সাগরিকা দত্তচৌধুরি- কখনও ভ্যাপসা গরম, কখনও ঝোড়ো হাওয়া, সঙ্গে বৃষ্টি। এই আবহাওয়া জ্বর, সর্দিকাশি, গলাব্যথা স্বাভাবিক। কিন্তু জ্বর হলেও অনেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের জানাতে চাইছেন না। তাই দুশ্চিন্তায় স্বাস্থ্যকর্মীরা। এক স্বাস্থ্যকর্তার মতে, বহু মানুষ ভয়ে জ্বরের কথা বলতে চাইছেন না। এভাবে চেপে গেলে মুশকিল। অত্যধিক গরমেও শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। কাজেই বাড়তি সাবধান থাকা জরুরি।  
সম্প্রতি উত্তর কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চালানো এক স্বাস্থ্যকর্তা, কমিউনিটি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন,‘‌অনেকেই ভাবছেন জ্বর, সর্দিকাশির কথা বললেই পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে, কোয়ারেন্টিনে রাখবে, হাসপাতালে ভর্তি করবে। জ্বর হলে স্বাস্থ্যকর্মীদের বলা উচিত। হোম আইসোলেশনেই রাখা হবে। পরে বাড়াবাড়ি হলে জীবন সংশয় হতে পারে। এটা বোঝালেও অনেকে বুঝতে চাইছেন না। এতে ডেটা রাখতে সমস্যা হবে। ঠিক তথ্য দিলে ভাইরাস নির্মূল করতেও সুবিধা হবে।’
আর এক স্বাস্থ্যকর্তা বলেন,‘‌ ঠান্ডা–‌গরমে সাধারণ সর্দিকাশি হতেই পারে। কনটেনমেন্ট জোন নয়, এমন জায়গার লোক জানাচ্ছেন, সর্দিকাশি হয়েছে। অথচ কনটেনমেন্ট জোনে অনেকেই বলছেন সর্দিকাশি নেই। কোনও এলাকায় কারও জ্বর, কাশি নেই— ব্যাপারটাই সন্দেহের। তার থেকেও বড় চিন্তার অনেক সময়ই করোনা উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না। কেউ আক্রান্ত হলে নিজের অজান্তেই গোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণ ছড়াবেন।’‌‌
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস জানিয়েছেন,‘জ্বর হলেই করোনা নয়। আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় একটু সাবধান থাকা জরুরি। এই সময়ে ফ্লু হয়। সাধারণ ভাইরাস ও করোনার উপসর্গ প্রায় এক, তাই মানুষ ও চিকিৎসক উভয়কেই সচেতন হতে হবে। ‌চড়া রোদে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে খনিজ পদার্থ বেরিয়ে পেশিতে টান ধরে খিঁচুনি বা অতিরিক্ত ঘাম, বমিভাব, অস্বস্তি, মাথাঘোরা, ক্লান্তি ইত্যাদি হতে পারে। তাই শরীরে জলের পরিমাণ বজায় রাখা জরুরি।’‌  

জনপ্রিয়

Back To Top