আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ভিক্ষা করে যা পান, তাই দিয়ে পেট চালান। মাছ–মাংস মোটেও ছুঁয়ে দেখেন না। সন্ন্যাসী বলতে এ রকমটাই মনে হয়। কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ বরাবর হেঁটেছেন অন্য পথে। তিনি দারুণ ভোজনরসিক। সারা জীবন চুটিয়ে মাছ, মাংস খেয়েছেন। তাও আবার সব রকম মাংস। 
স্বামীজির প্রিয় খাবার ছিল কচুরি। কলকাতার নানা দোকানে ঘুরে কচুরি খেতেন। লন্ডনে থাকার সময় নিজের হাতে কচুরি বানাতেনও। একবার ভারত ভ্রমণে বেরিয়েছেন। পথে এক জন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘‌আচ্ছা, আপনি কোন সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী? পুরী না গিরি?’‌ বিবেকানন্দ বরাবরই কথায় পটু। জবাবে বললে, ‘‌পুরী গিরি দুটোর কোনওটাই না, আমি কচুরি সম্প্রদায়ভুক্ত।’‌
বাবা বিশ্বনাথ দত্তের রসুইখানায় মুসলমান বাবুর্চি ছিলেন। ছোট থেকেই নরেন্দ্রনাথের মাংস খুব প্রিয়। ফাউল (‌মুরগির মাংস)‌ ছিল তার মধ্যে অন্যতম। সেকালে বাঙালি বাড়িতে মুরগির মাংস ঢুকত না। বিবেকানন্দ এসব নিয়ম কখনও মানেননি। শিষ্যের এই মাংস–প্রীতির কথা জানতেন গুরু রামকৃষ্ণও। 
একবার এক শিষ্য নরেনের নামে নালিশ জানান রামকৃষ্ণকে। জবাবে ঠাকুর বলেন, ‘‌খেয়েছে বেশ করেছে। তুই যদি হবিষ্যিও খাস আর নরেন যদি হোটেলে খায়, তাহলেও তুই নরেনের সমান হতে পারবি না।’‌ ঠাকুর নিজে অবশ্য সাত্ত্বিক আহার করতেন। মাছ–মাংস ছুঁয়েও দেখতেন না। 
তখন তিনি পড়াশোনা করছেন। খাদ্যরসিক বন্ধুদের নিয়ে তৈরি করেছিলেন ‘পেটুক সংঘ’। তাদের কাছে বলেছিলেন, একদিন কলকাতা শহরের গলির মোড়ে মোড়ে চপ–কাটলেটের দোকান হবে। কলেজে পড়ার সময়ে বিদেশি রান্না শেখার জন্য কিনেছিলেন ফরাসি রান্নার বই। সেই রেসিপি দেখে বাড়িতে টুকটাক অভ্যাসও করেছিলেন।
শিকাগো যাত্রার আগে তৎকালীন বোম্বাইতে স্বামীজি ১৪ টাকা খরচ করে এক হাঁড়ি পোলাও রান্না করে শিষ্যদের খাইয়েছিলেন। কই মাছও খুব পছন্দ করতেন। শুধু খেতে নয়, রাঁধতেও দারুণ ভালোবাসতেন। নিজের হাতে গুরুভাই, শিষ্যদের রান্না শেখাতেন। আমেরিকায় থাকার সময় মিসেস ওয়াইকফকে প্রায়ই রান্নায় সাহায্য করতেন। নিজের হাতে তাঁদের রুটি, তরকারি করে খাওয়াতেন। মশলা বেটে নিতেন নিজেই। শোনা যায়, মৃত্যুর দিনেও ইলিশ মাছ খেয়েছিলেন। আইসক্রিম তাঁর খুব পছন্দের ছিল। প্রতি বার খাওয়ার পর ধূমপানও করতেন। 

জনপ্রিয়

Back To Top