Suicide: উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর বিলাসবহুল জীবনই কি কেড়ে নিচ্ছে উঠতি গ্ল্যামারগার্লদের জীবন?

রাজশ্রী রায়:‌ একের পর এক আত্মঘাতী উঠতি মডেল ও নায়িকারা।

গত ১৫ মে নিজের ফ্ল্যাটে আত্মহত্যা করেছিলেন টেলি অভিনেত্রী পল্লবী দে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, যে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তাঁর হাতে কাজ ছিল না। যত সময় গেছে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য। পল্লবীর বান্ধবীরা জানিয়েছেন, যে কাজ নিয়ে তার কোনও অবসাদ ছিল না। তবে তাঁর প্রেমিক সাগ্নিককে নিয়ে তিনি খুবই অবসাদে ভুগতেন।তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হত। পল্লবী প্রেমিক সাগ্নিকের সঙ্গে লিভ ইন করতেন। পুলিশ সাগ্নিককে গ্রেপ্তার করেছে।
এই ঘটনার ঠিক দশ দিনের মাথায় ২৫ মে বিদিশা দে মজুমদার নামে এক মডেল একই পথ অবলম্বন করলেন। তিনি সুইসাইড নোটে লিখেছেন, হাতে কাজ না থাকায় তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিলেন।
 তদন্তে পুলিশের কাছে উঠে আসছে একটাই নাম, অভিনব বেরা। তিনি নাকি ছিলেন বিদিশার প্রেমিক। বিদিশার চার বান্ধবী দাবি করছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য অভিনব দায়ী। অভিনব তাঁকে মানসিক অত্যাচার করত। অভিনব নাকি বিদিশা ছাড়াও আরও অনেকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন। অথচ অভিনব দাবি করছেন, তিনি শুধুই বন্ধু ছিলেন। এর থেকে বেশি কিছু নয়।

BJP-Muslim: সংসদে আর এক জনও মুসলিম মুখ থাকছে না বিজেপির
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মঞ্জুষা নিয়োগী নামে আর এক মডেল গত ২৬ মে রাতে গলায় দড়ি দেন। তিনি নাকি ছিলেন বিদিশার বান্ধবী। বাড়ির লোক জানাচ্ছেন, বান্ধবীর মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে তিনিও একই পথে হাঁটলেন। মঞ্জুষার স্বামী রামনাথ আশিস ব্যানার্জিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এখনও পর্যন্ত আত্মহত্যার আসল রহস্যের জট খোলেনি। 
এই ঘটনার পর দু’‌ দিন কাটতে না কাটতেই আরও একটি ঘটনা। মেক আপ আর্টিস্ট তথা মডেল সরস্বতী দাস ২৯ মে কসবায় নিজের বাড়িতে গলায় দড়ি দেন। মাঝরাতে তার দিদা ঘুম থেকে উঠে দেখেন তিনি ঘরে নেই। তারপর তিনি পাশের ঘরে গিয়ে দেখেন ওড়নার ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছেন সরস্বতী। তাই দেখে তার দিদা নিজেই ছুরি দিয়ে ওই ওড়না কেটে তাঁকে নীচে নামান। তিনিই হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। সম্পর্কের টানাপোড়েন নাকি কাজের অনিশ্চয়তা, কোনটা ছিল তার মৃত্যুর আসল কারণ? এই বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
গত ১৫ দিনের মধ্যে চার চারটি এরকম অস্বাভাবিক মৃত্যু গোটা শহর তোলপাড় করে দিয়েছে।আজ সবার মনে একটাই প্রশ্ন, কেন এই কমবয়সি মেয়েরা আত্মঘাতী হচ্ছে?
 এই ঘটনাগুলো নিয়ে বিভিন্ন মনোবিদ বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের কারও বক্তব্য, দীর্ঘদিন কোভিড পরিস্থিতিতে লকডাউন থাকার দরুন কাজ কমে গেছে। বহু মানুষই আজ কমবেশি অবসাদগ্রস্ত, একাকিত্বে ভুগছে। কারও সঙ্গে কোনও কথা শেয়ার করতে পারছে না। নিজে নিজেই গুমরে মরছে। আর যখন সহ্যশক্তির বাঁধ ভাঙছে, তখনই এই চরম পথ বেছে নিচ্ছে। তারা যখন এরকম কাজ করে তখন একবারও পরিবারের কথা ভাবে না, সেই মুহূর্তে তাদের কাছে শুধু নিজের সমস্যাগুলোই প্রাধান্য পায়।
মনোবিদদের মতে, এই সুইসাইড দু’‌ ধরনের হয়। কেউ কেউ আগে থেকেই এই কাজ করার পরিকল্পনা করেন। আবার কেউ কেউ হঠকারিতার বশে এই পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেন। সেক্ষেত্রে তাঁকে দেখে বুঝতে পারবেন না, যে তিনি আদৌ মানসিক অবসাদে ভুগছেন। হঠাৎই কোনও একটা চাওয়া–পাওয়াতে ঘাটতি ঘটলেই এই পদক্ষেপ নিয়ে ফেলছেন।
তারা এটাও জানাচ্ছেন,এই ধরনের ঘটনা যে কোন ব্যক্তির সঙ্গেই হতে পারে, তবে গ্ল্যামার জগতের লোকেদের ক্ষেত্রে বেশি ঘটে। তার মূল কারণ, কাজের অনিশ্চয়তা , সারাবছরই তাদের হাতে যে একই ভাবে কাজ থাকবে সেটা কিন্তু নয়। তারা এই চরম সত্যিটা কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না ।স্বাভাবিকভাবেই কাজ না পাওয়ার দরুন বিলাসবহুল জীবনযাপনে ছেদ পড়ে। তার ফলে এদের গ্রাস করে অবসাদ। তারা চট করে সাধারণ জীবনযাপনে নেমে আসতে পারে না। তখন নিজেকে শেষ করে দেওয়াই একমাত্র সঠিক পথ বলে মনে হয়।
 মনোবিদ ড: সঞ্চিতা পাকরাশির মতে, গ্ল্যামার জগতের মানুষেরাই যে শুধু আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে তা নয়। মূলত ডিপ্রেসন থেকেই মানুষ সুইসাইড করে। তিনি এও বলেছেন, আজকাল সব কিছু চটজলদি পেয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এত প্রবল, যে না পাওয়াকে কেউ আর মেনে নিতে পারে না। তবে কেউ অবসাদে ভুগছে কিনা, তার কাছের মানুষ একটু সচেতন হলেই সেটা ধরতে পারবেন । একটু নজর দিলে, একটু সময় দিলে, তার কথা মন দিয়ে শুনলে, তার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করলে, ভালভাবে বোঝালে নিশ্চয়ই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব বহুক্ষেত্রে।

আকর্ষণীয় খবর