তরুণ চক্রবর্তী: অসমে এনআরসি–‌র চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে এখনও কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি। বাদ–‌পড়া মানুষদের বড় অংশই বাঙালি। এতে হয়নি, তালিকাভুক্তদের মধ্যে থেকে আরও নাম ছাঁটার তোড়জোড় চলছে বলে খবর। তালিকায় থাকা ‘অযোগ্য’দের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছেন রাজ্য এনআরসি সমন্বয়ক হিতেশ দেবশর্মা। জেলাশাসকদের উদ্দেশে তাঁর ‘জরুরি ও গোপন বার্তা’ ফাঁস হতেই আতঙ্কিত বাঙালিরা বলছেন, অসম থেকে বাঙালিদের উৎখাত করার ষড়যন্ত্র চলছে। ১৯ লাখেরও বেশি নাম বাদ দিয়ে গত বছর ৩১ আগস্ট প্রকাশিত হয় এনআরসি–‌র চূড়ান্ত তালিকা। হিন্দুত্ববাদী সরকার অসমে থাকলেও হিন্দু বাঙালি ও গোর্খাদের নামই বেশি বাদ যায়। অভিযোগ ওঠে, বাঙালিদের শায়েস্তা করতেই এই চাল। তবে বিজেপি–‌রও হজম হয়নি এই তালিকা। তাই সরকারি 
সিলমোহর পড়েনি। শাসক দলের বক্তব্য, চূড়ান্ত তালিকাতেও বহু বাংলাদেশির নাম রয়ে গিয়েছে। তালিকাভুক্ত বাঙালিদেরও তাই নিশ্চিন্ত হওয়ার জো নেই। রাজ্য এনআরসি–‌র সমন্বয়ক হিতেশ দেবশর্মা অসমের প্রতিটি জেলাশাসক তথা রেজিস্ট্রার অফ সিটিজেন রেজিস্ট্রেশন–‌কে পাঠানো বার্তায় বলেছেন, ‘তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অযোগ্যদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দ্রুত পাঠান। এই তথ্য ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে জরুরি ভিত্তিতে জানাতে হবে। তাই অবিলম্বে বিস্তারিত তথ্য পাঠান।’ উল্লেখ্য, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই সমন্বয়ক পদ থেকে সুপ্রিম কোর্ট সরিয়ে দেয় প্রতীক হাজেলাকে। রাজ্য সরকার হিতেশবাবুকে নিয়োগ করে। তিনি উগ্র বাঙালি–‌বিরোধী বলে পরিচিত। ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্টের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টেও নালিশ হয়। দাবি ওঠে তাঁর অপসারণের। তালিকাভুক্তদের বিষয়ে তাঁর তত্ত্বতালাশের খবর জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অসম রাজ্য নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতির সম্পাদক সাধন পুরকায়স্থের অভিযোগ, ‘‌অযোগ্য’‌ বাছাইয়ের নামে আসলে বাঙালিদেরই বাদ দিতে চায় বিজেপি। অযথা সুপ্রিম কোর্টের নাম ব্যবহার করে তারা নিজেদের দায় এড়াতে চাইছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top