আজকাল ওয়েবডেস্ক: পি জয়রাজ ও বেনিক্স–এর হত্যার দায়ে অভিযুক্ত দুই পুলিশকর্মী ও এক কনস্টেবলকে মাদ্রাস হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে। রাজ্য সরকারকে কোর্টের নির্দেশ এই তিনজনকেই অন্যত্র বদলি করে দেওয়া হোক, নয়ত মুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সাথানকুলাম থানার ডেপুটি এসআই সি পার্থাপান, অ্যাডিশনাল ডেপুটি এসআই ডি কুমার এবং কনস্টেবল মহারাজনকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় কোর্টে হাজিরা দিতে হয়েছে। 
তুতিকোরিনের সাথানকুলামে মামলার তদন্ত করার সময়ে তদন্তকারীকে পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের রিপোর্টে। তার ভিত্তিতেই হাইকোর্ট পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে। ম্যাজিস্ট্রেটের রিপোর্টে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে কনস্টেবল মহারাজন হুমকি দিয়েছিল, ‘‌তোমরা আমার কিচ্ছুটি করতে পারবে না।’‌
সরকার নির্দেশিত নির্দিষ্ট সময়ের পরেও তাঁদের মোবাইলের দোকান খুলে রাখার জন্য পি জয়রাজ‌ ও তাঁর ছেলে বেনিক্সকে‌ আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। মৃতদের পরিজনদের অভিযোগ, সাথানকুলাম থানায় পুলিশের নিমর্ম অতাচারেই পি জয়রাজ ও তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়। শুধু মারধরই না, যৌন হেনস্থাও করা হয়েছে তাঁদের। ২২ জুন হাসপাতালে বেনিক্সের মৃত্যু হয়। তার পরদিন তাঁর বাবা জয়রাজের। বিরোধী দল ডিএমকে ই কে পালানিস্বামীর সরকারের দিকে আঙুল তুলে বলেছে, পুলিশের হাতে আইন তুলে দিয়েছে শাসক দল। আর তারই ফল একরম একটি নিষ্ঠুর ঘটনা। একরকম নির্মম ঘটনায় রাগে ফেটে পড়ছে গোটা দেশ। রাজনৈতিক মহল থেকে তারকা জগৎ পর্যন্ত এই পুলিশই নির্মমতার বিরুদ্ধে ন্যায় দাবি করেছে।
হাইকোর্ট জানিয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটের রিপোর্টে স্পষ্টই দেখা গিয়েছে যে জেলা পুলিশ প্রশাসন তাকে তদন্তে এগিয়ে যেতে বাধা দেওয়ার জন্য সবরকমভাবে তৎপর। এছাড়া, কনস্টেবল মহারাজন হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ জয়রাজ ও বেনিক্স পুলিশকর্মীদের গালাগাল করেছিলেন। গ্রেপ্তারি আটকানোর জন্য রাস্তায় গড়াগড়িও খেয়েছিলেন। পুলিশ এখন অবধি কেবল সন্দেহজনক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। মঙ্গলবার রাজ্য সরকার এই ঘটনার তদন্তভার তুলে দিয়েছে সিবিআইয়ের হাতে। কিছু সমাজকর্মীর মতে, এর ফলে মামলার গুরুত্ব লঘু হয়ে যেতে পারে।

জনপ্রিয়

Back To Top