আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌সুন্দর স্তনের অধিকারী হতে চান সব নারীই। তাই অস্বাভাবিকভাবে স্তনের আকার বৃদ্ধি পেলে তা সার্জারির মাধ্যমে সঠিক আকৃতিতে নিয়ে আসার জন্য বহু নারীই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তবে সম্প্রতি পুরুষদের মধ্যেও ‘‌ব্রেস্ট সার্জারি’‌র প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। 
৩০ বছরের সমীরণ গুপ্তা (‌নাম পরিবর্তন)‌ আইটি ফার্মের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। কিন্তু তাঁর স্তনের আকার স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হওয়ায় তিনি মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকেন। বন্ধু–বান্ধবদের সঙ্গে বাইরে যাওয়াও বন্ধ করে দেন তিনি। সমীরণের বান্ধবী তাঁকে জোর করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়।

চিকিৎসক ‘‌ব্রেস্ট সার্জারি’‌র মাধ্যমে সমীরণকে তাঁর স্বাভাবিক জীবনে আবার ফিরিয়ে দেন। অ্যাপ্যোলো হাসপাতালের অভিজ্ঞ কসমেটিক প্লাস্টিক এবং অ্যানড্রোলজিস্ট সার্জেন ডাঃ অনুপ ধির জানান, শহুরে জীবনযাত্রায় এখন পুরুষদের মধ্যেও স্তনের আকার কমানোর প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। তাঁরা সিনেমার নায়কদের মতন শরীর করতে গিয়ে স্তনের আকার কমানোর জন্য চিকিৎসকের কাছে আসছেন। অনুপ ধির বলেন, ‘‌স্তনের আকার বৃদ্ধি পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ইস্যু। যা কোনওভাবেই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

মাসে প্রায় ১০ জন করে পুরুষ আসেন এই ব্রেস্ট সার্জারি করতে। গাইনেকোমেসিয়া সার্জারিতে খরচ প্রায় ৭৫ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লক্ষ পর্যন্ত।’‌ 
গঙ্গা রাম হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান মহেশ মঙ্গল জানান, বেশ কিছু বছর আগে পর্যন্ত এক বছরে হয়ত ৫ জন পুরুষই এ ধরনের সার্জারি করাতে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে এই চিত্রটা বদলেছে। এখন তো মাসে পাঁচটা কেসই হয় ব্রেস্ট সার্জারির। সম্প্রতি গঙ্গা রাম হাসপাতালে এক ১৩ বছরের কিশোরের ব্রেস্ট সার্জারি করা হয়, যার হরমোনের জন্য স্তনের আকার বেড়ে গিয়েছিল। গাইনেকোমেসিয়া সার্জারি এক–দু’‌ঘণ্টার মধ্যেই হয়ে যায়। আর এই সার্জারিতে ভয়ের কোনও কারণও থাকে না। 

‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top