দীপঙ্কর নন্দী: দশ দিনের মাথায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অবস্থান উঠে গেল। সোমবার থেকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে এনআরসি ও ক্যা–‌র বিরুদ্ধে ধর্না দেবে তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস। রবিবার শেষ দিন ছাত্রদের অবস্থানে ভিড় ছিল। এসেছিলেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মেয়র ফিরহাদ হাকিম, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, নির্বেদ রায় প্রমুখ। কিছুক্ষণ মঞ্চে বসে ফিরহাদ ছাত্র–ছাত্রীদের বক্তব্য শুনেছেন। প্রশংসা করেছেন। এর পর তিনি এসে বসেন দর্শক আসনে। ছৌনৃত্য ও পথনাটিকা দেখেন। গত দশ দিনে এই অবস্থান মঞ্চে এসেছিলেন দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবস্থান মঞ্চের সামনে ভিড় বাড়তে থাকে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে কলেজের ছাত্র–ছাত্রীরা ভিড় করতে থাকে। কালো কাপড়ে এনআরসি ও ক্যা বিরোধী স্লোগান লেখা হয়। 
যারাই এদিন বক্তৃতা দিয়েছে তাদের বক্তব্য ছিল, বাংলায় এনআরসি ও ক্যা করতে দেব না। আমাদের নেত্রী এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। আন্দোলন এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এনআরসি ও ক্যা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূলের আন্দোলন চলবে। ছাত্র পরিষদ মমতার পাশে থাকবে। এদিনও কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য গৌতম পাল দর্শক আসনে উপস্থিত ছিলেন। ছৌনৃত্যের সময় উপচে পড়েছিল ভিড়। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য বলেন, ৩১ জানুয়ারি থেকে ছাত্র পরিষদের কর্মীরা এখানেই ফের অবস্থানে বসবে। রবিবার বিভিন্ন কলেজ থেকে যারা এসেছিল তারা নিয়ে এসেছিল ব্যানার, পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড। লিখে আনা হয়েছিল নো এনআরসি ও নো ক্যা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছে বাংলায় এনপিআর হবে না। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন দলনেত্রী। তিনি দিল্লিতেও এই সংক্রান্ত বৈঠকে যাননি। 
রবিবার সন্ধের সময় মঞ্চে সকলে দাঁড়িয়ে স্লোগান দেন। ফিরহাদ বলেন, আমাদের দলনেত্রী ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে এসেছেন। আমরা তাঁর আদর্শ সামনে রেখে রাজনীতি করছি। এনআরসি ও ক্যা আমরা মানছি না। বাংলায় এনপিআর করতে দেব না। ছাত্ররা দশ দিন ধরে অবস্থান করছে। সোমবার থেকে বসবে মহিলারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ শত চেষ্টা করলেও বাংলায় এনপিআর হবে না। ধর্ম নিয়ে বিজেপি রাজনীতি করছে। ওঁদের নেতারা বাংলায় এসে মমতাকে আক্রমণ করছেন। কুৎসিত ভাষা ব্যবহার করছেন। বাংলার সংস্কৃতি ও কৃষ্টি বিজেপি জানে না। গান্ধীজির অহিংস আন্দোলন সস্পর্কে ওদের ধারণা নেই। ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছে। আমাদের নেত্রী বারবার একটা কথাই বলেছেন, ‘‌হিংসার পথে না গিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হবে। বিজেপি হিংসায় বিশ্বাসী। ওরা দেশ ভাগ করতে চায়। মানুষ আগে ওদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এবারও করবে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top