‌পবিত্র ত্রিবেদী: সামনে সেলফি স্ট্যান্ড, রংচঙে টি–শার্ট পরে একটু হেলে দঁাড়িয়ে নির্দিষ্ট কোণে মুখ ঘুরিয়ে সেলফি। কারও সেলফি বহুতলের ছাদে, কারও ব্যাকগ্রাউন্ডে খোলা মাঠ। নাহ্‌, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ছড়িয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য টিনএজারদের এই সেলফি নয়। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির জন্য জয়েন্ট এন্ট্রান্সের প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে চেয়ে তারা আবেদন করেছে ওই সেলফিতে।‌ বিজ্ঞান শাখায় উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো গুরুতর পরীক্ষায় বসতে চেয়ে পড়ুয়াদের সেলফি তুলে আবেদন করার প্রবণতা দেখে হতবাক রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। ২২ এপ্রিল রাজ্য জয়েন্টের প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১৯ ডিসেম্বর। তাতে প্রায় ৫৬ হাজার আবেদন এখনও পর্যন্ত জমা পড়েছে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। তার মধ্যে এরকম বেশ কতকগুলি ছবি ধরা পড়েছে। ওই আবেদন গ্রহণ করছে না বোর্ড। ‌এবার উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় বোর্ডের বিশেষ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় অনলাইনেই পড়ুয়াদের এসএমএস চলে যাচ্ছে, ছবি বোর্ডের নিয়ম মেনে তোলা হয়নি। তাই আবেদনপত্র বাতিল করা হচ্ছে। নিয়ম মেনে ছবি দিয়ে ফের আবেদন করতে বলা হয়েছে। এক বোর্ড কর্তার কথায়, শুধু তা–ই নয়, পরীক্ষার্থীরা বাবা–মায়ের নাম ভুল লিখেছে, এরকম তো আছেই, এমনকী নিজের নামের বানানও ভুল লিখেছে আবেদনে। পরে বোর্ডের কাছে আবেদন করেছে, ‘‌নাম, জন্মতারিখ ভুল লিখে ফেলেছি। সংশোধনের সুযোগ দিন।’‌ এ বিষয়ে রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের চেয়ারম্যান মলয়েন্দু সাহাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের বলছি, এত ‌ক্যাজুয়াল হলে হবে না। সিরিয়াসলি প্রস্তুতি নাও।’‌ মলয়েন্দুবাবুর বক্তব্য, এবার ‘‌ফ্রিকোয়েন্টলি আস্কড কোয়েশ্চেন’‌ নামে একটি বিভাগ করা হয়েছে ওয়েবসাইটে। যেখানে পরীক্ষা–পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সবরকম সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর থাকছে। এ ছাড়া দুটি হেল্পলাইন এবং ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাতেও বুলেটিন রয়েছে। যেখানে পড়ুয়ারা সব তথ্য জানতে পারছে। ফলে এবার এখনও পর্যন্ত পড়ুয়াদের কাছ থেকে পরীক্ষা নিয়ে সমস্যার অভিযোগ আসছে না। গতবার ৩০০ পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল, এবার ৪০০ হতে পারে। সবটা নির্ভর করছে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর। এবার পরীক্ষাকেন্দ্র আরও কাছাকাছি হবে। 
 

জনপ্রিয়

Back To Top