আজকালের প্রতিবেদন:‌ কলকাতা পুস্তকমেলার (২০১৯) মিডিয়া সেন্টারে আজ বিকালে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানে প্রথম বাংলা ওয়েবজিন ‘পরবাস’-এর  সম্পাদক বর্ষীয়ান শ্রী সমীর ভট্টাচার্যকে ‘উত্তরাধিকার ওয়েবসাহিত্যসম্মান ২০১৯’ এ’ ভূষিত করা হয়। প্রচারবিমুখ ও নিভৃতচারী সমীরবাবু ১৯৯৭ থেকে একাদিক্রমে এই পত্রিকার সম্পাদনা করে আসছেন, সম্প্রতি যার তিয়াত্তরতম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। প্রাক্তন সকল সংখ্যাসহ এই ‘পরবাস’-পত্রিকা এক-ক্লিকে www.parabaas.com  এ’ গিয়ে পড়ে/শুনে নেওয়া যায় এক্ষুনি, যেখানে নামী-অনামী বহু লেখকের গল্প-কবিতা-অলংকরণ-রবীন্দ্রগান প্রকাশিত হয়েছে, হয়ে রয়েছে। আর এখানেই এক ওয়েবম্যাগাজিনের জোর, যা অতি সহজে বাঙলাসাহিত্যকে  কাগজ ও ভূগোলের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজনীন করে তোলে।

 

 

এই উপলক্ষ্যে এক চমৎকার আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে সমীরবাবুর সঙ্গে শিশুপত্রিকা ‘জয়ঢাক’ ওয়েবজিনের সম্পাদক ঔপন্যাসিক দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য ও ‘কল্পবিশ্ব’ ওয়েবজিনের সম্পাদক দীপ ঘোষ অংশ নিয়েছিলেন।
প্রায় এক ঘন্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানে সমীর-দেবজ্যোতি-দীপ যা যা বললেন, তার সংক্ষেপ এইভাবে করা যায়ঃ

ওয়েবম্যাগাজিন কোনো মহাশূন্য থেকে নেমে আসা অলীক বস্তু নহে।

চিরাচরিত কাগজ-কালির পত্রিকা মতোই এতে সম্পাদকীয় যাবতীয় কাজকর্ম রয়েছে, শুধুমাত্র এর ডেলিভারিটি ওয়েবে, মানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে, যা এই মাধ্যমের খরচটিকে অনেক কমিয়ে পাঠকের কাছে পৌঁছে যায় বিনামূল্যে। না, ওয়েবসাহিত্য কোনো ‘হাং-জেন’ আন্দোলন শুরু করেনি,না করতে চেয়েছে কখনো। বাইশ বছর আগে ‘পরবাস’ বাংলা-ফন্ট সমস্যা, গ্রহণযোগ্যতা প্রভৃতি যে যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল সে সবগুলোই আজ দূরীভূত হয়েছে। ওয়েবসাহিত্য আজ সাবালক! এই তিনটি ছাড়াও ‘অবসর’, ‘ম্যাজিক ল্যাম্প’, ‘একপর্ণিকা’ প্রভৃতি ওয়েবম্যাগ আজ রমরম করে চলছে ও সৎ সাহিত্যের বাহক হয়ে উঠছে।

আজ নেট ঘাঁটলেই যেখানে নানা পর্নোগ্রাফিক সাইট এসে পড়ে সেখানে কচিকাঁচাদের সে-সব থেকে দূরে রাখবার চ্যালেঞ্জ নিয়ে শিশুপত্রিকা ‘জয়ঢাক’ শুরু করেছিলেন দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য ২০০৭এ’, যার কন্টেন্টের আকর্ষণে আজ শিশুরা জয়ঢাকের নতুন সংখ্যা বেরোনোর তর সইতে পারে না।...

আলোচনাটি ঘন্টাভর দীর্ঘ হয়েছিল। সঙ্গের ভিডিওতে এর কিছু ঝলক দেখা যাবে।

অনুষ্ঠানটির পরিচালনা করেন ওয়েবসাহিত্যিক ও গ্রন্থ-সমালোচক ভবভূতি ভট্টাচার্য।

জনপ্রিয়

Back To Top