‌আজকালের প্রতিবেদন: ‌উপাচার্যরা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন ভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজ্য সরকারের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বা কোনও চাপের মুখে দাঁড়িয়ে তাঁরা কাজ করেন না। উপাচার্যদের কাজে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে সরকার হস্তক্ষেপ করে না। মঙ্গলবার উপাচার্য পরিষদ গঠন নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা বলেন পরিষদের সম্পাদক এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুবীরেশ ভট্টাচার্য। 
১২ জানুয়ারি গঠিত হয়েছে এই পরিষদ। যার সভাপতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। সহ–‌সভাপতি রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরি ও নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভশঙ্কর সরকার। যুগ্ম সম্পাদক সিধো–কানহু–বিরসার উপাচার্য দীপক কর। কোষাধ্যক্ষ ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরাধা মুখার্জি। ৮ জনের কার্যনির্বাহী সমিতিতে রয়েছেন কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দেবকুমার মুখার্জি, রায়গঞ্জের অনিল ভুঁইমালি প্রমুখ। 
উপাচার্যদের স্বাধীনতা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, ‘‌উপাচার্যদের ওপর কোনও চাপ সৃষ্টি করা হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট, ইসি রয়েছে। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমরা কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের বৈঠকে গিয়ে বসে পড়ি না। এখনকার রাজ্যপাল যেটা করছেন। বুঝতে হবে কোন্‌টা আলঙ্কারিক পদ আর কোন্‌টা আসল। বিশ্ববিদ্যালয় কোনও সমস্যায় পড়লে সাহায্য করা হয়। নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনও পদক্ষেপ করলে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।’‌ 
এদিন সাংবাদিক বৈঠকের পরই ধর্মতলায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অবস্থানস্থলে যান সুবীরেশবাবু, দীপকবাবু ও দেবকুমারবাবু। সে–‌সময় সেখানে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। বেশ কয়েকজন অধ্যক্ষও ছিলেন। অবস্থান–‌মঞ্চে যাওয়া নিয়ে দেবকুমারবাবু বলেন, ‘‌এনআরসি ও ক্যা–র বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদকে সমর্থন এবং সংহতি জানাতেই গিয়েছিলাম।’‌ যা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌প্রতিবাদের অধিকার সবার আছে। ওঁরা ছাত্রছাত্রীদের সমর্থনে এসেছিলেন। মঞ্চে নয়, আমার পাশে বসেছিলেন। উপাচার্যরা কি আমার পাশে বসতে পারেন না?‌ আমার পাশে কি গুন্ডারা বসে থাকবে?‌’‌
উপাচার্যদের বিরুদ্ধে রাজ্যপাল–আচার্য জগদীপ ধনকড় নানা অভিযোগ তুলছেন। যা নিয়ে সুবীরেশবাবু বলেন, ‘‌রাজ্যপালের বক্তব্য নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। রাজ্য সরকারের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নয়, আমরা বিধি অনুযায়ী কাজ করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে এবং দৈনন্দিন কাজে সরকার হস্তক্ষেপ করে না। উপাচার্যরা স্বাধীন ভাবে, সম্মানের সঙ্গেই কাজ করেন। ইউজিসি–‌র কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কার্যত এখন আর কোনও অনুদানই পায় না। কিন্তু রাজ্য সরকারের আর্থিক সাহায্যের কারণে কোনও সমস্যা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত সরকার নয়, সেনেট, সিন্ডিকেট, কোর্ট, কাউন্সিল নেয়।’‌ 
পরিষদ গঠন নিয়ে সুবীরেশবাবু বলেন, ‘‌বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিটি জেলাতেই এখন বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে সম্বনয় গড়ে কাজ করা এবং উপাচার্যদের মধ্যে যোগাযোগ দৃঢ় করাই লক্ষ্য।’‌ পরিষদের প্রথম সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানান সুবীরেশবাবু। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top