আজকাল ওয়েবডেস্ক: পিরিয়ড সমস্যা নয়। কিন্তু একটা স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়ায় যে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়, সেটা বেশ যন্ত্রণাদায়ক বলেই স্বীকার করেন মেয়েরা। অধিকাংশই পিরিয়ড চলাকালীন পেটের যন্ত্রণায় ভোগেন। এমনকি শুরুর দু তিন দিন আগে থাকতেই শুরু হয় যন্ত্রণা। কিন্তু এটাই যদি মাত্রাতিরিক্ত হয়, সেক্ষেত্রে এন্ডোমেট্রিওসিস রোগের লক্ষণ হতে পারে, জানেন কি! বিষয়টি বুঝিয়ে দিলেন ডা.‌ অরুণা তাঁতিয়া।

এন্ডোমেট্রিওসিস কী! 

ঋতুমতী হওয়ার পর শরীরে নানা হরমোনের গঠনগত পরিবর্তনের ফলে ইউটেরাসেও পরিবর্তন হয়। ইউটেরাসের মধ্যে এন্ডোমেট্রিয়াম নামক একটি টিস্যু থাকে। প্রেগনেন্ট না হলে, প্রতি ২৮ থেকে ৩০ দিন পর সেটা খসে পড়াতেই পিরিয়ড শুরু হয়। এটা সবারই জানার কথা। কিন্তু কখনও কখনও এই টিস্যু ইউটেরাসের বাইরে, ওভারিতে, ফ্যালোপিয়ান টিউবেও ছড়াতে শুরু করে। ফলে পিরিয়ডের আগে সেখান থেকেও এই টিস্যু খসে পড়ে। সেই কারণেই পিরিয়ডের আগে এবং চলাকালীন অত্যধিক পেটের যন্ত্রণায় ভোগেন মেয়েরা। এটিই এন্ডোমেট্রিওসিস রোগ। এর ফলে সন্তান ধারণের সমস্যা পর্যন্ত হতে পারে। 

এন্ডোমেট্রিওসিসের ফলে অবসাদগ্রস্ত হতে পারেন! 

ডা.‌ তথাগত চ্যাটার্জির মতে, এন্ডোমেট্রিওসিসের ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে। এক্ষেত্রে প্রিয়জনদেরই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। ঠিক ডায়েট মেন্টেন করে একটু এক্সারসাইজও করতে পারেন। তাছাড়া নিয়মিত মেডিটেশনের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পরেও মানসিক স্থিতি না এলে, কাউন্সেলিং করানোটা প্রয়োজনীয় বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। 

চিকিৎসা! 

রোগ নির্ণয় করা গেলেও এর সঠিক চিকিৎসার পন্থা এখনও সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারছেন না ডাক্তাররা। যন্ত্রণা মারাত্মক হলে, ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। সার্জারির পরামর্শও দেন কখনও কখনও। তাছাড়াও ল্যাপারোস্কপির কথাও উল্লেখ করছেন তাঁরা। 

জনপ্রিয়

Back To Top