আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পড়ুয়াদের প্রায় চারদিনের অনশনের পর শেষপর্যন্ত তাঁদের দাবি মেনে নিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ একসপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা অচলাবস্থা কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক হওয়ার পথে যাদবপুরের পঠন–পাঠন। এর মধ্যে পড়ুয়াদের দাবি মেনে আরও একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবার থেকে যাদবপুরে প্রবেশিকা পরীক্ষার দায়িত্বে আর কোনও বহিরাগত সংস্থা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরাই পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন। প্রবেশিকা পরীক্ষায় আর আউটসোর্সিং হবে না। বুধবার অ্যাডমিশন কমিটির বৈঠকের পর এমনটাই জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। এরপরই ঘোষণা করা হয় পরীক্ষার দিনক্ষণ।আগামী ২১ জুলাই হবে ইংরেজির প্রবেশিকা পরীক্ষা। ২৩ জুলাই হবে বাংলার প্রবেশিকা পরীক্ষা। ২৪ জুলাই হবে দর্শন-রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরীক্ষা। আর ২৫ তারিখ হবে তুলনামূলক সাহিত্য এবং ইতিহাসের প্রবেশিকা পরীক্ষা। এরপর ৩ আগস্ট বের হবে মেধা তালিকা। ভর্তি প্রক্রিয়া হবে ৮,৯ এবং ১০ আগস্ট। এর আগে অ্যাডভোকেট জেনারেলের পরামর্শমতো, ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই ৬টি বিভাগের শিক্ষকদের যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়। বহিরাগত শিক্ষকদের যুক্ত করার কথা বলা হয়। যার বিরোধিতায় ওই বিভাগগুলির শিক্ষকেরা পরীক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ইসি–তে বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়। এরপর বুধবার অ্যাডমিশন কমিটির বৈঠকে পরীক্ষা ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের যুক্ত করার ব্যাপারেই শিলমোহর পড়ে। প্রসঙ্গত, কলা বিভাগের ৬টি শাখার ভর্তি প্রক্রিয়া ঘিরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা, ইংরেজি, দর্শন, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে এ বছর প্রবেশিকার মাধ্যমে পড়ুয়া ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যে প্রবেশিকা বাতিল করে এই শাখাগুলিতে নম্বরের ভিত্তিতে পড়ুয়া ভর্তির সিদ্ধান্ত হয়। যার বিরোধিতায় ছাত্ররা শুরু করেন অনির্দিষ্টকালের অনশন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জুটা–ও এর বিরোধিতা করে। এই ছয় বিভাগের শিক্ষকেরাও এই নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তির প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। সমাধানসূত্র খুঁজতে রাজ্যপাল তথা আচার্যের দ্বারস্থ হন উপাচার্য। সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা কাটাতে উপাচার্যকে আইন অনুযায়ী তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নিতে পরামর্শ দেন আচার্য–রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী মঙ্গলবার ফের ইসি–র বৈঠক ডাকা হয়। আর তাতেই মেলে সমাধানসূত্র।‌

জনপ্রিয়

Back To Top