আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে বিপাকে ফেলেছিলেন দেশবাসীকে। নতুন এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে গত দু’‌বছরে ৫০ লক্ষ মানুষ এই নোটবন্দির কারণে তাঁদের চাকরি হারিয়েছেন। বেঙ্গালুরুর আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সাসটেনেবল ডেভলপমেন্ট থেকে প্রকাশিত রিপোর্টে এমনই বলা হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, নোটবন্দির পর গত দু’বছরে চাকরি হারিয়েছেন ৫০ লক্ষ মানুষ। যদিও নোটবন্দির সঙ্গে চাকরি যাওয়ার সম্পর্ক আছে কিনা তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই রিপোর্টে জানা গিয়েছে, যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা বেশি। সাধারণভাবে ২০১১ সাল থেকেই দেশে চাকরি কমছে। যাঁরা চাকরি হারাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত তরুণরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। রিপোর্টে মন্তব্য করা হয়েছে, নোটবন্দির জন্যই এতজন চাকরি হারিয়েছেন কিনা তা বলা সম্ভব নয়। কিন্তু যে হারে চাকরির সুযোগ কমছে, তা উদ্বেগের কারণ তো বটেই। সরকারের এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল।
উচ্চশিক্ষিতরা গত কয়েক বছরে চাকরি হারিয়েছেন তো বটেই, কিন্তু অল্প শিক্ষিতদের অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। তাঁরা যে ধরনের চাকরি করেন, তারও সংখ্যা কমেছে। এই অবস্থায় নির্বাচনে কর্মসংস্থান যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। গতবছর কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের একটি গোপন রিপোর্ট ফাঁস হয়ে যায়। তাতে বলা হয়েছে, ২০১৭–১৮ সালে বেকারত্বের হার ছিল তার আগের ৪৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বেকারত্বের হার এখন ৬.১ শতাংশ। ১৯৭২–৭৩ সালের পরে আর কখনই এত মানুষ বেকার ছিলেন না। এই রিপোর্টটি সরকার প্রকাশ করতে চায়নি। কিন্তু গোপন সূত্রে তা একটি সংবাদপত্রের হাতে আসে। পরে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান রাজীব কুমার বলেন, ‘‌ওই রিপোর্টের সত্যতা যাচাই করা হয়নি।’‌
ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ধরে নেওয়া হয় অসংগঠিত ক্ষেত্রে অল্পশিক্ষিতরা বেশি চাকরি করেন। কিন্তু নোটবন্দির ফলে ওই ক্ষেত্রটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এর পাশাপাশি জিএসটিও অসংগঠিত ক্ষেত্রকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। 

 

 

 

 


 


 

জনপ্রিয়

Back To Top