‌প্রীতিময় রায়বর্মন- অনেকেই মজা করে বলছেন, বছরে এখন নাকি দুটো মরশুম—‌ গ্রীষ্মকাল আর নিম্নচাপ‍‌!‌ আবহাওয়া এখন চরম খামখেয়ালি। বড়দিন চলে গেলেও জাঁকিয়ে শীতের দেখা নেই। কখনও পারদ ২৮ ডিগ্রি আবার কখনও ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস!‌ আর এতেই দেখা দিচ্ছে নানা শারীরিক সমস্যা। মেডিসিন অতি–‌বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুকুমার মুখার্জি বললেন, ‘‌বয়স্কদের সাবধান থাকতে হবে। বুকে সংক্রমণ বাড়ছে এ সময়। ঠান্ডার চেয়েও বেশি সমস্যা হচ্ছে ধোঁয়াশা বা স্মগে। আবহাওয়ার মেজাজ বদল, হঠাৎ ঠান্ডা হঠাৎ গরমে ভাইরাসরাও তুমুল সক্রিয় হচ্ছে’‌। বিশিষ্ট ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান ডাঃ রামাদিত্য রায়ের কথায়, ‘‌শীত যে পড়েছে সেটাই তো বোঝা যাচ্ছে না!‌ ঠান্ডার চেয়ে এখন কুয়াশার দাপট বেশি। দূষণ এতটাই বেড়েছে যে সাদা কুয়াশা রং পরিবর্তন করে কালো হয়েছে। আর দূষণের এই বাড়বাড়ন্তের জন্য সুস্থ মানুষও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। এখন যেটুকু ঠান্ডা পড়েছে সেটা কেমন যেন একটা বর্ষার মতো স্যাঁতসেঁতে। ফলে বাড়ছে সাইনাসের সমস্যা।’‌ সকালের দিকে যাঁরা কাজে যান তাঁরা সাধারণত গরম পোশাক পরেই বেরোন। ফলে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারদ চড়তে শুরু করলে ঘাম হয়। ডাঃ রায় জানালেন, ‘এই ঘাম বুকে বসে সংক্রমণ পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।’ আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে বয়স্ক আর শিশুদের। যেমনটা জানালেন পিয়ারলেস হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ চন্দ্রমৌলি মুখার্জি। তাঁর কথায়, ‘‌শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে রেসপিরেটরি ডিসঅর্ডার এবং বুকে সংক্রমণ মারাত্মকভাবে বাড়ছে। দেখা দিচ্ছে চিকেন পক্সও। আর অ্যাজমা এবং সিওপিডি রোগীদের সমস্যা বাড়ছে।’‌‌ শীতে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকায় ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে ময়েশ্চারাইজার মাখতে হয়। কিন্তু কখনও ঠান্ডা কখনও গরমের জন্য এই ক্রিম থেকেও ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডাঃ রায়ের কথায়, ‘এই খেয়ালি আবহাওয়ায় ময়েশ্চারাইজার ত্বকে ঠিকমতো শোষিত না হওয়ায়, ত্বকে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।’‌ ডাঃ রায়ের আরও ব্যাখ্যা, ‘তাপমাত্রায় এই বাড়া-‌কমার ফারাকটা এতটাই যে ‌আমাদের শরীর সেটাকে ঠিকমতো মানিয়ে নিয়ে পারছে না। একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শরীরের যে সময়টা দরকার শরীর তা পাচ্ছে না। তার আগেই আবার তাপমাত্রা বাড়ছে বা কমছে। ফলে ভাইরাল সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে।’‌ শীতে ঠান্ডা হাওয়া যেহেতু একটু ভারী, ভোরবেলায় তা নিচের দিকে নেমে আসে। ফলে বাতাসে সাসপেন্ডেড পার্টিকুলেট ম্যাটার বা এসপিএম কণা নিচে নেমে আসে এবং সেগুলো বাতাসে মিশে শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে খুব সহজেই শরীরে প্রবেশ করে। এসপিএম কণা শরীরে প্রবেশের কারণেই শীতে ফুসফুসের অসুখের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। এই সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য বিশেষজ্ঞদেরর পরামর্শ— বাইরে বেরোনোর সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। এর পাশাপাশি প্রতিরোধের উপায় প্রসঙ্গে ডাঃ রায় জানালেন, ‘ঠান্ডায় বেরোলে মাথায় টুপি রাখুন। গলায় মাফলার রাখতে সমস্যা হলে, হালকা সুতির স্কার্ফ ব্যবহার করুন। যাতে ঘাম না হয়। আর পোশাক নির্বাচন করুন তাপমাত্রা বুঝে। অযথা একগাদা গরম জামাকাপড় না পরে থাকাই ভাল। প্রচণ্ড ঠান্ডায় অবশ্যই গরম জামাকাপড় পরুন।’‌ এ সময় অনেকেরই স্নান না করার একটা প্রবণতা থাকে। ডাঃ রায়ের কথায়, ‘‌নিজেকে সুস্থ রাখতে সবার আগে দরকার নিজেকে পরিষ্কার-‌পরিচ্ছন্ন রাখা। হালকা গরম জলে রোজ স্নান করুন। হাত, পা, মুখ ভাল করে ধোন। নাক দিয়ে হালকা গরম জল টানুন। ‌এতেই অনেকটা সুস্থ থাকবেন। পাশাপাশি সামান্য গা, হাত, পা ম্যাজম্যাজ করলে বা নাক দিয়ে একটু জল পড়লেই প্যারাসিট্যামল বা কোনও অ্যালার্জির ওষুধ খেয়ে নিলেন— এটা একেবারেই নয়। যতটা সম্ভব ওষুধ এড়িয়ে নিজেকে সুস্থ রাখা যায় সেটার দিকে নজর দিন। আর খুব দরকার পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খান।’‌ সিওপিডি এবং অ্যাজমা রোগীদের ডাঃ চন্দ্রমৌলি মুখার্জির পরামর্শ— ‘‌চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিয়মিত খান এবং ইনহেলার নিন।’‌‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top