আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ জোড়া কৃষি বিলের বিরোধিতায় মঙ্গলবার থেকে সংসদ বয়কট করেছেন বিরোধীরা। বুধবারও সংসদের বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে চলছে প্রতিবাদ। এর মাঝেই রাজ্যসভায় পাশ হয়ে গেল তিনটি শ্রম বিল। বিল আইনে পরিণত হলে ৩০০ বা তার বেশি কর্মী কাজ করেন এমন শিল্প সংস্থায় এখন থেকে সরকারের অনুমতি ছাড়াই ইচ্ছেমতো নিয়োগ ও ছাঁটাই করা যাবে।
এদিন সকালেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডুকে চিঠি লেখে বিরোধীরা। সেখানে আর্জি জানায়, এই বিলগুলো বিরোধীদের অনুপস্থিতে ‘‌একপাক্ষিকভাবে’‌ যাতে পাশ করানো না হয়। সে রকম হলে, তা ‘‌গণতন্ত্রের ওপর দাগ’‌ ফেলবে। বিরোধীদের সেই আর্জি মানল না কেন্দ্র। 
রাজ্যসভায় ধ্বনিভোটে জোড়া কৃষি বিল পাশ করানোর জন্য প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন বিরোধী সাংসদরা। রবিবার তাঁরা দাবি করেছিলেন, কৃষি বিলের ক্ষেত্রে ‘‌ডিভিশন অফ ভোট’‌ নয়তো কাগজে বা বোতাম টিপে ভোট করানো হোক। সে দাবি মানেননি ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ। সেই নিয়ে আজ রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হচ্ছেন পাঁচ বিরোধী নেতা। তার মধ্যে পাশ হয়ে গেল শ্রম বিলও। 
উল্লেখ্য, ২৫ জন সাংসদ, মন্ত্রী করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ের আট দিন আগে বন্ধ হচ্ছে সংসদের অধিবেশন। 
এর মধ্যে আজ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোড ২০২০, অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশনস কোড ২০২০ এবং কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি ২০২০ বিল পাশ হল রাজয়সভায়। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সই করলে তা আইনে পরিমত হবে। কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রী সন্তোষ গাঙ্গোয়ারের দাবি, এই তিনটি আইন শ্রমিকদের ‘‌সুরক্ষিত কাজের পরিবেশ’‌ দেবে। সামাজিক সুরক্ষাও পাবেন তাঁরা। 
কেন্দ্র এই দাবিও করেছে, এই বিল তিনটি আইনে পরিণত হলে শ্রম নীতিতে সংস্কার আসবে। বিনিয়োগ বাড়বে। ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকরাও সুবিধা পাবেন। কিন্তু এই দাবি মানছে না বিরোধী এবং বিশেষজ্ঞরা। 
এর মধ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোড ২০২০–‌তে অবাধ ছাঁটাই ও ক্লোজারের সুযোগ আরও বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আগের নিয়মে ১০০ জনের কম শ্রমিক কাজ করেন এমন কোনও সংস্থায় ছাঁটাই বা ক্লোজার করতে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারের অনুমতি নিতে হত না। এবার সংখ্যাটা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০০। নতুন বিলে ‘মাস ক্যাজুয়াল লিভ’কেও ধরা হবে ধর্মঘট হিসেবে। শাস্তি হবে গণহারে।  ধর্মঘট করলে চড়া জরিমানা, জেলের মতো কঠোর শাস্তিও চাপানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top