BJP: পদ্মখেতাবের অঙ্কে ভুল, পাল্টা কোপে পদ্মফুল 

দেবারুণ রায়: রাজতন্ত্রে দস্তুর ছিল, প্রজাদের অশিক্ষিত দরিদ্র বুভুক্ষু রেখে দাও।

তাহলে তারা দুর্বল শরীরে মনে রাজার দয়ায় বেঁচে থাকার মতো মানসিকতায় চলে যাবে। সেটা আরও কায়েম হবে যখন ছিটেফোঁটা দান দক্ষিণা ছড়িয়ে দাও হরির লুটের বাতাসা। কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কবিতায় ছিল:

‘অন্ধজনে দেহ আলো বাক্যহীনে ভাষা / ভক্ত যদি এনে দাও স্বর্গীয় বাতাসা।’ সেই টাই অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে। আরও মিলে যাবে। ‘মেলাবেন তিনি মেলাবেন’ (অমিয় চক্রবর্তী)। এভাবেই বাইশের খেতাব দিতে গিয়ে কোথাও না কোথাও কর্তারা মেলালেন কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান বিরোধী শক্তিকে। কাশ্মীরী গুলাম নবি আজাদকে পদ্মভূষিত করেও হিতে বিপরীত হল। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর খবরে উল্লসিত জয়রাম রমেশ বললেন, ‘বুদ্ধবাবু আজাদ। উনি গুলাম হতে নারাজ। এতে গোটা রাজনীতিটাই চাঙ্গা হয়ে গেল। আর যে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর কার্যত কোনও উপস্থিতি নেই সক্রিয় রাজনীতিতে, যিনি কোলাহল থেকে সরে গেছেন অনেক দূরে, আজ তিনিই সবচেয়ে সজীব সারাদেশের সংবাদে। যা সঞ্চারিত সঞ্জীবনী হয়ে উঠেছে বিরোধীদের এক সূত্রে বাঁধার।’

খেতাবের পরাক্রম নিয়ে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা সব রীতি রেওয়াজ বদলে দিচ্ছেন বলে, সেই শাসকদের কেতাব আলাদা হলেও খেতাবে দারুণ কেতা। বাংলাকে হ্যাংলাজ্ঞানে খেতাবি ডোল ভিক্ষে! যাতে সব নামী দামী বিশিষ্টজনেরা কেন্দ্রের কর্তাদের ঢোল বাজান। সুভাষচন্দ্র বসুর ট্যাবলোকে দরজা দেখিয়ে পদ্ম খেতাবের ট্যাবলেট বিলি করার হিড়িক।  তাও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর মতো রাজনৈতিক নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে না জানিয়েই এবং গীতশ্রী সন্ধ্যার মতো বাংলার অলংকারকে ফোনে বিজ্ঞপ্তি ছিটিয়ে পদ্মদান করার উদ্যোগ। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় সপাটে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন তাঁর ক্ষোভ। ‘আমাকে জানেন? আমি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কি পদ্মশ্রীর জন্যে বসে আছি? যে এভাবে ফোনে ডেকে পাঠাচ্ছেন? আমার পুরস্কার মানুষের ভালোবাসা।  পদ্মশ্রী নয়।’ আর বুদ্ধবাবু তো বলেই দিয়েছেন, ‘আমাকে কেউ কিছু বলেনি। তবু যদি পদ্মভূষণ দিয়ে থাকে আমি তা প্রত্যাখ্যান করছি।’ শোনা যাচ্ছে ল্যান্ড লাইনে ফোন আসার সময় মীরা ভট্টাচার্য ধরেন। এবং স্বাভাবিক সৌজন্য মাফিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ওঁকে জানিয়ে দেব।’ এটা যে সম্মতি নয় তাও বুঝিয়ে দেন। তবে? সম্মতি ছাড়া ঘোষণা হয় কী করে? বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর দলের পক্ষে সে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আসলে জ্যোতি বসু বা নাম্বুদিরিপাদ যথাক্রমে ভারতরত্ন ও পদ্মভূষণ ফিরিয়ে দিয়েছেন জেনে ও একই রাজনীতির বুদ্ধদেবকে পদ্ম খেতাব দিতে চাওয়ার কারণ তো আছেই। সম্মতি থাক না থাক রাজনীতি তো আছেই। সিপিএমের এক প্রবীণ বললেন, ‘ফুট ডালো ঔর রাজ করো!’ এটা ব্রিটিশের শিক্ষা। আর রাজি না হলেও দেখানো গেল, ঔদার্য। কিন্তু এই ঔদার্যের উদয় হয়নি লালকৃষ্ণ আডবাণী বা মুরলী মনোহর যোশীর ক্ষেত্রে। কারণ কী? মৃত কল্যাণ সিংকে খেতাব এবার অনগ্রসর ভোটে টান পড়েছে উত্তরপ্রদেশে। এমনকী, কলকাতার রশিদ খানকেও উত্তরপ্রদেশের কোটায় দেখানো হয়েছে। ‘ভোট বড় বালাই’। সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট আপত্তি উঠেছে ‘বাংলার অপমানের’ অভিযোগে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে যেভাবে পদ্মভূষণে ভূষিত করা হয়েছে তাও কি সম্মান প্রদর্শন? প্রশ্ন উঠেছে, পদ্মভূষণের তালিকায় অন্য যাঁরা আছেন বা পদ্মবিভূষণ দেওয়ার তালিকায় যাঁরা, বাংলার এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও এক দশকের মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁদের চেয়ে নীচে নামানোর বা তাঁদের সমকক্ষ করার অধিকার কে দিল কেন্দ্রকে। এখন এই পদ্ম নিয়ে ছদ্ম রাজনীতির তকমায় ভূষিত হলেন যাঁরা তাঁরা তো খামোখা বরের বদলে শাপ কুড়োলেন বাংলার। রশিদকে বাংলার মনে করেননি। এখন হাতে রইল পেনসিলের মতো একটি নাম। তিনি ভিক্টর ব্যানার্জি। বিজেপিরই তিনি। অতঃপর ভিক্টরই ভিক্ট্রি শিল্ডের ভরসা।

আরও পড়ুন: প্রসঙ্গ: উত্তরপ্রদেশে আসন্ন বিধানসভা ভোট 

আকর্ষণীয় খবর