আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: রাজ্য বিজেপি–তে ‘‌ওপেন সিক্রেট’‌ ছিল দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রায়ের দ্বন্দ্ব। সব জানলেও সবার মুখে কুলুপ ছিল এতদিন। সম্প্রতি বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে দিলীপ ঘোষের এক মন্তব্যে। পাল্টা খোঁচা দিতে ছাড়েননি মুকুল রায়ও। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে হস্তক্ষেপ করলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। দুই নেতাকে দিল্লি তলব করেছেন তিনি। বুধবার বেলা ১১টায় নিজের বাসভবনে দুই নেতাকে মুখোমুখি বসাবেন শাহ।
মুকুল রায় সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রাজ্য ‌বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের বিবৃতি রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলেছে। মুকুলের রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং প্রভাব নিয়েও সংশয় প্রকাশ করে দিলীপ বলেছেন, ‘‌মুকুলদার তো কোথাও কিছু নেই। ওঁর থেকে কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের অনেক বেশি গুরুত্ব রয়েছে।’‌ আরও বলেছেন, ‘‌দলে মুকুল রায়ের কোনও ভূমিকা নেই। সুনাম নেই। দলের কোনও কর্মী, এমনকী অন্য কোনও সংগঠনও ওঁর পাশে নেই। ওঁর সঙ্গে যাঁরা ঘুরে বেড়ায় তাঁদের বেশিরভাগই দালাল। কাটমানি আদায়কারী লোকজন।’‌ 
দিলীপের এই মন্তব্য প্রকাশিত হতেই পাল্টা দিয়েছেন মুকুল। বলেছেন, ‘‌কে বড় নেতা সেটা মানুষই বিচার করবেন।’‌ সাধারণত বিবৃতি নিয়ে জলঘোলা হলে রাজনৈতিক নেতারা সংবাদমাধ্যমের ঘাড়ে মন্তব্য বিকৃত করার দায় চাপিয়ে দেন। কিন্তু, এক্ষেত্রে নিজের মন্তব্য অস্বীকার করেননি দিলীপ। বরং বলেছেন, ‘‌ঘরোয়া কথাবার্তা সংবাদ শিরোনাম হয়ে গেলে কিছু করার নেই।’‌ শুধু তাই নয়, আরও বলেছেন, ‘‌নিশীথ প্রামাণিক সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংও লড়াকু।’‌ এহেন অবস্থায় দুই নেতার বিবাদে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন দলের শীর্ষনেতারা। তড়িঘড়ি তলব করা হয়েছে দিলীপ ও মুকুলকে।
দলের তরফে অবশ্য বলা হচ্ছে, আসন্ন পুরভোট এবং ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক আলোচনা করতেই ডেকে পাঠানো হয়েছে রাজ্য নেতাদের। দিলীপ, মুকুল ছাড়াও ডাকা হয়েছে রাহুল সিনহা এবং সুব্রত চ্যাটার্জিকে। তবে অন্দরের খবর, মুকুল রায় দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা–‌সহ পুরনো নেতাদের একাংশ বেজায় ক্ষুব্ধ। সারদা ও নারদ মামলায় অভিযুক্ত নেতাকে অন্যদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় দলের শীর্ষনেতৃত্বের কাছে নালিশও করেছিলেন কয়েকজন। যদিও রাজ্য দখলের অভীপ্সাকে প্রাধান্য দিয়ে মুকুল রায়ের দল ভাঙানো খেলাতেই ভরসা রেখেছেন অমিত শাহরা। 
তবে, বিতর্ক নতুন করে দানা বেঁধেছিল বীরভূমের মনিরুল ইসলামকে দিল্লিতে দলের সদরে নিয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি–‌তে যোগ দেওয়ানোর ঘটনায়। তারপর বালুরঘাট জেলা পরিষদের সদস্য–‌সহ একাধিক তৃণমূল নেতাকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে বিজেপি–তে যোগ দেওয়ানোর পর নিজের এলাকায় গিয়ে তাঁরা আবার তৃণমূলে ফিরে গিয়েছেন। এই ঘটনা নিয়ে দলের শীর্ষনেতৃত্বের কাছে মুকুলের বিরুদ্ধে নালিশ ঠুকেছেন রাজ্য নেতারা। এরপর সম্প্রতি শোভন চ্যাটার্জি ও বৈশাখী ব্যানার্জির বিজেপি–‌তে যোগ দেওয়া এবং দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতে ঘনিষ্ঠ মহলে মুকুলকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন দিলীপ ঘোষরা।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top