‌‌‌সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। মোদি সরকারের বাছাই করা লোক। সেই অরবিন্দ পানাগরিয়া কেন্দ্রের বাজেট নির্মমভাবে কাটাছেঁড়া করলেন। ‘‌ইকনমিক টাইমস’‌ পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে ‌পানাগরিয়ার হুঁশিয়ারি, যেভাবে বিশাল সংখ্যক পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়িয়েছে কেন্দ্র, তাতে ১৯৯১–এর আগের লাইসেন্সরাজ ফিরতে পারে!‌ পানাগরিয়া লিখেছেন, ‘‌২০১৭–‌র ডিসেম্বর সরকার যখন একগাদা পণ্যের শুল্ক বাড়িয়েছিল, অত্যন্ত ইতিবাচক ব্যক্তি হিসেবে আমিও ভেবেছিলাম, রাজস্বের জন্যই বুঝি এই সিদ্ধান্ত। তবে এবারের বাজেটে জুতো থেকে ঘড়ি, মোবাইল ফোন, গাড়ির দামে শুল্ক জুড়ে দেওয়া, আমার ইতিবাচক মানসিকতায় ইতি দিয়েছে। রাজস্ব সচিব হাসমুখ আধিয়া যথার্থই বলেছেন, রাজস্বের কারণে নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প চাঙ্গা করতেই শুল্ক বেড়েছে।’‌ 
সরকারপন্থী অর্থনীতিবিদরা পানাগরিয়ার নিবন্ধে, বিশেষত তাঁর শব্দচয়নে আশ্চর্য হয়েছেন। সঙ্ঘের ‘‌স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ’‌–‌এর অশ্বিনী মহাজনের মতে, ‌প্রাক ১৯৯১–‌এর অবস্থার সঙ্গে এই সময়ের তুলনা করা ঠিক নয়। জানিয়েছেন, ‘বিশ্ব জুড়ে দেওয়াল তোলার নীতি চলছে। যদি বাণিজ্যের জন্য সারা বিশ্ব দোর খোলে, সেক্ষেত্রে আমাদেরও সেই পথেই যাওয়া উচিত। আর বিশ্ব যদি সেই পথ থেকে পেছন ফেরে, তাহলে আমাদের ব্যবসা–বাণিজ্য রক্ষা করতে হবে বইকি। ১৯৯১–এ‌র পর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ব্যাপক মার খেয়েছে। সরকার সেই ক্ষতিপূরণের চেষ্টা করছে, যা অভিনন্দনযোগ্য।’‌ নীতি আয়োগে থাকাকালীন সরকারের বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে ‘‌লবি’‌ করার চেষ্টা করেছিলেন পানাগরিয়া, অভিযোগ করেছেন মহাজন। বলেছেন, ‌২০১৪–‌তে বিজেপি–‌র নির্বাচনী ইস্তাহারেই ন্যূনতম সহায়কমূল্য ৫০ শতাংশ বাড়ানোর কথা ছিল। তা চালু করতে এত দেরি হল পানাগরিয়ার লবিবাজির কারণেই। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর প্রতিক্রিয়া, পানাগরিয়ার সমালোচনা আশ্চর্যজনক, কারণ সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি নিজে এই ব্যবস্থার মধ্যে ছিলেন। সরকারে যা যা আলোচনা হয়েছে, কোনওটাই ওঁর অগোচরে হয়নি। স্বামীর কথায়, ‘‌বাজেটে ওঁর আশ্চর্য হওয়ার কারণ জানি না। এমনও নয় যে, রঘুরাম রাজনের মতো ওঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি খোয়ানোর ভয়ে নিজেই দায়িত্ব ছেড়েছেন।’‌ মহাজন এবং স্বামী দু’‌জনেরই মত, নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান পদে বসার যোগ্যতাই ছিল না পানগরিয়ার। কারণ তিনি ‘‌বিদেশি’‌। ফলে দেশের সম্বন্ধে ধ্যানধারণা খুবই কম। মহাজন বলেছেন, ‘‌অধিকাংশ বিদেশি অর্থনীতিবিদই আর্থিক বৃদ্ধির ‘‌ট্রিক্‌ল ডাউন’‌ মডেল অর্থাৎ সমাজের উচ্চস্তরের উন্নয়নের থেকে একেবারে নিম্নস্তরে চুঁইয়ে পড়ায় বিশ্বাসী। তাতে যদি কর্মসংস্থান না হয়, সেক্ষেত্রেও। আমার মতে, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন হওয়া উচিত।’‌ আর আদ্যন্ত স্বদেশি অর্থনীতিবিদ ড.‌ বৈদ্যনাথনের পক্ষে ওই পদের জন্য সওয়াল করেছেন স্বামী। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top