সাগরিকা দত্তচৌধুরি:‌ পুজোয় প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখা শুরু। উত্তর থেকে দক্ষিণ এই মন্ডপ থেকে ওই মন্ডপ। কোথাও কোনও বিরতি নেই। আট থেকে আশি নেমে পড়েছে কল্লোলিনি তিলোত্তমার আলোর রোশনাই উপভোগ করতে। ষষ্ঠী থেকে নবমীর নিশি রাত পর্যন্ত শুধু ঠাকুর দেখা নয় চলবে জমিয়ে খাওয়া–দাওয়া দেদার আড্ডা। চপ, সিঙারা, রোল, চাউমিন, পুচকা, ঘুঘনি থেকে বিরিয়ানি, চিলি চিকেন, ফ্রায়েড রাইস, পিৎজা, বার্গার, আইসক্রিম, কোল্ডড্রিঙ্কস, মিষ্টি, চা, কফি উদর পূরণে কোনও কিছুই বাদ যাবে না। স্ট্রিট ফুড থেকে নামী রেস্তোরা সব জায়গার খাবারই চেখে দেখতে ভোজনরসিক বাঙালির মন। পুজোর সময় রোজনামচার বাইরে অনেক বেহিসেবি খাবার খাওয়া হয়।  চট করে শরীর খারাপ হয়ে পড়ে অনেকের। গভীর রাতে তেল, ঝাল, মশলাদার, ভাজাভুজি খাওয়ার ফলে হজমের গোলমাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি ফুড পয়জনও হতে পারে। প্যান্ডেলের ভিড়ে একে অপরের থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা প্রবল। শরীরের দিকে একটু লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা। এক জনের হাঁচি, কাশি থেকে অন্যজনের মধ্যে জীবাণু সংক্রমিত হয়। 
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস জানান, ‌পুজোয় বেরিয়ে বেশি হিসেব–নিকেশ করে খাওয়া যায় না ঠিকই তবে রাস্তায় তেল জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভাল। অপরিচ্ছন্ন খোলা খাবার কোনও মতেই খাওয়া উচিত নয়। যদি মনে হয় বাইরে বেরিয়ে অনেকটাই খাবার খেতে হবে, তাহলে খাওয়ার অন্তত ১৫–২০ মিনিট আগে হজম শক্তিতে সাহায্য করবে এরকম কোনও ওষুধ খেয়ে নেওয়া ভাল। এতে কিছুটা সমস্যার সমাধান হবে। পেট পুরো ঠেসে ভর্তি করে না খেয়ে বুঝেশুনে পরিমিত খাবার খেতে হবে। নইলে অস্বস্তি বোধ হবে। এতে পুজোর আনন্দটাই ভেস্তে যাবে। বেশি করে পরিশ্রুত পানীয় জল খেতে হবে।  দিনে অন্তত ৬–৭ ঘণ্টা বিশ্রাম নেওয়া অবশ্যই জরুরি। সকাল–রাত দু’‌বেলা ঠাকুর না যেকোনও একটা সময় বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
পুষ্টিবিদ ইপ্সিতা চক্রবর্তী বলেন,‘‌পুজোর সময় বাঙালির ভরপুর আনন্দের দিন। বাইরের খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা যায় না। তবে যেখান থেকে খাচ্ছি, সেই জায়গাটা ভাল করে দেখে নিতে হবে। অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ঠিক নয়। শরীরে জলের মাত্রা বজায়ে বেশি করে জল খেতে হবে। তবে যেখান সেখান থেকে খোলা বা লেবু জল নয়। বোতলবন্দী মিনারেল ওয়াটার খাওয়া জরুরি। ভোররাত তিনটে চারটের সময় বিরিয়ানি, চিকেন, মাটন না খাওয়াই ভাল। কারণ সেগুলো অনেক আগে রান্না করে রাখা থাকে। এতে পেটের সমস্যার সম্ভাবনা থাকে। টাটকা সঙ্গে সঙ্গে বানিয়ে দিচ্ছে এরকম গরম খাবার খেলে শরীরের খুব একটা ক্ষতি হয় না। কেটে রাখা স্যালাড খাবেন না।’‌    
চিকিৎসকদের মতে, চারদিনের জন্য পুজো হলেও প্রত্যেকদিন ঠিকঠাক বিশ্রামের প্রয়োজন। যেকোনও সময় বৃষ্টি হতে পারে কাজেই ছাতা নিয়ে বেরোনো প্রয়োজন। বৃষ্টির জল মাথায় লেগে সর্দি, কাশি, জ্বর হতে পারে। বাইরে বেরোনোর সময় কিছু জরুরি ওষুধপত্র কাছে রাখা দরকার। পোকামাকড়, মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য ফুল প্যান্ট ও ফুল হাতা জামা পড়া উচিত। কারণ এখন ডেঙ্গির একটা প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। অন্য কোনও ঠান্ডা পানীয় নয়, এতে পিপাসা বাড়বে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রাখা দরকার। পুজোর প্রথম দিন অনন্দ করতে গিয়ে বাকি চারটে দিন যেন মাটি না হয়ে যায়। সকালে খালি পেট না রেখে হালকা প্রাতঃরাশ সেরে বেরোলে ভাল। এক বেলা বাইরে খেলে আর এক বেলা বাড়ির রান্না খেয়ে একটা ব্যালান্স ডায়েট মেনে চললে ভাল হয়। তবে হ্যাঁ খুব বেশি অসুবিধে হলে স্থানীয় চিকিৎসক বা হাসপাতালে দেখানোর নিদান দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top