আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌বাঙালির শেষপাতে মিষ্টি ছাড়া খাওয়া সম্পূর্ণ হয় না। বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে মিষ্টি। শুভকাজ হোক বা যে কোনও অনুষ্ঠান মিষ্টি থাকা বাধ্যতামূলক। আর বাংলার মিষ্টি মানেই যার স্বাদের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। মিষ্টিপ্রিয় বাঙালির কথা মাথায় রেখেই নিউটাউনের ইকোপার্কে হিডকো উদ্যোগ নিয়ে তৈরি করেছে ‘‌মিষ্টি হাব’‌। একই ছাদের তলায় কলকাতার প্রসিদ্ধ কিছু মিষ্টির দোকান তাদের সম্ভার নিয়ে হাজির হয়েছে। রসগোল্লা, সন্দেশ, লেডিকিনি, চমচমের মত ঐতিহ্যশালী মিষ্টির পাশাপাশি রয়েছে কিছু নতুন ধরনের ফিউশন মিষ্টিও। তবে এই ‘‌মিষ্টি হাব’ তৈরির উদ্যোগ রাজ্য সরকার নিলেও, একজনের কথা না বললে অসম্পূর্ণ রয়ে যায় গোটা বিষয়টি। তিনি হলেন নবকৃষ্ণ গুঁই মিষ্টির দোকানের কর্ণধার সুপ্রভাত দে। 
বউবাজারের ২০০ বছরের পুরনো এই মিষ্টির দোকান নবকৃষ্ণ গুঁইয়ের শহরবাসীর কাছে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে এই দোকানের জনপ্রিয় মিষ্টি ছানার মুড়কি, রামবোঁদে, ছানার গজা, ভিক্টোরিয়া সন্দেশ, শকুন্তলা সন্দেশ, দিলখুশের চাহিদা রয়েছে খাদ্য রসিকদের কাছে। সুপ্রভাত দে জানান, হিডকোর পক্ষ থেকে যখন তাঁর এবং আরও অন্য মিষ্টি ব্যবসায়ীদের কাছে এই প্রস্তাব আসে, তখন অনেকেই বিষয়টি খুব ভাল চোখে দেখেননি। এক ছাদের তলায় সবাই মিষ্টির পসার নিয়ে বসলে সকলের ব্যবসাই যে সমানভাবে চলবে, সেটা নিয়েই সকলের চিন্তা ছিল। তিনি জানান, যে ২০–২৫ জন মিষ্টি দোকানের মালিক হিডকোর বৈঠকে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে মাত্র ১১ জন সরকারের প্রস্তাবে রাজি হয়ে এই ‘‌মিষ্টি হাবে’‌ আসেন।

৫ জুলাই উদ্বোধনের পর থেকে এমন একটা দিনও নেই যেদিন ভাল বিক্রি হয়নি। সুপ্রভাত দে বলেন, ‘‌ছয় প্রজন্ম ধরে মিষ্টির ব্যবসা চালাচ্ছি। কোথায় কীভাবে লাভ হবে তা আমি ভালই জানি। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এক জায়গাতেই মানুষ রকমারি মিষ্টি পেয়ে যাচ্ছেন। এই মিষ্টি হাবের ডিজাইন এমনভাবেই করা, যে প্রতিটা কোণ থেকেই সব মিষ্টির দোকানকেই দেখা যাবে।’‌ এবারে নবকৃষ্ণ গুইনের নতুন সৃষ্টি মধুমালাই এবং আলফানসো। যা না খেলে সত্যিই আফসোস করতে হবে। 
কে সি দাস, বাঞ্ছারাম, মিঠাই, গুপ্তা ব্রার্দাস, বলরাম মল্লিক এবং রাধারমণ মল্লিক, নলিন চন্দ্র দাস, মিষ্টি বাংলা, মিষ্টি কথা, হিন্দুস্তান সুইটস, নবকৃষ্ণ গুঁই, গাঙ্গুরাম কলকাতার এই ১১টি মিষ্টির দোকান রয়েছে এখানে। মিষ্টির পাশাপাশি এখানে পেয়ে যাবেন ইটালিয়ান সিঙ্গারা, যা তৈরি আলু ছাড়া, কচুরি–আলুরদম, খাস্তা কচুরি সহ আরও অনেক কিছু। মিষ্টি খাওয়ার পাশাপাশি, বাংলার কিছু ঐতিহ্যশালী মিষ্টির রেসিপিও জেনে নিতে পারেন আপনি। রয়েছে বাংলার মিষ্টির ইতিহাসও বর্ণনা করা। সবকিছু মিলিয়ে নিউটাউনের ‘‌মিষ্টি হাবে’‌ একবার এসে মিষ্টিমুখ করে যান।  

 

 

 

 

নবকৃষ্ণ গুঁইয়ের কর্ণধার সুপ্রভাত দে।  ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top