আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আমেরিকায় ‘‌কৃষ্ণাঙ্গ’‌দের মতোই এদেশের সংখ্যালঘু, গরিবদের একই অবস্থা। তাঁদের পাশেও দাঁড়ান। ফের মুখ খুললেন অভয় দেওল। মার্কিন মুলুকের বর্ণবিদ্বেষী হত্যার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে যাঁরা টুইটারে পোস্ট দিয়েছেন, তাঁদের মনে করিয়ে দিলেন এদেশের সংখ্যালঘু নাগরিক, পরিযায়ী শ্রমিক ও গরিব হতদরিদ্র মানুষদের হয়েও রুখে দাঁড়ানোর কথা। তার কটাক্ষের মধ্যে যেমন বলিউডের তারকারাও পড়েন, তেমনই একইভাবে তিনি দেশের মধ্যবিত্তদের দিকেও আঙুল তুললেন। 
গত সপ্তাহে সোমবার এক পথচারীর রেকর্ড করা ভিডিও ফুটেজে এক নৃশংস ছবি দেখতে পায় গোটা বিশ্ব। দেখা যায় কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিনি জর্জ ফ্লয়েডের গলায় টানা আট মিনিট ধরে হাঁটু চেপে বসে আছে এক শ্বেতাঙ্গ অফিসার। জর্জ বারবার অফিসারকে অনুরোধ করছিলেন যে তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না। কিন্তু জর্জ নেতিয়ে না পড়া পর্যন্ত হাঁটু ওঠাননি অফিসার। ওই ভিডিও ফুটেজ আপলোড হতেই তা ভাইরাল হয়। তারপরই আমেরিকায় ফের শ্বেতাঙ্গদের বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগে পথে নামেন লক্ষ মানুষ। সেই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে ভারতেও। টুইটারে প্রতিবাদ জানান বলিউডের বড় বড় তারকারাও। মঙ্গলবার টুইটারে ‘‌কালো দিবস’‌ পালন করা হয়। সেপ্রসঙ্গেই মুখ খুললেন অভিনেতা অভয় দেওল। বললেন, একইসঙ্গে সবার নিজের ঘরে চলতে থাকা অবিচারের বিরুদ্ধেও মুখ খোলা উচিত। পোস্ট করলেন একটি ছবি। একটি পাতার ওপর নীল কালি দিয়ে হাতে লেখা ‘‌#migrantlivesmatter #minoritylivesmatter  #poorlivesmatter’‌। তিনি বলতে চাইলেন, ঠিক যেভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনের গুরুত্ব রয়েছে, সেভাবেই গুরুত্ব রয়েছে‌ এদেশের সংখ্যালঘু, পরিযায়ী ও গরিবদের প্রাণেরও। কিন্তু এদের কথা অধিকাংশই ভুলে যান। বলিউড তারকাদের সঙ্গে সঙ্গে তিনি এই দোষে দুষলেন দেশের মধ্যবিত্তদেরও। লিখলেন, ‘‌আমেরিকা তাদের হিংস্রতা গোটা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে। দুনিয়াটাকে আরও ভয়ঙ্কর বানিয়ে দিয়েছে। নিজের দেশের পরিপ্রেক্ষিতেও রুখে দাঁড়াতে হবে। ‌‘‌black lives matter’‌ আন্দোলন সেকথাই বলে। এখানে ‘‌আমরা’‌ ‘‌ওরা’‌ বলে কিছু নেই। কোনও দেশের একটি ঘটনা নয় এটা। সমগ্র বিশ্বের সত্য এটাই।’‌ নীচে লিখলেন, ‘‌Black Lives Matt‌er, দেখুন আমি হ্যাশট্যাগ দিইনি। তাও কেন ও কীভাবে এই আন্দোলনকে সমর্থন করছি, সেটা আশা করি এবার বুঝতে পারবেন।’‌ এরপরেই টুইটারে অভয় দেওলের প্রশংসাসমেত পোস্টের পর পোস্ট পড়তে থাকে। 
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অভয় দেওল এর আগেও মুখ খুলেছিলেন বলিউড তারকাদের বিরুদ্ধে। তখন কিন্তু এই বলিউডের তারকাই বর্ণবিদ্বেষকে মান্যতা দিচ্ছিলেন। কিন্তু অন্যভাবে। ফরসা হওয়ার ক্রিম বা যেকোনও প্রসাধনী দ্রব্যের বিজ্ঞাপন করাটা আদপে একধরণের শ্যামবর্ণের প্রতি ঘৃণাই প্রকাশ করে। আর তার বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

জনপ্রিয়

Back To Top