রাজীব চক্রবর্তী,দিল্লি: এয়ার ইন্ডিয়ার বেসরকারীকরণ হচ্ছেই। তবে, ভারতীয় কোনও সংস্থাকেই এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রি করতে চায় সরকার। সংসদে একথা জানালেন অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী।‌ ‌‌এদিকে দেশের গর্ব এয়ার ইন্ডিয়া–‌‌সহ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির বিকেন্দ্রীকরণের তীব্র বিরোধিতা করেছে তৃণমূল।
বৃহস্পতিবার লোকসভার প্রশ্নোত্তরপর্বে অসামরিক বিমান পরিবহণ বিষয়ক একগুচ্ছ প্রশ্ন তোলেন বিভিন্ন দলের সাংসদরা। প্রশ্ন ওঠে জেট এয়ারওয়েজ বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়েও। বিজেপি–র সাংসদরাও এয়ার ইন্ডিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন। মন্ত্রী জবাব দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হননি তৃণমূল সাংসদরা। দলের দুই প্রবীণ সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জি ও সৌগত রায় বলেন, ‘‌লাভজনক হোক বা অলাভজনক, দেশের গর্বের সংস্থাগুলিকে একের পর এক বেসরকারি সংস্থার কাছে বিক্রি করে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করে তৃণমূল। একসঙ্গে ৪২টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নীকরণ মেনে নেওয়া যায় না। এই ভাবে গোটা দেশকে বিক্রি করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।’‌
মন্ত্রী বলেন, ‘‌এয়ার ইন্ডিয়া অত্যন্ত ভাল পরিষেবা দিচ্ছে। এই সংস্থা দেশের গর্ব, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু, সংস্থাটির ঋণের বোঝা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া ‌এয়ার টার্বাইন ফুয়েলের দাম‌, অপরিশোধিত তেল, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়তে থাকায় এয়ার ইন্ডিয়ার মতো খরচ বেড়েছে অন্যান্য সংস্থারও। এয়ার ইন্ডিয়া অত্যন্ত কম টাকায় পরিষেবা দিয়ে চলেছে। চলতি খাতে ক্ষতি ৭ হাজার কোটিরও বেশি। তাই বাধ্য হয়েই কৌশলগত বিকেন্দ্রীকরণ। অনেকেই আগ্রহ দেখিয়েছে।’‌ 
পুরী জানিয়েছেন, জেট বন্ধ হওয়ার সময় ৫৪০টি দেশীয় বিমান পরিষেবা দিত। এখন তা ৫৭০-‌৫৮০ হয়েছে। প্রতি মাসেই নতুন বিমান আসছে। কংগ্রেস নেতা মণীশ তিওয়ারি জানতে চেয়েছিলেন, এয়ার ইন্ডিয়া যদি সত্যিই ভাল পরিষেবা দিচ্ছে, তাহলে বিকেন্দ্রীকরণ কেন?‌ মন্ত্রী বলেন, ‘‌ভারত–‌‌পাক সম্পর্কে অবনতির সময় পাকিস্তানের আকাশ এড়িয়ে উড়তে এয়ার ইন্ডিয়াকে বিকল্প পথে অতিরিক্ত ৪৩০ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছিল।’‌ 
সেইসঙ্গে মন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার ভারতীয় কোনও সংস্থার হাতেই এয়ার ইন্ডিয়াকে দিতে চায়। বিজেপি–‌‌র এক সাংসদ প্রশ্ন তোলেন, এয়ার ইন্ডিয়ার এই দুর্দশা কি যাত্রী টানতে সরকারের ব্যর্থতা নয়?‌ মন্ত্রীর জবাব, ‘‌এয়ার ইন্ডিয়া দেশের প্রথম শ্রেণির সম্পদ। তাদের ১২৫টি বিমান। ৪০টি আন্তর্জাতিক ও ৮০টি দেশীয় রুটে পরিষেবা দিয়ে চলেছে। সমস্যা বিপুল ঋণের বোঝাই। নীতি আয়োগও বিকেন্দ্রীকরণের সুপারিশ করেছে।‌‌’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top