দীপঙ্কর নন্দী

 

বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার শপথ নিয়েছে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার পর পুরুলিয়ায় কানহুর মূর্তিও ভেঙেছে বিজেপি কর্মীরা। বৃহস্পতিবার তৃণমূল এই অভিযোগ তুলেছে।
এদিন কয়লাখনি বেসরকারীকরণের প্রস্তাব নেওয়ার প্রতিবাদে কোল ইন্ডিয়ার অফিসের সামনে তৃণমূলের নেতা ও নেত্রীরা বিজেপি–‌কে কড়া আক্রমণ করলেন। সর্বভারতীয় তৃণমূলের মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকেও বিজেপি–‌র সমালোচনা করা হল। বলা হয়েছে, বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল বিজেপি কর্মীরা। গুন্ডামি করে ভাঙা হয়েছে পুরুলিয়ায় কানহুর মূর্তিও। সর্বভারতীয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পুরুলিয়ার প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে মাটি সংগ্রহ করে ওই মূর্তি বানিয়ে দেওয়া হবে। এই মূর্তি ভাঙার রাজনীতিকে দল তীব্র নিন্দা করছে।
এদিন তৃণমূলের নেতারা বলেন, বাংলার মনীষীদের ইতিহাস বিজেপি জানে না। শ্রদ্ধা জানানোর পরিবর্তে এরা অশ্রদ্ধাই করছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার পিছনে কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে?‌ এদিনের বিভিন্ন প্রতিবাদ সভায় অনেকে বলেছেন, বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে বিজেপি নেতাদের কোনও ধ্যান–‌ধারণা নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে দিল্লির নেতারা অবগত নন। তাঁরা বাংলাকে দখল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। বিজেপি–‌র জন্যই বাংলায় করোনা ছড়িয়েছে। সাহায্যের পরিবর্তে অসহযোগিতার রাজনীতি শুরু হয়েছে।
নেতারা বলেছেন, ৪১টি কয়লাখনিকে বেসরকারীকরণ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এক সময় কয়লামন্ত্রী ছিলেন। সেই সময় কয়লা শিল্পে পরিণত হয়েছিল। এখন দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এই বেসরকারীকরণের প্রতিবাদে কেন্দ্রকে চিঠি লিখেছিলেন।
কিছুদিন আগেই তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব নির্দেশ দিয়েছে, সব বুথে বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে প্রচার করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কুৎসার জবাব দিতে হবে। লকডাউনের সময়ে দূরত্ব বজায় রেখে ছোট ছোট মিটিং, মিছিল করতে হবে। সিপিএম–কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও বলতে হবে। বাম–কংগ্রেস জোটের যে কোনও ভবিষ্যৎ নেই মানুষের সামনে সেটা তুলে ধরতে হবে। করোনা, আমফানের সময়ে এই তিন দল রাজ্য সরকারের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। আমফানের ক্ষতিকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করার কথা বলা হয়েছিল কেন্দ্রকে। বিজেপি–‌র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে কটাক্ষ করে নেতারা বলেন, বাংলায় তিনি উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন। ভুল তথ্য দিচ্ছেন। লকডাউনে আইন ভেঙে মিটিং–‌মিছিল করছেন। সাধারণ মানুষ সব দেখছেন। ২০২১–এ যোগ্য জবাব দেবেন।
কোল ইন্ডিয়ার সামনে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য পেশ করেন সুদীপ ব্যানার্জি, সুব্রত বক্সি, শান্তনু সেন, নয়না ব্যানার্জি, শশী পঁাজা, মালা সাহা, স্মিতা বক্সি, সঞ্জয় বক্সি, সোহিনী মুখার্জি প্রমুখ।

কয়লা শিল্পে বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে গড়িয়াহাটে প্রতিবাদ মিছিলে হঁাটছেন সুব্রত মুখার্জি। ছবি:‌ বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top