আজকালের প্রতিবেদন: ‘‌দুর্যোগকে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। দু’‌দিন পরেই আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে যাবে।’‌ বুধবার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে গিয়ে উদ্বোধনের পাশাপাশি এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি দুর্যোগ উপেক্ষা করেই এদিন বিকেল থেকে শুরু করেন উদ্বোধন। বিভিন্ন মণ্ডপে উপচে পড়ে ভিড়। এত মানুষ দেখে মমতা অবাক হয়ে যান। তিনি সকলকে অভিনন্দন জানান। একডালিয়া এভারগ্রিন ক্লাবে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিমা দেখে মুগ্ধ মমতা। প্রশংসা করেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জির। মমতা বলেন, ‘‌ছোটবেলা থেকেই সুব্রতদার নেতৃত্বে রাজনীতি শুরু করেছি। তিনি ছিলেন আমাদের নেতা। এখনও তিনি আমার নেতা। খুব মন দিয়ে পুজো করেন তিনি। পুজোর কটা দিন মণ্ডপেই থাকেন। সময় দেন। আমার খুব ভাল লাগে। মাঝে–‌মধ্যেই তিনি আবদার করেন, আমাকে তাঁর আবদার রাখতে হয়।’‌ সেলিমপুর পল্লী, বাবুবাগান, মুদিয়ালি, সমাজসেবী, ত্রিধারা, শিবমন্দির, হিন্দুস্থান ক্লাব, বালিগঞ্জ কালচারাল, ভবানীপুর ৭৫ পল্লী, মুক্তদলের প্রতিমার উদ্বোধন করেন মমতা। শিল্পীদের ভাবনা ও পরিকল্পনা দেখে তাঁদের ধন্যবাদ জানান, কাজের তারিফ করেন। কোথাও বলেন, ‘‌পুজোর সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নামেন। একে–‌অপরকে সহযোগিতা করেন। দর্শনার্থীরা আসেন শিল্পীদের সৃষ্টি দেখতে।’‌ একডালিয়ার মঞ্চ থেকেই তিনি এন্টালির উদয়ন সঙ্ঘের পুজোর উদ্বোধন করে দেন। এখানে ছিলেন সুদীপ ব্যানার্জি। মমতা বলেন, ‘‌যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও সব জায়গায় আমি যেতে পারি না।’‌ একডালিয়ার মঞ্চ থেকে পাশাপাশি ফাল্গুনী সঙ্ঘ ও সিংহী পার্ক পুজোর উদ্বোধন করে দেন তিনি। বিভিন্ন মণ্ডপে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‌উৎসব সকলের। বাংলার এই উৎসবে সব ধর্মের মানুষ সামিল হন।’‌ পুজোমণ্ডপ থেকেই মমতা শান্তির বার্তা দেন। শিবমন্দিরের মহিলারা মমতাকে স্বাগত জানানোয় খুবই খুশি হন তিনি। চারিদিক থেকে শঙ্খ বেজে ওঠে। এখানকার থিম ‘‌মাটির টানে’‌, মমতা শিল্পীর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘‌নিজের জায়গা ছেড়ে অনেকেই চলে যান। ফিরে আসেন না আর। ফিরেও তাকান না। বাংলা একতার ভূমি।’‌ মমতা এখানে বলেন, ‘‌বিদেশে যাঁরা পড়াশোনা করতে গেছেন, তাঁরা পড়াশোনা শেষ করে বাংলায় ফিরে আসুন।’ সমাজসেবী মণ্ডপে মমতার সঙ্গে ছিলেন বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। ত্রিধারা মণ্ডপে ছিলেন মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার। এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হৈমন্তী শুক্লা ও রশিদ খান সঙ্গীত পরিবেশন করেন। হিন্দুস্থান ক্লাবে মমতাকে মণ্ডপে নিয়ে যান মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মালা রায়। ছিলেন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কয়েকটি মণ্ডপে গিয়ে মমতা বলেন, ‘‌এই পুজোর সময় কত লোকের সঙ্গে দেখা হয়। খুব ভাল লাগে। পুজোমণ্ডপ যেন পাড়া হয়ে যায়।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top