আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয়‌ সরকার–রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সংঘাত নিয়ে বৃহস্পতিবার সরব হলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরম। তাঁর দাবি, আর্থিক সঙ্কট থেকে উদ্ধারের জন্য সরকার রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে কবজা করতে চায়। যার পরিণাম হবে মারাত্মক। চিদম্বরমের অভিযোগ, সরকার রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে কবজা করতে চায়। এখানেই শেষ নয়।  এমনকী এই সরকার অন্যান্য সংস্থাকেও দখল করতে চাইবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরকে টাকা দিতে বাধ্য করা হবে।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে চিদম্বরম জানান, নির্বাচনের আগে সরকার খরচ বাড়াতে চায়। কিন্তু তার হাতে টাকা নেই। তাই সরকার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তহবিল থেকে ১ লক্ষ কোটি টাকা চেয়েছিল। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর উৰ্জিত প্যাটেল এই পরিমান টাকা দিতে অস্বীকার করেন। তাই এই প্রথমবার সরকার আরবিআই অ্যাক্টের সাত নম্বর ধারা প্রয়োগ করেছে। এই ধারায় আছে, সরকার জনস্বার্থে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু তার আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘‌গভর্নর যদি টাকা দিতে না চান তাহলে আরবিআই অ্যাক্টের সাত নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তহবিল থেকে ১ লক্ষ কোটি টাকা সরকারের অ্যাকাউন্টে পাঠান। শেষপর্যন্ত কী হল আমরা জানতে পারব ১৯ নভেম্বর। সেদিন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বোর্ড বৈঠকে বসবে। বোর্ডে সরকার ইতিমধ্যেই বাছা বাছা লোক বসিয়ে রেখেছে। বোর্ড মিটিংয়ে চেষ্টা হবে যাতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সরকারের প্রস্তাব মেনে নেয়। গভর্নরকে হয়তো শেষপর্যন্ত ইস্তফা দিতে হবে।’‌
চিদম্বরমের দাবি, উৰ্জিত প্যাটেলের সামনে দুটি পথ খোলা থাকবে। হয় তিনি সরকারের দাবি মেনে নেবেন, নয়তো পদত্যাগ করবেন। কিন্তু এই সরকার বুঝতে পারছে না রিজার্ভ ব্যাঙ্কের থেকে জোর করে টাকা নিলে পরিণতি কত মারাত্মক হতে পারে। কয়েকদিন আগে সরকার রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে বলে, ঋণ দেওয়ার নিয়মকানুন আরও শিথিল করা হোক। একইসঙ্গে সরকারের তহবিলে কিছু পরিমাণ টাকা জমা দিক ব্যাঙ্ক। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর দুটি অনুরোধই মানতে অস্বীকার করেন। সেই থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে সরকারের সংঘাতের সূত্রপাত হয়। যার পরিণতি আগামী ১৯ নভেম্বর পাবে বলে মনে করছেন অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top