আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ অসহায় শ্রমিকদের সঙ্গে অপরাধীর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। বিহারের সিওয়ান জেলার একটি জায়গায় বন্দি রাখা হয়েছে তাঁদের। মুক্তি পাওয়ার জন্য কাঁদছেন তাঁরা। কেন বন্দি রাখা হয়েছে?‌‌ এটা নাকি করোনা সংক্রমণ রোখার পদক্ষেপ নীতীশ সরকারের। টুইটারে সেই ভিডিওই পোস্ট করলেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কিশোর। সঙ্গে ‘‌ভয়াবহ ছবি’ লিখে তাঁর প্রাক্তন গুরু নীতীশ কুমারকে একহাত নিলেন। ‌  
দেশবাসী গৃহবন্দি, স্তব্ধ যান চলাচল, কলকারখানা, দেশের ৯০ শহরে কমল বায়ুদূষণের মাত্রা

 

পাটনা থেকে ১৩০ কিমি দূরে এই জেলাটি। উত্তরপ্রদেশ সীমান্তের কাছাকাছি। প্রশান্ত কিশোরের ভিডিওয়ে দেখা যাচ্ছে, দুঃস্থ শ্রমিকদের একটা জায়গায় আটকে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে অনেক কষ্ট করে তাঁরা পৌঁছেছেন সেখানে। বাড়ি ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কাঁদতে কাঁদতে মিনতি করছেন তাঁরা। তাঁদের যাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁরা বাড়ি যেতে চান। রুমালটিকে মাস্ক হিসেবে পরা তাঁদের মধ্যে একজন এক সাংবাদিককে বলছেন, ‘‌সকাল থেকে আমাদের বলা হচ্ছে, বাস আসবে। আমাদের নিয়ে যাবে। কিন্তু সেই বাস তো আসছেই না। আমরা আর কিছু চাই না। আমাদের যেতে দিন।’ কোল্যাপসিবল দরজায় দাঁড়িয়ে কাগজ দেখিয়ে সাহায্যের জন্য কাতরাচ্ছেন তাঁরা।

এই ভিডিওটি পোস্ট করে প্রশান্ত কিশোর লিখেছেন, ‘‌করোনা সংক্রমণ রোখার জন্য সরকারি পদক্ষেপের একটি ভয়াবহ ছবি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এত কষ্টে বিহারে পৌঁছনোর পর বিহারের নীতীশ কুমার সরকারের তরফে এভাবে সোশ্যাল ডিস্ট্যানসিং ও কোয়ারেন্টিন করা হচ্ছে।’ শেষে হ্যাশট্যাগ দিয়ে নীতীশ কুমারের পদত্যাগের দাবি করলেন প্রশান্ত।‌
এই ঘটনার পক্ষে সিওয়ানের পুলিশ সুপার অভিনব কুমারের যুক্তি, ‘কিছু প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। সবার তথ্য লিখে নেওয়া এবং মেডিক্যাল পরীক্ষা। সেগুলো না হওয়া পর্যন্ত ছাড়া যাবে না কাউকে। তাঁদের খেতেও দেওয়া হবে। এর জন্য কিছু সময় তো লাগবেই।’‌
জানুয়ারি মাসেই নীতীশ কুমারের দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ হয় প্রশান্ত কিশোরের। তারপর থেকে তাঁর বেশ কিছু পোস্টে নীতীশ কুমার সরকারের অন্ধকার কিছু দিক উঠে আসতে থাকে। বিশেষ করে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের দুরবস্থার কথা তিনি প্রায়শই সামনে তুলে আনছেন।
করোনা সংক্রমণ রোখার জন্য ২৪ মার্চ মধ্যরাত থেকে দেশে টানা ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আচমকা এই সিদ্ধান্তের পরেই বিপদে পড়েছেন ভিনরাজ্যে কর্মরত দেশের হাজার হাজার শ্রমিক। মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে বাড়ি পৌঁছতে হয়েছে তাঁদের। কয়েকজন মাঝরাস্তাতেই দুর্ঘটনায় বা অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। ‌‌‌‌

 

জনপ্রিয়

Back To Top