আজকালের প্রতিবেদন

রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের পর এবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (‌‌ইউজিসি)‌‌ দু–একদিনের মধ্যেই চিঠি পাঠাচ্ছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। যাতে বলা হচ্ছে আগের নির্দেশিকা মেনে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। এই অবস্থায় নতুন করে অন্য কিছু অর্থাৎ পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। 
শুক্রবার ইউজিসির নতুন নির্দেশিকা নিয়ে বৈঠকে বসে উপাচার্য পরিষদ। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়, যা পরিস্থিতি তাতে পরীক্ষা নেওয়া কোনওমতেই সম্ভব নয়। ইউজিসির ২৯ এপ্রিল পাঠানো গাইড লাইন মেনে রাজ্য যে অ্যাডভাইসরি পাঠিয়েছে তা মেনেই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত সেমেস্টার ও বর্ষের পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন হোক। এ নিয়ে পরিষদের সম্পাদক এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুবীরেশ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌চিঠিতে নির্দেশিকা প্রত্যাহার নয়, স্পষ্ট করে এটা বলা হচ্ছে, আগের নির্দেশিকা অনুযায়ী মূল্যায়ন পদ্ধতি ঠিক হয়েছে। সেই কাজ প্রায় শেষ। ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। আর পিছিয়ে আসা সম্ভব নয়। সেপ্টেম্বরেও যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা কোনও নিশ্চয়তা নেই। বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে পড়ুয়াদের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে তাদের ভবিষ্যত ক্ষতিগ্রস্থ হবে।’‌ এদিকে পরীক্ষা গ্রহণ বাধ্যতামূলক বলে যে নির্দেশিকা জারি করেছে ইউজিসি তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে উচ্চশিক্ষায় দেশের বৃহত্তম শিক্ষক সংগঠন এআইফুকটো। পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (‌‌ওয়েবকুটা)‌‌ পক্ষ থেকেও  বিরোধিতা করা হয়েছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক কেশব ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌যেভাবে সারা দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসির এই নির্দেশ অত্যন্ত হঠকারী এবং দুর্ভাগ্যজনক। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই চূড়ান্ত সেমেস্টারের মূল্যায়ন হচ্ছ অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন বা আগের সেমেস্টারে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে। আমাদের দেশেও এভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে ফল প্রকাশ করা উচিত।’‌ সারা বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বা আবুটার সাধারণ সম্পাদক গৌতম মাইতি বলেন, ‘‌ইউজিসি একদিকে বলছে করোনার জন্য শিক্ষাবর্ষ পিছোবে আবার অন্যদিকে বলছে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নিতে!‌ এই তুঘলকি নির্দেশ বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।’‌‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top