প্রসঙ্গ: উত্তরপ্রদেশে আসন্ন বিধানসভা ভোট 

গৌতম রায়: আগামী ২০২৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচন হতে চলেছে।

এই নির্বাচনের আগে উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভার ভোট বিজেপির কাছে এক অগ্নিপরীক্ষা। উত্তরপ্রদেশে বিজেপি যদি আগামী বিধানসভা ভোটে জেতে, তাহলে আগামী লোকসভায় তাদের আবার ক্ষমতায় ফিরে আসার ব্যাপারটা অনেক মসৃণ এবং নিশ্চিত হবে। আর বিজেপি যদি উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটে জিততে না পারে, তাহলে তাদের ভারতের শাসন ক্ষমতায় আবার ফিরে আসার ব্যাপারটা অনেক কঠিন হবে।

ভোটে জেতার জন্য যে রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং কর্মপ্রবাহ রাজনৈতিক দলগুলির ভিতরে দেখতে পাওয়া যায়, আরএসএস-এর রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি কিন্তু কখনও সেই পথে হাঁটে না, বা আরএসএস তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপিকে কখনও সেই পথে পরিচালিত করে না। বিজেপিকে ভোট রাজনীতিতে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে তাদের মূল মস্তিষ্ক সঙ্ঘ, সবথেকে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই ভূমিকার নিরিখেই বিজেপি অতীতে অটল বিহারী বাজপেয়ী নেতৃত্বে এনডিএ নামক নীতিবিহীন, সুবিধাবাদী জোট করে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ছয় বছর ভারত শাসন করেছে।

আরএসএসের সেই ভূমিকার নিরিখে কিন্তু বিগত ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে একক ক্ষমতায় ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার তৈরি করেছে বিজেপি। ২০১৯ সালে আবার তারা ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। ক্ষমতা ধরে রাখার প্রশ্নে যে কৌশল আরএসএস অবলম্বন করে, সেই কৌশল সাধারণভাবে কোনও রাজনৈতিক কৌশল নয়।আরএসএস এর কাছে রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখাটা এখন আর একমাত্র কাম্য বিষয় নয়। আরএসএস নিজেদের যে রাজনৈতিক সংগঠন বলে না, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বলে পরিচয়ের একটা আবরণ রেখে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত করে, সেই ক্ষেত্রটিকে এখন আরও প্রভাবশালী করে তুলেছে।সেইটিকেই  সমাজের বুকে পরিচালিত করবার ক্ষেত্রে তারা গত প্রায় আট বছর ধরে ভারতে তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি পরিচালিত সরকারকে ব্যবহার করে সামগ্রিকভাবে একটা ভিন্ন পর্যায়ের পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সেই পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে  বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি, এমনকী বামপন্থী দলগুলো রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রশ্নে যথেষ্ট বিভ্রান্ত।

১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফৈজাবাদ থেকে জিতেছিলেন সিপিআইয়ের মিত্রসেন যাদব। এই ফৈজাবাদ লোকসভা কেন্দ্রটির মধ্যে কিন্তু অযোধ্যা শহরটি ভৌগোলিকভাবে অবস্থিত। সেই মিত্রসেন যাদব পরবর্তী সময়ে কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গ ত্যাগ করে। সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দেয়। কমিউনিস্ট পার্টির ভেতর থেকে এইভাবে বেরিয়ে এসে কোনও বুর্জোয়া দলে যোগ দিয়ে নানা ধরনের সংসদীয় রাজনীতির সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা, এগুলি কিন্তু কেবল উত্তরপ্রদেশ নয়, গোটা গোবলয়, অর্থাৎ উত্তর ভারতে হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তির ক্ষমতার বিস্তার ঘটানোর ক্ষেত্রে একেকটি অনুঘটক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে।

বিগত এক দশক ধরে উত্তরপ্রদেশে যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, সেই রাজ্যের আধা সামন্ততান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো অদল-বদল ঘটানোর ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র দৃষ্টিপাত তারা করেননি। বামপন্থীরা আধা-সামন্ততান্ত্রিক ভূমি ব্যবস্থার বদলের  কথা মুখে বললেও, এই ব্যবস্থাকে বদলে দেওয়ার জন্য যে রাজনৈতিক আর্থ-সামাজিক আন্দোলন করা দরকার, সেই প্রশ্নটিতে মাটিতে নেমে, তাদের সেভাবে কাজ করতে দেখা যায়নি। বরং বলা যেতে পারে, উত্তরপ্রদেশে আজ থেকে দশ-পনের বছর আগেও বামপন্থী রাজনীতির বিভিন্ন ধারা এবং সেই ধারার নেতৃত্ব যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন, আজ কিন্তু তাদের আর দেখতে পাওয়া যায় না, বা তাদের পরবর্তী প্রজন্ম যে তৈরি হয়েছে, সফলভাবে কাজ করছে, এ কথা জোর দিয়ে বলতে পারা যায় না।

অ-বাম, অ-বিজেপি রাজনৈতিক দলগুলি বিগত প্রায় কুড়ি-পঁচিশ বছর ধরে উত্তরপ্রদেশে কেবল মন্দির-মসজিদ রাজনীতি করে গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের একটা বড় অংশের নাগরিক সমাজের অংশ হল মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের অর্থনৈতিক জীবনকে ইতিবাচক দিকে প্রবাহিত করার জন্য কোনও প্রবণতাই  কিন্তু অ-বিজেপি রাজনৈতিক দলগুলো বিগত দীর্ঘ সময় ধরে উত্তরপ্রদেশে দেখানোর চেষ্টা পর্যন্ত করেনি। শিল্পায়নের প্রশ্নে বিগত কুড়ি বছর ধরে ভারতের যে রাজ্য গুলি সবথেকে বেশি পিছিয়ে আছে, সম্ভবত তার প্রথমের দিকে স্থান করে নিতে পারে এই উত্তরপ্রদেশ। ভূমি ব্যবস্থায় আধা-সামন্ততান্ত্রিক পরিকাঠামো বজায় রাখা এবং শিল্পায়নের প্রশ্নে কোনরকম আধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ না নেওয়া, আবার তার পাশাপাশি যে ধরনের শিল্প গুলি আছে, যেমন আখ শিল্প, যা থেকে চিনি উৎপাদন হয়, কার্পেট শিল্প নানা ধরনের ফার্নিচার, বেনারসি শাড়ি ইত্যাদি...এগুলো মূলত কুটির শিল্প বলে চিহ্নিত করা হয়, সেগুলির আধুনিকীকরণের  প্রশ্নে প্রশাসন বা রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কোনওরকম উদ্যোগ, বিগত দীর্ঘদিন ধরে আমরা উত্তরপ্রদেশে দেখতে পাইনি।

আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে, শিল্পের উন্নতির ভেতর দিয়ে, সেখানকার জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অর্থনৈতিক মানদণ্ডের অদল-বদল ঘটানোর চেষ্টা না করার ফলে উত্তরপ্রদেশে একটা ভয়াবহ সামাজিক সংকটের উদ্ভব ঘটেছে। উত্তরপ্রদেশে সেই ঘটনাক্রমের ভেতরেই কিন্তু জাত-পাত, সাম্প্রদায়িকতার ভয়াবহ বিপদের দিকটাও অত্যন্ত ভালভাবে বিকাশ লাভ করতে পেরেছে। একটা বড় অংশের  মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনের যে ভয়াবহ অভাব উত্তরপ্রদেশ জুড়ে আছে, সেই অভাবকে কাজে লাগিয়ে, এই ধর্মের নামে মানুষকে বিভাজিত করবার কাজটা উত্তরপ্রদেশের অত্যন্ত সুচারুভাবে করতে সক্ষম হয়েছে হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি।

আজ নিজের নির্বাচন কেন্দ্র বারানসীকে ঘিরে যে সাম্প্রদায়িক অবস্থান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিতে সক্ষম হয়েছেন, সেই অবস্থান নেওয়ার পটভূমি তৈরির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে এই বারানসী শহরটিকে কেন্দ্র করে হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি, আরএসএস-এর শাখা সংগঠন গুলির সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে। সেই ভূমিকাকে  প্রতিরোধ করার জন্য নূন্যতম সামাজিক পদক্ষেপ কিন্তু সেখানকার কোনও অ-বিজেপি রাজনৈতিক দল নেয়নি।

বারাণসীতে গঙ্গা আরতির নাম করে ধীরে ধীরে যে সাম্প্রদায়িক প্রপাগান্ডা শুরু হয়েছিল, যার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল, সহনাগরিক মুসলমান সম্প্রদায় সম্পর্কে বিদ্বেষের মানসিকতাকে ধীরে ধীরে চাগিয়ে তোলা, সেই যে কার্যক্রম, তার বিরুদ্ধে কিন্তু পাল্টা সামাজিক কার্যক্রম কোনও অ-বিজেপি রাজনৈতিক সংগঠন বা তাদের সহযোগী কোনও সংগঠন কখনওই বারাণসীতে করেনি। ফলে বারাণসী-সহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় আধ্যাত্মিকতাকে ধর্মান্ধতায় পরিণত করার কাজটিও বিজেপির পক্ষে, আরএসএস -এর পক্ষে, বা তাদের হাজার রকমের সহযোগী সংগঠনের পক্ষে, করাটা অত্যন্ত সহজ হয়েছে।

আজ বিশ্বনাথ মন্দির করিডোরের নাম করে যে ভয়ঙ্কর উচ্ছেদের ঘটনা ঘটে চলেছে বারাণসী জুড়ে, উত্তরপ্রদেশের স্বঘোষিত 'যোগী' আদিত্যনাথের সরকার, কেন্দ্রীয় সরকারের মদতে সেই কাজ করে চলেছে, সেই ভাবনাটা কিন্তু হঠাৎ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের শিবিরের মাথায় আসেনি। ক্ষমতা দখল করলে কীভাবে উন্নয়নের নাম করে সংখ্যালঘু মুসলমানদের অর্থনৈতিক উন্নতির সমস্ত পথ বন্ধ করে, তাদের ভাতে মারা যায়, এই পরিকল্পনা কিন্তু আজ বিজেপি করেনি। এই পরিকল্পনা ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় কালে যে কল্যাণ সিংয়ের নেতৃত্বে বিজেপি সরকার উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় ছিল, সেই বিজেপি সরকারই ধীরে ধীরে করতে শুরু করেছিল আরএসএসের প্রত্যক্ষ পরামর্শের ভেতর দিয়ে।

যদি সেই সময়ে কল্যাণ সিং সরকারের কার্যক্রম গুলিকে আমরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করি, তাহলে আমাদের কাছে এটা পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, বেনারস শহরকে মুসলমান মুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কী রকমের ষড়যন্ত্র হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি করে চলেছে। প্রবাহমান কাল ধরে বেনারস, এলাহাবাদ ইত্যাদি শহরে সহনাগরিক মুসলমানেরা বাস করছেন। হিন্দু-মুসলমান পাশাপাশি থাকছে। সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে কখনও কখনও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা হয়েছে। দাঙ্গা হয়েছে। হানাহানিও হয়েছে।কিন্তু পরবর্তীকালে আবার সেই দাঙ্গার পরিবেশকে মুছে দিয়ে, মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে, জাতপাতের প্রশ্নে  উত্তরপ্রদেশে নানা ধরনের যে বিচার-বিশ্লেষণ আছে, সেগুলিকে অতিক্রম করে মানুষ আবার পাশাপাশি থেকেছে। একসাথে জীবন জীবিকার জন্য লড়াই করেছে।

সেই লড়াইকে ভেস্তে দিতে আরএসএস কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করছে। তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি যখনই উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় এসেছে, সেই পরিকল্পনাকে ফলপ্রসূ করার জন্য একটা পদক্ষেপ কিন্তু বিজেপির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। এইসবের নেপথ্যে সবসময় থেকেছে আরএসএস ।বলাবাহুল্য হিন্দু সম্প্রদায়িক শিবিরের এই নোংরা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কিন্তু কোনও অ-বিজেপি রাজনৈতিক শক্তি সামাজিক প্রতিবাদ-প্রতিরোধ, রাজনৈতিক প্রতিরোধ কোনও পথেই হাঁটেনি। প্রতিবাদ অবশ্যই করেছে। কিন্তু তার বেশিরভাগটাই ছিল কাগুজে।

আজ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে যদি এই বিশ্বনাথ করিডোরকে কেন্দ্র করে আলংকারিক উন্নয়নের জেরে কীভাবে সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের ব্যবসা-বাণিজ্য করবার অধিকার কেড়ে নিয়েছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার, তা নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলেও কিন্তু দেখতে পাওয়া যাবে যে, মুসলমানকে ভাতে মারবার এই ষড়যন্ত্র আরএসএস, তার বিভিন্ন শাখা সংগঠন এবং রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপিকে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে।

যোগী আদিত্যনাথের কার্যক্রমকে ঘিরে সাম্প্রতিককালের উত্তরপ্রদেশে সাম্প্রদায়িকতা যে মাত্রায় পৌঁছেছে, তা ভারতকে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার বর্বরতাকে অতিক্রম করে, সংখ্যাগুরুর আধিপত্যবাদের বর্বরতার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই যে রাজনৈতিক হিন্দুদের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যটিকে ঘিরে ভয়ঙ্কর ক্ষমতার আস্ফালন, যা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের প্রশ্নটিকে বারবার প্রভাবিত করেছে, তার গোটা প্রেক্ষাপট রচনা ক্ষেত্রে ভারতের স্বাধীনতার আগে বা অব্যবহিত পরে কংগ্রেস দলের উত্তরপ্রদেশকে ঘিরে ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়।

জওহরলাল নেহরু এবং সর্দার  বল্লভ ভাই প্যাটেল, উভয়েই উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকে ধর্মনিরপেক্ষ এবং হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার দড়ি টানাটানির উপক্রমের অন্যতম প্রধান কুশীলব। জওহরলালের নির্বাচন কেন্দ্র ছিল উত্তরপ্রদেশের ফুলপুর। আর বল্লভ ভাই প্যাটেল ছিলেন গুজরাটের মানুষ। স্বাধীনতার পর নেহেরু হয়েছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং প্যাটেল হয়েছিলেন দেশের উপপ্রধানমন্ত্রী।

এই সময় দেশের একজন প্রবীণ সাংবাদিক বলেছিলেন গান্ধী উত্তর যুগে ভারতের প্রথম শহিদ হল শালীনতা। ভারতের সামনে যে কোনও ঐক্যশ্রী উদ্যোগ-আয়োজন নেই সেই কথা সেই সময়ের মাদ্রাজের বিশিষ্ট সাংবাদিক ভি রঘুনাথমের লেখাতে বার বার উল্লেখ করা হয়েছে (Sotto voce: A Social and Political Commentary.vol-1 page-203)। এই ক্ষেত্রটির বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সেই সময়ের সাংবাদিক, সমাজতাত্ত্বিক, গবেষক, ইতিহাসবিদরা বারবার কংগ্রেসের গোষ্ঠী সংঘর্ষকে বিশেষভাবে দায়ী করে গিয়েছেন।

মহাত্মা গান্ধী শহীদ হওয়ার পরপরই বিবাদমান প্যাটেল এবং নেহরু পরস্পর পরস্পরের কাছাকাছি এলে ও ১৯৫০ সাল নাগাদ এই দুই প্রথম ও প্রধান ভারতীয় নেতার মতবিরোধ আবার নতুন করে দানা বাঁধতে শুরু করে। সেটাই কিন্তু ভারতের রাজনীতিকে সাম্প্রদায়িক আর ধর্মনিরপেক্ষ এই দুটি মূল স্রোতে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। স্বাধীনতার পরের পর্বে মহাত্মা গান্ধী শহিদ হওয়ার অব্যবহিত পরেই পণ্ডিত নেহরু এবং প্যাটেলের মধ্যে মতভেদ ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হতে শুরু করে। সেই মতভেদ মহাত্মা গান্ধীর জীবনাবসানের অব্যবহিত পরে একটা বড় ধরনের বিচ্ছেদ বিভাজনের পটভূমিকা আবার নতুন করে তৈরি করে।

পণ্ডিত নেহরু আর সর্দার প্যাটেলের ভিতরে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যে বিবাদ-বিসংবাদ ছিল, সেগুলি কিন্তু এই সময়ের ভারতীয় রাজনীতিতে খুব বড় ভাবে প্রভাবিত করতে শুরু করে। দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তুলনায় আধুনিক মনষ্ক চক্রবর্তী রাজা গোপালাচারীকে চেয়েছিলেন নেহরু। প্যাটেল গোষ্ঠী তা হতে দেননি। আজ সাম্প্রদায়িকতার যে উর্বর ভূমিতে উত্তরপ্রদেশে চাষ করছে আরএসএস-বিজেপি, সেই পটভূমির নির্মাণপর্বটা মনে রাখা খুব দরকার।

আকর্ষণীয় খবর