সাগরিকা দত্তচৌধুরি: অনিন্দিতা কুণ্ডু পেশায় আইনজীবী হলেও নৃত্যে পারদর্শী। ভবানীপুরের কল্যাণী মিত্র একজন নাট্যব্যক্তিত্ব, পাশাপাশি কত্থকে পটু। কল্যাণীর বাসিন্দা গৃহবধূ তপতী সাহা, সল্টলেকের মহুয়া বসু, সীমারেখা রায়চৌধুরি, উত্তরপাড়ার ৭০ বছরের ঝর্না ভট্টাচার্য— এঁদের মতো আরও অনেকেই আছেন যঁারা শিক্ষিত, কাজে দক্ষ, কোনও–‌না–‌কোনও বিষয়ে পারদর্শী। কিন্তু এঁরা কেউই জানেন না সুন্দর পৃথিবীটা আর কত দিন উপভোগ করতে পারবেন। কারণ এঁরা প্রত্যেকেই মারণ রোগ ক্যান্সারে আক্রান্ত। কেউ স্তন ক্যান্সারে। আবার কেউ ডিম্বাশয় বা জরায়ুমুখ অথবা মুখগহ্বরের  ক্যান্সারে ভুগছেন। তা সত্ত্বেও এঁরা বেঁচে থাকার রসদ খুঁজে পেয়েছেন। কারও মনে বিন্দুমাত্র হতাশা নেই। কারণ এঁরা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়ে ওঁরা আজ খুশি। ক্যান্সারকে হারিয়ে তাঁরা রবিবার পাঁচলায় একটি রিসর্টে অংশ নিলেন ক্রীড়া, সাঁতার প্রতিযোগিতায়। খেললেন ক্রিকেট। দৌড়, থ্রো–বল, হিট দ্য টার্গেট, মিউজিক্যাল চেয়ারে অংশ নেন তাঁরা। আজ ওঁরা নিজেদের বেঁচে থাকার লড়াই নিয়ে অন্যদের মধ্যে সচেতনতার প্রচার চালাচ্ছেন ‘‌দিশা’‌র হাত ধরে। নৃত্য, সঙ্গীতের পাশাপাশি নাটকের মাধ্যমে তাঁরা অন্য সুস্থদের বোঝাচ্ছেন কীভাবে সচেতন হতে হবে। কীভাবে এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। শরীরে কোথায় কী সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা না করে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞকে দেখাতে হবে। ক্যান্সার ধরা পড়লে দিশাহীন ভাবে হতাশায় না ভুগে, মনের জোরের সঙ্গে হাসিখুশি হয়ে বাঁচার পথ দেখাচ্ছেন ‘‌দিশা’র সদস্যরা। কল্যাণী মিত্র বলেন, ‘‌২০১৫ সালে যখন নিজের এই রোগটি সম্পর্কে প্রথম শুনেছিলাম, সত্যিই ভেঙে পড়েছিলাম। ভেবেছিলাম, সব শেষ। কিন্তু ধীরে ধীরে আমি মনের জোর বাড়াতে থাকি। সহানুভূতি চাওয়া নয়, এর বিরুদ্ধে লড়াই করে অন্যদের সচেতন করার কাজ শুরু করি। যেটা আমার এখন ভালবাসার জায়গা।’ দিশার প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ অগ্নিমিতা গিরি সরকার বললেন, ‘‌চিকিৎসার থেকেও এখন প্রিভেন্টিভ অঙ্কোলজি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমার এখানে ২০ বছরের কম ও ৮০ বছরের বেশি বয়সি মিলিয়ে ৪০ জন মহিলা সদস্য রয়েছেন। তঁাদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিনিয়ত কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে সচেতনতার প্রয়াস চালাচ্ছি। নাটক মঞ্চস্থ করে বোঝাচ্ছি, কীভাবে দ্রুত ক্যান্সার নির্ণয় হলে সেরে ওঠা অনেকটাই সম্ভব। এর পর আমরা বিভিন্ন জেলায় যাব। হতাশ না হয়ে নিজেকে নাচগান, অঙ্কন, কবিতাপাঠের মতো অন্যান্য বিষয়ে ব্যস্ত রাখলে বেঁচে থাকার দিনগুলি বাড়তে থাকে।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top