রাজীব ঘোষ:

ম্যাগমা হাউস। পার্ক স্ট্রিটের পেট কেটে ঢুকে পড়লেই সেই বাড়ি। ঝলমলে এলিভেটর, নৈঃশব্দের সেই চৌখুপিতে চড়ে বারোতলায়। পায়ে পায়ে ‘‌পা পা য়া’‌। কলকাতা এখানে আকাশলীনা। ঝুলবারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালে হাত বাড়িয়ে অহঙ্কারী ‘‌ফর্টি টু’‌–কে ছুঁতে ইচ্ছে করবে। কাচের ওপারে কলকাতার অভিজ্ঞান, আলোময় রবীন্দ্র আর বিদ্যাসাগর সেতু। যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে আয়, আয়, আয়!‌ খাইয়ে বলে কলকাতার সুনাম তো বটেই, সমঝদার বলেও বইকি। নইলে কৃতবিদ্য জোরাওয়ার কালরা ‘‌হাই এনার্জি প্যান এশিয়ান ডাইনিং’‌ রেস্তোরাঁ মুম্বইয়ের পরই কলকাতার এনে হাজির করবেন কেন?‌ খুবই কষ্ট করে ক’‌টা দিন কলকাতায় থাকতে হবে, এমন ভাবখানা করে কিছু অনাবাসী জিজ্ঞেস করেন, ‘‌ভাল রেস্তোরাঁ কিছু হল?‌’‌ ওরকম প্রশ্ন কেউ করলে সটান এখানে পাঠিয়ে দিন। ‘‌পা পা য়া’‌ স্বাদের সপ্তম স্বর্গ, অনুভবের ‘‌নবম মেঘ’‌ তো বটেই। শক–হুন–পাঠান–মোগল এক দেহে লীন হওয়ার মতোই এখানে হাজির থাইল্যান্ড, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া আর সিঙ্গাপুরের স্বাদ। ওঁদের বয়ানে খাবারে ‘‌মলিকিউলার গ্যাস্ট্রোনমি’‌ আর ‘‌মিক্সোলজি’‌–র আশ্চর্য পানীয়। জাপানি শব্দ ‘‌ওমাকাসে’‌— মানে ‘‌আমার খাবারের ভার আপনিই নিন’‌। বেশ তো। শেফ সাহিল সিংয়ের হাতেই ছাড়লাম। নিজে ক্যারদানি মারতে গেলে বেপথু হয়ে যেতাম নির্ঘাত। পেনাং স্টাইল গ্রিলড স্ন্যাপার আর শিনজিয়াং ল্যাম্ব— তাক লাগিয়ে দেবে। নানা রকমের সুশি এল, মন মাতানো। সিঙ্গাপুরের স্যুপ ‘‌লাসকা’‌, বর্মী–খাওস্যুয়ের মতোই চমৎকার। ‘‌ক্রিসপি লোটাস স্টেম’‌— মিঠে আর মুচমুচে। মিঠে জলের চিংড়ি— স্বাদেই চিনবেন। ওয়াসাবি সস মহার্ঘ, ইদানীং টুথপেস্টের মতো টিউবে বেরিয়েছে, ঝাঁঝ–গন্ধ কিস্যু থাকে না। কালরা ওই ফাঁকিবাজিতে বিশ্বাসী নন, খাঁটি ওয়াসাবি টাকনা দিলেই টের পাবেন। সুশির মাছ মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে হয়, তারপর রাঁধার হ্যাপা কিছু কম নয়। শেষ পাতে অকৃত্রিম জাপানি ইয়াকি উডন নুডলস আর কিঞ্চিৎ চিকেন— স্বাদের প্রতিটি মলিকিউলে বিস্ফোরণ। দুর্দান্ত

জনপ্রিয়

Back To Top