Bangladesh: পদ্মাপারে খোলা হাওয়ায় সম্প্রীতির গান

তপশ্রী গুপ্ত, রাজশাহি: সুর বেঁধে দিল পদ্মার উতল হাওয়া।

বন্ধুত্বের সুর। ফাল্গুনের বিকেলে তখন গোধূলির রং ধরেছে আকাশে। একের পর এক মোটরবোট ভাসল পদ্মার জলে। ওপারে ভারতের মুর্শিদাবাদে আলো জ্বলে উঠেছে। কতটুকুই বা দূরত্ব! হঠাৎ করে মনে হয় সাঁতরে পেরিয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়। নৌকায় সওয়ার পঞ্চম বাংলাদেশ–‌ভারত সাংস্কৃতিক মিলনমেলার প্রতিনিধিরা। কেউ গলা ছেড়ে গান গাইছেন, কেউ বা সেলফি তুলতে ব্যস্ত। সারাদিন কেটেছে নানা অনুষ্ঠানে। রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবর্ধনা থেকে তাহেরপুরের প্রাচীন দুর্গামন্দির দর্শন পর্যন্ত‌ সর্বত্র মানুষের ঢল। সবাই বলতে চান, কত ভালবাসি। ত্রিপুরার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল, ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশের সহ–সভাপতি ও সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির আচার্য সত্যম রায়চৌধুরীকে সাদরে বরণ করে নিলেন ঐতিহ্যশালী রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। কথা হল শিক্ষাক্ষেত্রে আরও বেশি সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে। এই মুহূর্তে রাজশাহিতে ভারতের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও কম নয়।
এরপর কনভয় ছুটল প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে তাহেরপুরের দুর্গামন্দিরের দিকে। ১৪৮০ সালে রাজা কংসনারায়ণের প্রতিষ্ঠা করা এই মন্দির থেকেই নাকি ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বজনীন শারদীয়া দুর্গাপুজো শুরু হয়। সেই আমলে সাড়ে ৮ লাখ টাকা খরচ করে মহাধুমধামে পুজো করেছিলেন রাজা। সেই ট্র‌্যাডিশন মেনেই বোধহয় আজও বারোয়ারি পুজোগুলির মধ্যে এমন খরচের প্রতিযোগিতা চলছে। মন্দিরে ঢোকার পথের দু’ধারে সার বেঁধে দাঁড়ানো মহিলারা শঙ্খ আর উলুধ্বনি দিয়ে বরণ করে নিলেন ভারতের বন্ধুদের। ঢাকের বোলের সঙ্গে ঘন ঘন আওয়াজ উঠল— দুর্গা মাঈ কি জয়!‌ যে ব্যাপারটা অভিভূত করল, সেটা হল হিন্দু–‌মুসলিম ভাই ভাই আবহ। যেখানে দেশের বহু বড় বড় মন্দিরে আজও অ–হিন্দুদের ঢোকার অধিকার নেই, সেখানে অখ্যাত এক গ্রামের দুর্গামন্দিরে বছরভর একসঙ্গে মিলেমিশে উৎসবে মাতেন মানুষ।
ফিরে এলাম রাজশাহির পদ্মাপারে। নৌকাভ্রমণের পর টি বাঁধে গানের আসর। এমন অভিনব অনুষ্ঠান কার ভাবনায় এসেছিল জানা হল না। তবে এই প্রথম যে হল, সেটা জানালেন রাজশাহির মেয়র লিটন ভাই। পদ্মার ওপর ঝুলন্ত একফালি ডাঙা বলা যায় এই ইংরেজি টি অক্ষরের মতো জমিকে। নদীর দিকের মুখটিতে বসেছেন যন্ত্রীরা। সামনে মাইক্রোফোন হাতে গাইছেন শিল্পী আর বাকি লম্বা অংশে রীতিমতো চেয়ার–‌টেবিল পেতে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা। চা আর ‘টা’ খেতে খেতে গান শোনা। সঙ্গে উপরি পাওনা নদীর খোলা হাওয়া। অন্ধকার ঘনিয়ে এলে শিল্যুটে ডিঙি নৌকা ভেসে যায়। দাঁড়ের ছপছপ মিশে লোকগানের রস গাঢ় হয়। সেই সঙ্গে গাঢ় হয় দুই প্রতিবেশীর বন্ধুতা। তিনদিনের মিলনমেলার শেষে বাড়ি ফেরার আগে আলিঙ্গন আর প্রতিশ্রুতির পালা—‌ আবার আসিব ফিরে। 

আরও পড়ুন: দুই বছর পর করোনার আতঙ্ক কাটিয়ে জল্পেশ মন্দিরে ভক্তের ঢল, বসেছে মেলাও 

আকর্ষণীয় খবর