আজকালের প্রতিবেদন: ভাল করে ঘুমোন। ঘুমই আপনার শরীরের প্রকৃত বন্ধু। আজ বিশ্ব ঘুম দিবস। কলকাতার বহু শিশু ও কিশোরের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। এর ফলে তাদের মনে ও শরীরে নানা ধরনের প্রভাব দেখা দেয়। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৭৪ শতাংশ শিশু রাত ১০টার মধ্যে ঘুমোতে যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, রাত ১০টাই হল ঘুমোতে যাওয়ার আদর্শ সময়। অথচ সেক্ষেত্রে সমীক্ষা বলছে, ১০ শতাংশ শিশু রাত ১০টায় ঘুমোয়। ৪৬ শতাংশ শিশু, কিশোর টেলিভিশন এবং মোবাইল ফোন ঘাঁটে। এবং ৬২ শতাংশ শিশু মধ্যরাতের পর ঘুমোয়।
বিশ্ব নিদ্রা দিবস সামনে রেখে গোদরেজ ইন্টেরিও একটি সচেতনতামূলক সমীক্ষা করেছে। যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, ৬৭ শতাংশ শিশু, কিশোর ঘুম থেকে উঠেও ঝিমোয় এবং ক্লান্ত বোধ করে। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ স্লিপ সায়েন্সেসের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ অভিজিৎ দেশপাণ্ডে বলেন, ছেলেমেয়েদের ঘুমের বিষয়টি নিয়ে বাবা–‌মায়েরা চিন্তিত থাকেন কেন না, তাদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি জড়িত। ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা কমপক্ষে ঘুমের প্রয়োজন। ওই সময়টুকু না ঘুমোলে শরীরে রোগ প্রতিরোধের জন্য তৈরি হওয়া সাইটোকিন প্রোটিনের ভাগ কমে যায়। অন্যদিকে, গোদরেজ ইন্টেরিওর সিওও অনিল মাথুর বলেন, ভাল ঘুম হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে যায়। এ দিকটিতে নজর রাখা উচিত। অন্যদিকে ‘‌ডকসঅ্যাপ’‌ নামে একটি চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার অ্যাপ সমীক্ষায় জানিয়েছে, ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী ভারতীয় পুরুষরা ঠিকভাবে ঘুমোন না। চিকিৎসকরা বলছেন, গত বছর প্রায় ৪৫ শতাংশ ঘটনা পাওয়া গেছে, যেখানে দেখা গেছে, ওই বয়ঃসীমার মধ্যে পুরুষরা এবং ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী মহিলাদের ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ ঠিকভাবে ঘুমোন না। কারণ হিসেবে বলছেন, জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে নানা ধরনের চাপ ছাড়াও অনেকেই মোবাইল, টিভিতে আসক্ত। এর ফলে ইনসমনিয়া, স্লিপ অ্যাপনিয়া, নার্কোলেপ্সি, রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম (‌পায়ে হঠাৎ হঠাৎ খিঁচুনি)‌ ছাড়াও অন্যান্য সমস্যাও দেখা দেয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, ঘুম ভাল হলে মন, স্বাস্থ্য সবই ভাল থাকে। পরিশ্রমের জন্য রসদ সংগ্রহ করে নেয় শরীর। অতএব আজ বিশ্ব ঘুম দিবসে সুন্দর ঘুমের জন্য ঘুম অভ্যাস গড়ে তুলুন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top