India-West Indies: ইডেনে বিরাট-ঋষভ শোয়ে সিরিজ ভারতের, বিফলে পাওয়েলদের লড়াই

সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। টানটান উত্তেজনা। শেষ বলে সিরিজের ফয়সালা। শুক্রবার ইডেনে ৮ রানে জিতে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতল টিম ইন্ডিয়া। কাজে এল না পুরান-পাওয়েলের দুরন্ত লড়াই। একটা সময় মনে হয়েছিল রবিবার ভরা ইডেনেই সিরিজের মীমাংসা হবে। ম্যাচের অন্তিম ওভারের তৃতীয় এবং চতুর্থ বলে হর্ষল প্যাটেলকে ব্যাক টু ব্যাক ছয় মেরে ভারতীয় শিবিরে কম্পন ধরিয়ে দিয়েছিলেন পাওয়েল। শেষ দুই বলে প্রয়োজন ছিল ১১ রান। হঠাৎই বাউন্ডারি লাইন থেকে ছুটে গিয়ে হর্ষলের কানে মন্ত্র দিলেন বিরাট। তাতেই বাজিমাত। শেষ দুটো বলে মাত্র ২ রান। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে টানা আট জয়। ১০০তম টি-২০ ম্যাচ জিতল টিম ইন্ডিয়া। 

শুক্রবারের ইডেন দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম পর্ব বিরাটের, দ্বিতীয় ঋষভের। প্রাক্তন এবং ভবিষ্যতের মিশেলে উদ্ভাসিত ক্রিকেটের নন্দনকানন।

সিরিজ জয়ের পাশাপাশি কোহলির রানে ফেরার অপেক্ষায় ছিল ইডেন। আবার সেই পুরোনো বিরাটকে দেখার স্বপ্ন স্বার্থক হল হাজার দুয়েক দর্শকের। কথায় বলে, মর্নিং শোজ দ্য ডে। ক্রিজে এসেই প্রাক্তন অধিনায়ক বুঝিয়ে দিলেন, দিনটি তাঁর। শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে। দুটো চার দিয়ে শুরু করেন। তাতেই আত্মবিশ্বাস একলাফে অনেকটাই বেড়ে যায়। শুরুতেই ফোর্থ গিয়ার। পুরনো বিরাটের একটা ঝলক পাওয়া গেল। 

এদিন টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান কায়রন পোলার্ড। শুরুতে উইকেটও আসে। ১.৫ ওভারে আউট হন ঈশান কিষান (২)। ১০ রানে প্রথম উইকেট হারায় ভারত। সেখান থেকে জুটি বাঁধেন রোহিত-বিরাট। দ্বিতীয় উইকেটে ৪৯ রান যোগ করে এই জুটি। যদিও পার্টনারশিপের সিংহভাগ রান কোহলির। এদিন পয়া মাঠে শুরুটা ভাল করেও বড় রান পাননি রোহিত। ১৯ রানে ফিরে যান। সুবিধা করতে পারেননি সূর্যকুমারও (৮)। ১০ ওভারের শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ভারতের রান ছিল ৭৬।

দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন প্রাক্তন নেতা। ছক্কা হাকিয়ে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন বিরাট। বড় ইনিংসের আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু ৪১ বল খেলে ৫২ রানে চেজের বলে বোল্ড হন। সেট হওয়ার পরও এভাবে আউট মেনে নিতে পারেননি। তাই গ্যালারি থেকে বিরাট ধ্বনি ভেসে আসা সত্ত্বেও মাথা নীচু করেই ড্রেসিংরুমে যান কোহলি। স্কোরবোর্ডে তখন দলের রান ১০৬। শেষ ৬ ওভার পন্থ শো। বিরাটের মঞ্চে নায়ক ঋষভ। ক্যারিবিয়ান বোলারদের গুঁড়িয়ে দিলেন।

পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে একের পর এক চার। ৭টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে মাত্র ২৭ বলে অর্ধশতরানে পৌঁছে যান। প্রথম টি-২০ তে রান পাননি। সেটা সুদে আসরে পুশিয়ে দিলেন পন্থ। ২৮ বল খেলে ৫২ রানে অরাজিত থাকেন। উল্টো দিকে তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। মাত্র ১৮ বলে ৩৩ রান করে আউট হন। প্রথম দুটো টি-২০ তে সুযোগ কাজে লাগান নাইট সদস্য।

নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রান তোলে ভারত। ৩ উইকেট নেন রোস্টন চেজ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৪ রানে প্রথম উইকেট পড়ে। ৯ রানে আউট হন কাইল মেয়ার্স। নিজের বলেই ক্যাচ নেন চাহাল। বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি ব্র্যান্ডন কিং (২২)। বাকি দায়িত্ব নিয়ে নেন নিকোলাস পুরান এবং রোভমান পাওয়েল। 

ভারতীয় বোলারদের নাস্তানাবুদ করে দেয় এই জুটি। ২১ রানে পুরানের ক্যাচ ড্রপ হয়েছিল, পাওয়েলকে ৩৮ রানে ফেলেছিলেন ভুবনেশ্বর। তার খেসারত দিতে হল। ভারতীয় বোলারদের জঘন্য বোলিংয়ের জন্য শিশির ফ্যাক্টরও হতে পারে। তৃতীয় উইকেটে ৬০ বলে ১০০ রান যোগ করে পুরান-পাওয়েল জুটি। অবশেষে ৬২ রানে পুরানকে ফিরিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করেন ভুবি। অনবদ্য ক্যাচ নেয় রবি বিষ্ণোই। এই ওভারটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। শেষ ওভারে ২৫ রান প্রয়োজন ছিল। তৃতীয় এবং চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ইডেনের দর্শকদের টেনশন বাড়িয়ে দিয়েছিলেন পাওয়েল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ৬৮ রানে অপাজিত থাকেন পাওয়েল। রবিবার শুধুই নিয়মরক্ষার ম্যাচ।

আকর্ষণীয় খবর