সংবাদ সংস্থা, রাঁচি, ২ ডিসেম্বর- বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যে ঝাড়খণ্ড বিজেপি–‌তে বড় ধাক্কা লাগল। দল ছেড়ে দিলেন রাজ্য বিজেপি–‌র প্রধান মুখপাত্র প্রবীণ প্রভাকর। যোগ দিলেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার দল ন্যাশনালিস্ট পিপলস পার্টি–‌তে। ওই দলের হয়েই শেষ দফায় অর্থাৎ ২০ ডিসেম্বর নালা কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়বেন তিনি। রবিবার মেঘালয়ের শাসক দলের প্রথম সারির নেতাদের উপস্থিতিতে ন্যাশনালিস্ট পিপলস পার্টি–‌তে যোগ দেন প্রভাকর। 
গত পাঁচ বছরে ঝাড়খণ্ডের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রভাকরই ছিলেন বিজেপি–‌র মুখ। নতুন দলে যোগ দিয়ে প্রভাকর বলছেন, ঝাড়খণ্ড বিজেপি–‌র আত্মসমীক্ষার সময় এসেছে। এর আগেই ঝাড়খণ্ডে বিজেপি–‌র সঙ্গে আঁতাত ভেঙেছে রামবিলাস পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি। 
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের মুখে টিকিট নিয়ে অসন্তোষের জেরে দল ও সরকার ছেড়েছিলেন রঘুবর দাস মন্ত্রিসভার অভিজ্ঞ সদস্য সরযূ রায়। 
গারোয়ায় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের জনসভা ফাঁকা ছিল। অমিত ওই কেন্দ্রের প্রার্থী সত্যেন্দ্র ত্রিপাঠীকে প্রকাশ্যে ধমক দিয়েছেন। বলেছেন, ‘‌মাত্র ১৫ হাজার সমর্থকের উপস্থিতি আপনাকে আবারও জিতিয়ে বিধায়ক করতে পারবে না। আমি ২‌০১৪–‌তেও গারোয়ায় এসেছিলাম। সেবার বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে যে উৎসাহ, উদ্দীপনা দেখেছিলাম, তা আর এখন দেখছি না। উপস্থিত সমর্থকদের প্রত্যেককে অন্তত ৫০ জনকে ফোন করতে বলুন। সমর্থন চাইতে বলুন। তবেই জিতবেন।’‌
ঝাড়খণ্ড বিধানসভার ৮১টি আসনের আরও বেশি আসন জিততে এমনিতেই বিশ্বাসযোগ্য শরিক ‘‌অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’‌–‌কে চটিয়েছে বিজেপি। তাদের সঙ্গে এক দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।  অন্যদিকে, রাজ্যে দলের কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বী ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (‌জেএমএম)‌ কংগ্রেস এবং রাজদ–‌র সঙ্গে পোক্ত জোট গড়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস–‌ জেএমএম আসন বণ্টন নিয়ে মতানৈক্যের জেরে রফাই হয়নি। রঘুবর দাস পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করলেও বন্ধুর থেকে শত্রু তৈরি করেছেন বেশি। বিজেপি–‌র অন্দরের ‘‌শত্রুরা’‌ সক্রিয়। আদিবাসী অধ্যুষিত ঝাড়খণ্ডে রঘুবর ওই সম্প্রদায়ের নন। এবারও তিনি মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হওয়ায় বিক্ষোভ চলছে। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top