিযোগ শুরু থেকেই। অভিযোগ, ধর্মীয় ও ভাষিক সংখ্যালঘুদের বেছে বেছে হয়রানি করা হচ্ছে। যাঁদের নাম উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও জমা পড়েছে আপত্তি। অনেক ক্ষেত্রেই আপত্তি জানানো হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি করার জন্য। দূরদূরান্তে গিয়ে দিতে হয়েছে নাগরিকত্বের প্রমাণ। অভিযোগ, অসমের ছাত্র সংগঠন আসু–‌ই বাঙালিদের বেশি করে হয়রানি করছে।
গৌতমবাবুকে অবশ্য খুব একটা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে না। তাঁর নামে হাইলাকান্দিতে অভিযোগ জানিয়েছিলেন জহিরুল আলি চৌধুরি। অভিযোগ ছিল গৌতম রায়ের ৬ বছরের নাতির নাগরিকত্ব নিয়েও। সেইমতো বিজ্ঞপ্তি জারি করেন এনআরসি কর্তারা। তবে জহিরুল নিজেই অনুপস্থিত থাকায় আপত্তির শুনানি হয়নি। এ প্রসঙ্গে গৌতমবাবুর প্রতিক্রিয়া, ‘বাংলাদেশি প্রমাণিত হলে বাংলাদেশে চলে যাব।’‌ প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে গৌতম রায়ের বাবা, প্রয়াত সন্তোষ রায় হাইলাকান্দি থেকে কংগ্রেসের বিধায়ক নির্বাচিত হন। তাঁর ছেলে রাহুলও ছিলেন কংগ্রেসের এমএলএ। সম্প্রতি একাধিকবার গৌতম নিজেই বিজেপি–‌তে যোগদান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করেছিলেন। 
আসলে এনআরসি নিয়ে আপত্তি ‘ছেলেখেলা’র পর্যায়ে পৌঁছেছে। রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে মন্তব্য করলেন অসমের বিশিষ্ট সমাজকর্মী হরেশ্বর গোস্বামী। তাঁর অভিযোগ, আসু ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হয়রানি করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এনআরসি প্রক্রিয়াকে। অন্যদিকে, এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আসুর উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্যের সাফাই, তাঁরা বাংলাদেশিমুক্ত এনআরসি তালিকা চান। তার জন্যই সচেষ্ট আসুর কর্মীরা। কিন্তু এনআরসি বাঙালিদের ধ্বংস করার অস্ত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে, বলেন অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য। 
অসমের শিবসাগর থেকে নিখোঁজ এনআরসি কর্মী দিগন্ত শইকিয়া বুধবার থেকে নিখোঁজ। শুক্রবার পুলিস জানিয়েছে, একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সেখানে দিগন্ত জানিয়েছেন, এনআরসি প্রক্রিয়ার চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করছেন। কিন্তু তাঁর দেহ এখনও না পাওয়া পুলিস নিশ্চিত নয় দিগন্তর আত্মহত্যা বিষয়ে। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ১৫ জুন প্রকাশিত হতে চলেছে এনআরসির অতিরিক্ত তালিকা। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত তালিকা। অন্তত ৩০ লাখ মানুষ খোয়াতে চলেছে নিজেদের নাগরিকত্ব। অনিশ্চিত তাঁদের ভবিষ্যৎ। এঁদের বেশিরভাগই বাঙালি।

জনপ্রিয়

Back To Top