আজকালের প্রতিবেদন- টালিগঞ্জ থানায় ঢুকে হামলা চালানোর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কয়েকজন জড়িতকে খোঁজা হচ্ছে। শোকজ করা হয়েছে থানার ওসি–কে। পুলিশের দোষ থাকলে তাও খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি বলেছেন, ‘‌থানার ভেতরে পুলিশকে কেউ অপমান করে থাকলে, যেই করুক না কেন, কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। ভোট আর প্রশাসন এক নয়। প্রশাসনের লোক যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তার বিরুদ্ধে যেমন তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেরকমই প্রশাসনের সঙ্গে অন্যায় করলে, নিজের হাতে আইন তুলে নিলে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরকম ঘটতে থাকলে একদিন কেউই প্রশাসনকে মানবে না। প্রশাসন ঠিক রাখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি চেষ্টা করেন। মুখ্যমন্ত্রী সবসময় মানুষকে বলেন, প্রশাসন তোমার বন্ধু, পুলিশ তোমার বন্ধু। কোনও একজন পুলিশকর্মী খারাপ ব্যবহার করলে, সমস্ত পুলিশ সমাজকে খারাপ ভাবার কোনও কারণ নেই। থানায় ঢুকে যা করা হয়েছে তা একেবারেই অভিপ্রেত নয়।’‌ এই একই বিষয়ে মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, ‘‌আইন আইনের পথে চলবে। পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন ছিল, আছে, থাকবে। আইন কোনও মানুষের ঊর্ধ্বে যায় না। এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। গুজরাটে তো রক্ষককে হত্যা করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন। কোথায় তখন তো কিছু মনে পড়েনি?‌ একটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন বলেন, কাশ্মীরের মেয়েদের টেনে নিয়ে আসব, তখন নারী–লাঞ্ছনার কথা মনে আসে না তো?‌ আজও গণপ্রহারে মানুষ খুন চলছে। সেখানে আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠাক। এখানকার পুলিশ যথেষ্ট সমর্থ এ সমস্ত ঘটনা সামলাতে।’
টালিগঞ্জ থানার ঘটনায় মঙ্গলবারই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছোটকা দলুই ওরফে ভাই এবং দীপক অধিকারী ওরফে লালা ওরফে তুলাইকে। বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পুতুল নস্কর ও প্রতিমা দাস নামে দুই মহিলাকে। পুলিশ জানিয়েছে, পুতুল নস্করের দলবলই সেদিন গোলমাল করেছে, পুলিশকে মারধর করেছে। তার ভাইপোকেও খুঁজছে পুলিশ। আরও ৪–‌৫ জনের বেশি গ্রেপ্তার হবে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ৩৫৩ ধারায় মামলা শুরু হয়েছে। আজ, বুধবার ধৃতদের বিরুদ্ধে ৩৩২ ধারা যুক্ত করার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন জানাবে পুলিশ। পুতুল নস্করের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ ছিল টালিগঞ্জ থানায় বলে জানা গেছে। সিসি টিভি ফুটেজ দেখে সেদিন রাতে যারা গোলমাল পাকিয়েছিল, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশকে মারধরের ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তারা স্থানীয় এলাকারই বাসিন্দা।
রবিবার রাতে মেনকা সিনেমা হলের সামনে দীপঙ্কর সিনহা, বাপী চক্রবর্তী ও রণজয় হালদার নামে ৩ যুবক দাঁড়িয়ে মদ্যপান করছিল বলে অভিযোগ। ৩ জনকেই টালিগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর ওই ৩ জনের পাড়ার 
লোকেরা থানা ঘেরাও করে, ইটপাটকেল ছোঁড়া হয়। পুতুল সে–সময় ঘটনাস্থলে ছিল। তার ভাইপো আকাশও ছিল। ইতিমধ্যেই থানা আক্রমণের ঘটনা নিয়ে উপনগরপাল (‌দক্ষিণ)‌ মিরাজ খালিদের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন নগরপাল অনুজ শর্মা। সেদিন রাতে দু’‌‌দফায় থানায় এসে 
গোলমাল পাকায় ধৃত ৪ জন ও তাদের পরিচিত আরও কয়েকজন। পুলিশকর্মীদের থানা থেকে টেনে এনে মারধর করা হয়। গোলমাল সামাল দেওয়ার পর ধৃতদের পুলিশ ছেড়ে দেয়। অভিযোগ ওঠে, রণজয় নামে যুবককে পুলিশ পিটিয়েছে। এই নিয়ে অভিযোগ জমা হয়। অন্যদিকে, পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা শুরু করেছে। যে এলাকার লোকেরা ওই গোলমালে ছিল, তাদের চিহ্নিত করার জন্য কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখার অফিসারেরা ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু করেছেন।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top