আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ প্রথমত পেটরোগা, এবং দ্বিতীয়ত ভোজনরসিক। বাঙালির নামের পাশে একসঙ্গে দুটো বিপরীত বিশেষণ জোড়া আছে। এরকম জাত বোধহয় ভারতে দুটি মিলবে না। তা সে যাই হোক, আমরা বাঙালিরা দুটো বিশেষণই অত্যন্ত উপভোগ করি। আর ভোজনরসিক বলে বাঙালির অন্যতম প্রিয় ঋতুই হল শীতকাল। কারণটা আর কিছুই নয়, শীতে বাজারে পাওয়া যায় বিভিন্ন রকমের শাকসব্‌জি। প্রচুর গুরুপাক খেলেও পেটের রোগের সমস্যা নেই। আর বাঙালির অন্যতম প্রিয় নলেন গুড়ও যে পাওয়া যায় শীতেই। তাই তো শীতেই পিকনিক হোক বা ছোট্ট একদিনের ঘোরাঘুরি, বাঙালি এক পায়ে খাড়া।

তাহলে চলুন একবার ঝট করে চোখ বুলিয়ে নিই, বাইরের তাপমাত্রা নামলে কীভাবে রান্নাঘরে উষ্ণতা বাড়াবেন।
শীতের প্রাতঃরাশে সকালে যদি প্লেটে আসে গরম গরম পালং পরোটা তাহলে নিশ্চয়ই একসঙ্গে তিন–চারটে খেয়ে নিতে পারবেন আপনি। তাহলে ময়দা মাখার সময়ই টাটকা পালং শাক কুচি করে মিশিয়ে নিয়ে বানিয়ে ফেলুন সবুজ পরোটা।
পরোটা তো হল, এবার আসুন আনুসাঙ্গিক পদে। নতুন ছোট আলু, শীতের কড়াইশুঁটি আর টাটকা ধনেপাতা দিয়ে বানিয়ে ফেলুন ঝালঝাল কষা আলুর দম। রোজকার প্রাতঃরাশে আলাদা স্বাদ আসতে বাধ্য।


কড়াইশুঁটি বলতেই মনে পড়ল শীতের আরেকটা প্রিয় খাদ্য কড়াইশুঁটির কচুরি। কড়াইশুঁটি সিদ্ধ করে তা চটকে নুন–চিনি দিয়ে অল্প তেলে কষিয়ে নিয়ে তৈরি করে ফেলুন পুর। তারপর লেচি কেটে তাতে পুর ভরে তৈরি করুন গরম গরম কড়াইশুঁটির কচুরি।
ফুলকপির রোস্ট না হলে শীতের নিরামিশ মধ্যাহ্ন ভোজ যেন অপূর্ণ থেকে যায়। ধবধবে সাদা ফুলকপি ডুমো করে কেটে হাল্কা ভাপিয়ে নিয়ে তাতে, নুন, চিনি, কাঁচা লঙ্কা আর পোস্ত–বাদামবাটা এবং অল্প দুধ দিয়ে বানিয়ে ফেলুন ফুলকপির রোস্ট। রোজকার ফুলকপির তরকারির রূপই বদলে যেতে বাধ্য।


এখন বছরভর বাজারে গাজর পাওয়া গেলেও শীতকালে যে লাল টকটকে গাজর ওঠে বাজারে, সেটাই গাজরের হালুয়ার জন্য সেরা। গাজর কুচিয়ে তাতে খোয়া ক্ষীর, দুধ, চিনি মিশিয়ে বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু গাজরের হালুয়া। আর উপরে গার্নিশিং করুন কাজু, কিশমিশ, পেস্তা দিয়ে।
সব শেষে নতুন গুড়ের পদ না হলে তো শীতের ভোজ সম্পূর্ণরূপেই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কারণ শীত নিয়ে আসে নবান্নের বার্তা। নতুন চাল, গুড় আর তিল দিয়ে রকমারি পিঠে আর পায়েস তৈরি হয় আপামর বাঙালির ঘরে ঘরে। তবে শুধু বাঙালিই নয়, শীতে নতুন গুড় দিয়ে মিষ্টি পদ তৈরির রীতি রয়েছে সারা ভারতেই।

জনপ্রিয়

Back To Top