Omicron: ততটা মারাত্মক নয়, কিন্তু ওমিক্রনে দৈনিক মৃত্যু এত বেশি কেন?‌ সত্যিই কি বেশি!‌

নিলোভনা চক্রবর্তী:‌ ততটা মারাত্মক নয় ওমিক্রন প্রজাতি।

এতদিনে গবেষণায় সেকথা সাব্যস্ত। তবে অবশ্যই খুব ছোঁয়াচে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সে কারণে দৈনিক সংক্রমণ অত্যধিক বেশি। তবে ততটা মারাত্মক না হলেও দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কিন্তু অনেকটাই বেশি।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোভিডে মারা গিয়েছেন ৬২৭ জন। এ রাজ্যে গতকাল নতুন করে আক্রান্ত হয়েছিলেন মাত্র ৩ হাজার ৬০৮ জন। অথচ মারা গিয়েছেন কোভিডে ৩৬ জন। মৃত্যুর হার ১.‌০৩ শতাংশ। আক্রান্তের সংখ্যা যেখানে এতটা কম, সেখানে রোজ এত জন মারা যাচ্ছেন, এই পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক তো বটেই। 
এই নিয়ে চিকিৎসকরা কী বলছেন?‌ আইডি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.‌ যোগীরাজ রায়ের মতে, মৃত্যু হার বেশি, কারণ পরীক্ষা কম হচ্ছে। এখন উপসর্গ এতটাই কম, যে অনেকেই কোভিড পরীক্ষা করাচ্ছেন না। ফলে বাস্তবে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। তাই এখন যা প্রকাশিত হচ্ছে, তা সঠিক মৃত্যুর হার নয়। 
তার পরেই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, এত জন মারা যাচ্ছেন, তার কারণ কী শুধুই ওমিক্রন?‌ ডা.‌ যোগীরাজ রায় জানালেন, যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, সকলেরই কোমর্বিডি রয়েছে। সেই কোমর্বিডি হয়তো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সে কারণের তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। ওমিক্রনের জন্য হয়তো নয়। তবে চিকিৎসক মনে করছেন, দেখতে হবে, ওমিক্রন কি ওই কোমর্বিডি বাড়াচ্ছে?‌ সেই নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা হয়নি এখনও।
এসএসকেএম–এর চিকিৎসক ডা.‌ দীপ্তেন্দ্র সরকার বুঝিয়ে দিলেন, তিনটি কারণ, যে জন্য মূলত মৃত্যুর সংখ্যা এত বেশি। এক, প্রবীণ রোগীর স্ট্রোক বা মাথায় ক্লট হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তির পর দেখা যাচ্ছে কোভিড পজিটিভ। তার পর হয়তো তিনি মারা যাচ্ছেন। কিন্তু যেহেতু রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে, তাই লেখা হচ্ছে কোভিডেই মৃত্যু। দুই, সব কোভিড আক্রান্তই যে ওমিক্রন প্রজাতির কারণে, তা বলা যাবে না। তাই ওমিক্রন সংক্রমণে মৃত্যু হচ্ছে বলা যাবে না। যাঁরা মারা যাছেন, তাঁদের অনেকে ডেল্টাতেও আক্রান্ত হতে পারেন। আমরা জানি না। তিন, ডা.‌ সরকারের মনে করছেন অনেক সময়ই দোষের ভাগী হচ্ছে ওমিক্রন।
পথ দুর্ঘটনায় আহত কেউ। ভেন্টিলেশনে পাঠানো হল। দেখা গেল তিনি ওমিক্রন দ্বারা আগে থেকেই আক্রান্ত ছিলেন। পরে তাঁর মৃত্যু হলে দোষী হচ্ছে ওমিক্রন।  

আকর্ষণীয় খবর