আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সিবিআই তদন্ত ধীর গতিতে চলছে বলে আঙুল তুলেছিলেন সুশান্তের পরিবারের আইনজীবী। দাবি করেছিলেন, খুন হয়েছেন নায়ক। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তড়িঘড়ি বিবৃতি দিয়েছিল সোমবার, যে তদন্তে সমস্ত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এবার তদন্ত অনেকটাই গুটিয়ে এল। কারণ সোমবার রাতেই সুশান্তের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পর্যালোচনা এবং ভিসেরা পরীক্ষা করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে এইমস। 
এইমস–এর একটি দল সুশান্তের মৃত্যুর ফরেনসিক তদন্ত করছেন। নেতৃত্বে রয়েছেন ডা.‌ সুধীর গুপ্তা। সেই দলই এবার রিপোর্ট জমা দিল। তাতে বিষক্রিয়ায় সুশান্তের মৃত্যুর কথা উড়িয়ে দিয়েছে। সূত্রের খবর, এইমস–এর প্যানেলের রিপোর্টই এই মামলায় বিশেষজ্ঞর মতামত হিসেবে ধরা হবে। চিকিৎসকদের আদালতে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করা হবে। চিকিৎসক দলের প্রধান সুধীর গুপ্ত জানিয়েছেন, সুশান্তের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সিবিআই এবং  চিকিৎসকরা একমত। কিন্তু আইনের সব দিক খতিয়ে দেখে তবেই তাকে আইনসিদ্ধ সিদ্ধান্তে রূপ দেওয়া হবে।
১৪ জুন বান্দ্রার ভাড়ার ফ্ল্যাট থেকে সুশান্তের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মুম্বই পুলিশ জানিয়েছিল, আত্মহত্যা করেছেন সুশান্ত। যদিও অভিযোগ ওঠে, সুশান্তকে খুন করা হয়েছে। সুশান্তের বাবা কে কে সিং তাঁর প্রেমিকা রিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেন পাটনা থানায়। অভিযোগ, ছেলে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন। তাঁর টাকা নয়ছয় করেছেন। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সুপারিশে তদন্তভার নেয় সিবিআই। 
গত শুক্রবার সুশান্তের পারিবারিক আইনজীবী বিকাশ সিং দাবি করে, এইমস–এর এক চিকিৎসক তাঁকে জানিয়েছেন, সুশান্তকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। সিং মৃতদেহের ছবি পাঠিয়েছিলেন। সেই দেখেই ওই চিকিৎসক নাকি ২০০ শতাংশ নিশ্চিত। ওই চিকিৎসক সুশান্তের মৃত্যুর ফরেনসিক তদন্তকারী দলের সদস্য। এর পরই সোরগোল পড়ে যায়।
রিয়ার আইনজীবী সতীশ মানশিণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বলেন, এভাবে তদন্তকে পূর্ব–নির্ধারিক পথে চালনা করা হচ্ছে। সিবিআই–কে নতুন মেডিক্যাল টিম গড়ার আর্জি জানান। চাপে পড়ে এইমস–এর ফরেনসিক দলের প্রধান সুধীর গুপ্তাও জানান, তাঁদের তরফে কোনও রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। সিদ্ধান্তে উপনীত হয়নি দলটি। আর ছবি দেখে এভাবে মৃত্যুর কারণ বলাও সম্ভব নয়। যা রিপোর্ট দেওয়া হবে, তা বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরীক্ষার পরেই। 

জনপ্রিয়

Back To Top