KMC Election: মসনদ মমতার, কলকাতা বলে দিল, বিজেপির শিং নেই তবু নাম সিংহ


ববি হাকিমের কথাটা এবারের কলকাতার ভোটের অন্যতম আপ্তবাক্য।

‘‌কলকাতা কর্পোরেশনের ভোট ফলাফল শুভেন্দুকে জবরদস্ত থাপ্পড়।’‌ এই ছিল ববির মোক্ষম জবাব। একটি নামী সর্বভারতীয় ইংরেজি ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‌শুভেন্দু কলকাতার একাংশকে মিনি পাকিস্তান আখ্যা দিয়ে ও আমার মুসলিম পরিচিতিকে পাকিস্তানি অভিধা দিয়ে সাম্প্রদায়িক তাস খেলেছিলেন। কলকাতার উদার মানসিকতার ভোটাররা এই কুৎসিৎ আক্রমণের জবাব দিলেন শুভেন্দুকে। গত বিধানসভা নির্বাচনে গোটা বাংলা যেভাবে এই হীন রাজনীতির জবাব দিয়েছেন।’‌ 
ফিরহাদ হাকিমের এই মন্তব্যের মধ্যেই রয়েছে এই নির্বাচনে বিজেপির রাজনীতির ছক। যা শুভেন্দুর জন্যে অবশ্যই অশনি সংকেত। 
এই ভোটে শুভেন্দুর নেতৃত্বেরও লিটমাস টেস্ট হয়ে গেল। বুদ্ধিমান শুভেন্দুর তা না বোঝার কথা নয়। এতদিন তো দিলীপ ঘোষকে নন্দ ঘোষ বানিয়ে দিল্লিতে দরবার করেছেন। এবার সেই দিলীপকেই সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে বিরুদ্ধবাদীদের দম কতটুকু তার পরীক্ষা নিয়ে নিলেন মহামান্য মোদি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েট তো সুকান্ত মজুমদার নন। দিলীপ ঘোষের একটা জায়গা ঠিকই আছে।  কিন্তু পদভারে তিনি সভাপতি ও বিরোধী দলনেতার নীচে। এছাড়া যিনি সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি দলে বা সংঘে যতই মুরুব্বি হন, আম জনতার কাছে কেউকেটা নন। সুতরাং একমেবাদ্বিতীয়ম শুভেন্দু অধিকারী, যিনি নন্দীগ্রামের বিগ্রহ, তিনি আদপে কোথায় দাঁড়িয়ে তার আঁখো দেখা হাল জেনে নিলেন বিজেপির ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর। কংগ্রেসি কায়দায় বিজেপি করা যায় না, ধীরে ধীরে সেই সত্য প্রকট হচ্ছে দলবদলু ভাইসকলের। তাই অনেকেই পড়ি কি মরি ফের স্বস্থানে প্রস্থানের অঙ্ক করছেন, করেছেন। কিন্তু অধিকারী কী করবেন। তাঁকে বিজেপি ছাড়া কে এই পীরের দরজা দেবে বঙ্গে?‌  রঙ্গমঞ্চ ক্রমেই বেশ জমজমাট। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নড্ডা আসছেন। কাউকেই গাড্ডায় ফেলার ক্ষমতা নড্ডার হাতে নেই। কিন্তু নালিশের অধিকার আছে। তাছাড়া তিনি তো অনেক রাঘববোয়ালের রাজনীতিতে জল ঢেলে সংঘের সংকেতে সভাপতি। সুতরাং তাঁকেও তো কিছু করে দেখাতে হবে। পারফর্ম অর পেরিশ যেখানে বীজমন্ত্র, সেখানে অস্তিত্বের সংকটে অন্যকে গ্যাটিস দেওয়া যায় না। সংঘের সঙ্গে আগাগোড়া সঙ্গতে ছিলেন শুভেন্দু। তিনি জানেন বিজেপিতে অধিকারীদের খুল্লা ছুট নেই। বিরিঞ্চিবাবার আশ্রমে সবকিছু ধারে কাটে। ভারে তো কিছুই কাটে না। 
এবার বিধানসভা নির্বাচনের পর পদ্মফুলের দেখা মেলেনি। যা ছিল সবই পদ্মপাতা। পদ্মপাতায় জল। বিজেপি রাজনীতির কৌশল। হারের পর চাল বদলেছে বিজেপি। একে একে হাওড়া, হুগলি ছেড়ে মেদিনীপুর মায় পূব পশ্চিম নির্বিশেষে হাওয়া মোরগরা উঁকিঝুঁকি মারছে ফের তাদের ছেড়ে যাওয়া তৃণমূলের দিকে। কত নাম বলব। ঢল নেমেছে ফেরার। কিন্তু যেসব অপাংক্তেয় নেতা বনেছেন দলের অনুগ্রহে, তারাই দুঃসময়ে নেতৃত্বের মুণ্ডপাত করে নৈশ বিমানে নিশির ডাকে দিল্লি গিয়ে শাহর পায়ে পড়ে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন। তাদের দাম দেখিয়ে দিয়েছে জাগ্রত বাংলা। এবার দেখাল কলকাতা। কলকাতা তো কখনও লাল রংয়ের ছিল না। তাই, বলা যাবে না কলকাতার পরিবর্তনের কথা। কলকাতার রক্তের রঙ চিরকালই নীল। যাকে বলে নীলরক্ত। ব্লু ব্লাড। একদা এই নীলরক্ত বহে যেত কংগ্রেসের ধমনীতে। এখন বহে যায় কংগ্রেসের স্রোতধারা তৃণমূল কংগ্রেসে। লাল জমানায় বৃহত্তর কলকাতাকে কর্পোরেশনের আওতায় আনার আইন বাম জমানার সূচনা করে ছোট লালবাড়িতে। কমল বসু, প্রশান্ত চ্যাটার্জি। তারপর বাম মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্য। এদিকে কংগ্রেসের স্রোতধারা তৃণমূল কংগ্রেসে মিশে গেল মমতার তীক্ষ্ণ তিরে। সুব্রত মুখোপাধ্যায় মেয়র হলেন। গৌরবজনক অধ্যায় এল কলকাতা কর্পোরেশনে। সেই অর্জন পাথেয় করেই মমতার অপার আস্থার বর্ষণে মেয়র হলেন শোভন এবং বিদ্যাসাগরের সূত্র অনুযায়ী শিবির বদল করলেন। তার পরের নাচন কোদন সত্ত্বেও জলশোভন যথারীতি জলেই পড়ে রইলেন। রত্না তার স্বাক্ষর। অক্ষর একটাই তৃণমূলে। মমতা। যা এবার প্রায় সব ওয়ার্ডের ওয়ার্ড। কলকাতার ভোট কার্নিভাল। আগামী দিনে ১১০ পুরসভাতেই যা মসনদের অক্ষর হতে চলেছে। সেফলজি বি ভোটবিজ্ঞান তাই বলে। বিরোধীদের ছাপ্পা ভোটের সমস্ত অভিযোগ নিয়ে বলা যায়, কলকাতা আছে কলকাতাতেই। একুশের বিধানসভার বাস্তবতা পুরভোটে বদলানোর নয় এমনিতেই। সেইসঙ্গে এই ভোটে বিজেপির ডুবসাঁতারের রাজনীতি তাদের তিনে নামিয়েছে। ওটাই তাদের আসল শক্তি, বাংলারও বাস্তবতা। সুকান্ত মজুমদারের আবোলতাবোল অনুযায়ী তৃণমূল সিপিএমকে ভোটভিক্ষা দিয়েছে। এটা বিজেপির ড্রিম সিচুয়েশন। মানে একদিকে তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস। এবং অন্যদিকে তেনারা অর্থাৎ বিজেপি একা। মেরুকরণের কি মোলায়েম মায়া। শুধু কলকাতার জনগণ তাদের ছায়া মারালোনা, বুঝলনা, এই যা দুঃখ। মরিয়া না মরে রাম। তাই দিলীপ ঘোষের একটা মন্তব্য , ‘‌তৃণমূল সিপিএমকে দ্বিতীয় শক্তি করার জন্যে অনেক চেষ্টা করেছে।’‌ এই চিঁড়ে গোমুত্রে ভিজবেনা জেনেও অক্লান্ত তিনি। কেমন দ্বিতীয় শক্তি?‌ না ৬০% এর ফারাক। ৭২ % আর প্রায় ১২%। বিজেপি ৯% এর একটু বেশি। কলকাতায় বিজেপির ভোট ছিল ২৯%। ২০% কমেছে। সেই ২০ শতাংশ গেল কোথায়?‌ অঙ্ক জানতে হয় না এই হিসেব বুঝতে। ২০১৫ র কলকাতা কর্পোরেশন ভোটে বাম পায় ১০.৪ %। এবার পেয়েছে ১১% এর কিছু বেশি। এই এক শতাংশ বিজেপিতে চলে যাওয়া বাম ভোট?‌ এইরকম পরিবর্তনের কোনও তত্ত্ব হয়?‌ যেখানে গতবারের কলকাতার পুরভোটে বাম পেয়েছিল ১৫ আসন। এবার ২। তাহলে রামে যাওয়া বাম ভোট ফিরল কোথায়?‌ জানি না কেন সত্যি কথা বলতে কি কষ্ট।  মানে তৃণমূলে বেড়েছে অ–তৃণমূল ভোট, একথা বলতে আপত্তি কেন?‌ সিপিএমের ভোট যদি এত সংখ্যায়  বিজেপিতে ট্রান্সফার হয়ে থাকে এবং তা ফিরে থাকে তাহলে তো সিপিএম বা বামদের ভোট ৩০% ছাড়িয়ে যেত। বাম বিজেপির ফারাক একেবারেই নগণ্য। ভোটের হিসেবে দুই শতাংশের কাছাকাছি হলেও আসনে ১ কম বামদের। এবং কলকাতা কদাচ লাল ছিল না। লাল জমানার ভোটে কলকাতা চিরকাল কংগ্রেসেরই ছিল। ৩৪ বছরের মধ্যেও ৩৩ বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো এমপি ছিলেন কলকাতা থেকেই। ছিলেন অজিত পাঁজা, দেবী পাল, কৃষ্ণা বসু , সুগত বসু, কবীর সুমন এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা থেকেই। বাম জমানার দাপট সত্ত্বেও কলকাতায় অটুট ছিল কংগ্রেসের সংগঠন। সিদ্ধার্থ শংকর রায় বোলপুর ও বহরমপুর থেকে লোকসভায় হারলেও বিধানসভায় জেতেন চৌরঙ্গী থেকে। সুব্রত, সোমেন আগাগোড়াই বাম আমলের কংগ্রেস বিধায়ক কলকাতা থেকে। কংগ্রেসের সেই সমর্থনভূমি সরাসরি ট্রান্সফার হয়ে যায় তৃণমূলে, মমতার টানে। কলকাতা তো বটেই, এমনকি যাদবপুর দমদমও, এবং আরও কিছু লোকসভা আসনে লাগাতার হার হয় কংগ্রেসের। এই আসনগুলো সব গোড়া থেকেই তৃণমূলের। সুতরাং লাল রক্ত নীল হওয়ার গল্প নেই। নীল রক্ত নীলই থেকে গেছে। বিজেপিতে যাওয়া ভোট বামে নয় তৃণমূলেই পড়েছে। অন্য কোথাও যায়নি। 
‘‌আগে রাম পরে বাম’‌ স্লোগান একদম বিজেপির কুশলী বঙ্গ বিশেষজ্ঞদের তৈরি। যাদের সোনার বাংলার নীল নকশা করার ঠিকে দেওয়া হয়েছিল। তারা আদিতে আরএসএসের নয়। পরে মোহন ভাগবতের নেকনজরে এসে এরা ক’‌জন বিজেপির বলশেভিক হয়ে ওঠেন। কিন্তু রাজনৈতিক সংগঠনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা না থাকলে যা হয় তাই হয়েছে। এদের ঢক্কানিনাদে বিজেপির পর্বতের মূষিকপ্রসব হয়েছে। লোকসভায় ১৮ আসনের পেছনে অনেক সমীকরণ ছিল। কিন্তু সেই সমীকরণ ছিল এককালীন। কারণ তার আদি অন্ত বুঝতে না পারলে সেই ভোট ধরে রাখা যায় না। যায়ওনি। সুতরাং ৩ থেকে ৭৭ হয়েও, তিলে তিলে বেড়েও তিলভাণ্ডেশ্বর হয়নি বিজেপি। সুতরাং তিলোত্তমা হওয়ার চান্স কোথায়?‌ ওই বাড় নিয়ে কোনও কোনও নেতা আস্ফালন করলেও সভাপতি সুকান্ত কিন্তু সব শুনে গেছেন। বলেছেন খুব কম। লাগাতার কেন্দ্রীয় দলকে রিপোর্ট করে গেছেন এবং তাঁদের নির্দেশে এই পর্বে একপা পিছনোর লাইন অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। যাতে লোকসভার চব্বিশের ভোটে দু’‌পা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় কংগ্রেসমুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে। সুতরাং পর্বত সত্যিই মূষিক প্রসব করেছে কর্পোরেশন ভোটে। প্রমাণ হয়েছে, বাংলায় বিজেপির শিং নেই তবু নাম তার সিংহ। সেই আদ্যিকালের পুরসভায়  শান্তিলাল জৈনদের জমানার তিন জনের পুরসভা–শক্তিতে ফিরে গেছে ‘‌পুনর্মূষিক’‌ ভাজপা। বিধানসভা ভোটের পর তারা ঝিমিয়ে পড়েছে দেখে নানা কথা বাংলার বাইরে পত্র পত্রিকায়। কেউ লিখল, ওয়াকওভার। কেউ লিখল আরএসএসের সঙ্গে বাংলা নিয়ে বিজেপির বিরোধ। এবং কেউ বলল, বেনোজল ছেঁচে ফেলে আসল দল গড়তে বিজেপি নিজের প্রকৃত শক্তি যাচাই করতে চায়। উত্তরপূর্বাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের কংগ্রেস ও সহযোগীদের নির্মূল করে চব্বিশের জমি চষছে বিজেপি। যে কারণে এই ভোট কার্যত পুরোপুরি শুভেন্দুর ওপর ছেড়ে দিয়েছে দল। দিল্লির দাদারা তো বটেই, অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও আসেননি প্রচারে। এতে দুটো কাজই হবে। সেই কাজের কী হল কে জানে। তবে বিজেপি পুরসভায় স্বস্থানে প্রস্থান করল। ভবানীপুর উপনির্বাচনের আগে থেকেই তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার হিড়িক উঠেছিল। সেই স্রোতে ভাটা পড়েনি। মুকুলের সঙ্গে সঙ্গে কুলত্যাগীরা সবাই  উল্টোরথে চেপেছে। কিন্তু তৃণমূল এভাবে দলের দুর্দিনে ছেড়ে যাওয়াদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কঠোর হয়েছে। কলকাতার পুরভোটের মোদ্দা রায় তো জানাই ছিল। তাই বিজেপির ভেতরে উথালপাথাল অবস্থা বুঝতে অসুবিধে হয় না। বিধানসভা ভোটে হেরে যারা পুরসভা ভোটের প্রচারে প্রায় অনুপস্থিত, তাদের জন্যে লম্বা রেসের ট্র্যাক কোথায়?‌ বিশেষ করে হতাশা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের টোটকায় বাংলায় হিতে বিপরীত হওয়ার কারণে। 
 বিধানসভায় জেতা ৭৭ আসন কার্যত কমে দাঁড়িয়েছে ৭০। মুকুল রায়, তন্ময় ঘোষ, বিশ্বজিৎ দাস, সৌমেন রায়, কৃষ্ণা কল্যাণী  তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু খাতায় কলমে এঁরা এখনও বিজেপিতে। বিজেপির এই ধসের পুনর্নির্মাণ বা মেরামতি হয়নি, হবেনা। 
তার ওপর যারা রাম থেকে বামে ফেরার তত্ত্ব দিচ্ছেন, তাদের যুক্তি খণ্ডন করছেন প্রাক্তন স্পিকার  হাসিম আবদুল হালিমের ছেলে ডা. ফুয়াদ হালিম। তাঁর পাল্টা সূত্র, বিজেপি ভোট ট্রান্সফার করেছে তৃণমূলে। কিন্তু বিজেপি ও সিপিএমের এই ভোট ট্রান্সফারের তত্ত্ব এবং ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ পরস্পরবিরোধী। 
এই পটভূমিতে পুরভোটের ফল প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী ও দলনেত্রী মমতার কামাখ্যায় পুজো দেওয়া এবং ফিরহাদের নেতৃত্বে পুরনো বোর্ডকেই নতুন করে গড়ার সিদ্ধান্ত অবশ্যই কুশলী স্ট্রোক। এর সুদূরপ্রসারী পরিণাম আর কেউ বুঝতে পারুক না পারুক বিজেপির মাথারা বোঝেন। যারা ভাবছিলেন সফট হিন্দুত্বের পথে হাঁটছেন তৃণমূল সুপ্রিমো, তাঁদেরই তত্ত্ব ছিল, কোনও হিন্দু ব্রাহ্মণকে মেয়র করা হবে। এবং সেই নামটি হবে চমকে ওঠার মতো। যাতে মেয়র পদে সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়বে না। সাম্প্রদায়িক জোঁকের মুখেও চুন পড়বে। কিন্তু ওভাবে জোঁকের মুখে চুন দেওয়া যায় না। কংগ্রেসের হিন্দি বলয়ের রাজনীতি তার প্রমাণ। বাম জমানাতেও শাসকরা যা করতে পারেননি তাই করে দেখালেন মমতা। ফজলুল হকের চেয়ারে ফিরহাদকেই ফিরিয়ে। সব জমানার সত্য, রাজা কর্নেন পশ্যতি। মমতাকে এই সত্য কাবু করতে পারেনি। তিনি শত্রু মিত্র ও স্তাবক চেনেন। অনেকদিন বন্ধুর পথে চলার অভিজ্ঞতা তাঁকে ঋদ্ধ করেছে। তাই তাঁর পূর্বসূরির মতো ভুল হাতে ফুল দেওয়ার প্রশ্ন নেই। তাই কলকাতার মসনদের অক্ষর বদলায়নি। স্টিয়ারিং ঘোরেনি বামেও।

আকর্ষণীয় খবর