বসন্ত এসে গেছে, সাউথ সিটি খুলে গেছে— উচ্ছ্বসিত আলো ওদের চোখে–‌মুখে। টানা এক বছরের বিরহ চাট্টিখানি কথা নয়। ময়দানবীয় ব্যস্ততা চলছে এখনও, ইতি–‌উতি নতুনের হাতছানি। নতুন সাজে ফিরেছে ‘‌ফ্লেম অ্যান্ড গ্রিল’‌— স্বাদেও নতুন বইকি। জামশেদপুরের সন্দীপ পান্ডে, এখন খাঁটি কলকাত্তাইয়া, তাঁর হাতের রান্নার খ্যাতি ছড়িয়েছে বিদেশেও। ফ্লেম অ্যান্ড গ্রিল, সিগরি কিংবা মাচান— কলকাতায় এলে সন্দীপের হাতযশেই ওইসব রেস্তোরাঁয় ছোটেন অনাবাসীরা। ‘‌সিগরি’‌ যেদিন শুরু হল, সেদিন চমক ছিল গুজরানওয়ালা শিক কাবাবের। এবার ‘‌ফ্লেম অ্যান্ড গ্রিল’‌–‌এ যেতেই হবে চিকেন চাপ খেতে। চাপ, অনেকেই বলবেন ‘‌খুব চাপের’‌— কারণ ওই অতিরিক্ত তেল–‌ঝাল–‌মশলা। হলফ করে বলছি, সন্দীপের এই চাপ আর লখনউয়ি পরোটা খেতে শুরু করে থামতে পারবেন না। আমিও থামতে পারছিলাম না, দেখে সন্দীপের মুখে তৃপ্তির হাসি। মোদ্দা যা বুঝলাম, এখানেও অওধি আর কলকাত্তাইয়া ক্যুজিনের অন্তর্বিরোধ। সহজ করে বুঝতে হলে, পহলে দর্শনধারী। কলকাতা স্টাইলের চাপ হালকা বাদামি, লখনউয়ের অতীব গাঢ়। সন্দীপের চাপ–‌নির্মিতি অবশ্য খুব সহজ নয়। বেসন দিয়ে হালকা করে ভেজে নেওয়া চিকেন। গ্রেভি হবে পোস্ত, কাজু, বাদাম, চার মগজে। আর খাঁটি ঘি। সবশেষে গোলাপ পাপড়ি, চন্দন, কেওড়ার সুবাস। ঝাড়া আড়াই ঘণ্টার কেরামতি, ক্ল্যাসিকাল খেয়ালের মতোই। রং তার বাসন্তী। ‘‌ফ্লেম অ্যান্ড গ্রিল’‌ মানেই অনন্তকাবাব— মাটনশিক, আজওয়ানি চিংড়ি, চিকেন মুর্গ টিক্কা, ভাট্টি কাবাব, লেবু–‌ধনেপাতায় মাছ। যেদিন যেমন। গিলাফি গোস্ত, শিককাবাব চমৎকার। গিলাফ মানে পর্দা। এখানে পর্দা পেঁয়াজ আর ক্যাপসিকামের। আর চিকেন কুড়চন র‌্যাপ। কুড়চনে পড়ে কারিপাতা, কালোজিরে। মশলার সুবাস। তফাত এই যে, সাধারণ পরোটার রোল নয়, র‌্যাপ তৈরি হয়েছে তরতিয়া ব্রেড দিয়ে। কর্নমিল থাকায় উজ্জ্বল রং। কলকাতা বিরিয়ানি আর চাপ থাকবে প্রতিদিন, লাঞ্চে–‌ডিনারে। ওই বিরিয়ানি আর চাপ খেলে টের পাবেন, সত্যিই বসন্ত এসে গেছে। ‌‌‌■

জনপ্রিয়

Back To Top