বিমানের উল্টো অবস্থানে সুজন! বিজেপি বিরোধিতায় তৃণমূল ‘সঙ্গ’ নিয়ে বিতর্ক সিপিএম অন্দরে

শ্রাবণী গুপ্ত: প্রথমে সূর্যকান্ত মিশ্র, দলের রাজ্য সম্পাদক। তারপরে বিমান বসু, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান। বিজেপি বিরোধিতায় যে কোনও মঞ্চে যেতে রাজি থাকার বার্তা দিয়েছিলেন দু’জনেই। প্রথম জন কৃষ্ণনগরে দলীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে বার্তা দিয়েছিলেন। আর পূর্ব মেদিনীপুরে দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে বার্তা দিলেন বিমান বসু। এদিন পাল্টা বক্তব্য রাখলেন প্রাক্তন বিধায়ক তথা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। যথারীতি তারপর থেকেই উত্তাল বাম রাজনীতি।
এদিন সুজন বলেন, ‘তৃণমূলের সঙ্গে বামেরা এক হবে কি না এই প্রশ্নটা অবান্তর। তৃণমূলের সঙ্গে বামেরা এক হতে যাবে কেন? বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল কবে লড়াই করল? বিজেপির সঙ্গে তো সরকার গড়েছে। রাজ্যে বিজেপিকে ৩ থেকে ৭৭ করেছে তৃণমূল। বিজেপির বিরুদ্ধে লাগাতার লড়াই করেছি আমরা। তৃণমূল বিজেপির আগে থাকবে, মাঝে থাকবে না বিরুদ্ধে থাকবে সেটা ওদের ব্যাপার।’ 
এদিন সন্ধেয় দিল্লি পৌঁছেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। ২১ জুলাই ভাষণের থেকেই বিজেপি বিরোধী মঞ্চ গঠনের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। এই সফরেই অ-বিজেপি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মিলিত হওয়ার কথা তাঁর। আলাদা ভাবে দেখা করবেন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও। এই পরিস্থিতিতে গত কয়েকদিন ধরেই বাম অন্দরে আবর্তিত হচ্ছে এই প্রশ্ন যে এক্ষেত্রে তাঁদের অবস্থান কী হবে? যেহেতু বিজেপি বিরোধী এই মঞ্চের প্রধান মুখ হতে চলেছেন মমতা, এখানে বাম দলগুলো বা আরও নির্দিষ্ট করে বললে সিপিএম কি স্বচ্ছন্দ হবে? সীতারাম ইয়েচুরি কি ডাক পেলে যাবেন এই বৈঠকে?
দিন কয়েক আগে সূর্যকান্ত মিশ্র রাজ্য ও দেশের প্রেক্ষিত আলাদা সেই হিসেবে বিজেপি বিরোধী যে কোনও মঞ্চে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। রবিবার প্রায় একই কথা বলেন বিমান বসু। আজ দু’জনের এহেন বক্তব্যের পরে সিপিএম অন্দরে বিতর্ক আরও বেড়েছে। সুজন আরও বলেন, ‘আমাদের বিজেপি বিরোধী অভিযান চলবে। বিজেপিকে হারাতেই হবে। কিন্তু তৃণমূল শেষমেশ বিজেপির সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করবে কি না সেই সন্দেহ থাকছে।’ 
তৃণমূল কংগ্রেস যদিও সংখ্যার নিরিখে সিপিএমকে এই মুহূর্তে গুরুত্ব দিতে নারাজ। আবার সিপিএম অন্দরে প্রবল আওয়াজ উঠেছে ‘একলা চলো’ নীতির সপক্ষে। বস্তুত, নির্বাচনের আগে থেকেই কংগ্রেস, আইএসএফ-কে ছেড়ে বামেরা একা চলুক এমন দাবি উঠেছিল। ভোট পরবর্তী বামফ্রন্টের বৈঠকে যেমন সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক; সিপিএম রাজ্য কমিটির বৈঠকে তেমনই বহু সদস্যই ভোটে এই ফলের জন্য ‘জোট’-কে দায়ী করেছেন। দু’জনের বক্তব্য এদের মধ্যে অনেকেই সমর্থন করছেন কিন্তু জটিল পরিস্থিতিতে মুখ খুলতে চাইছেন না। ২৮ তারিখ বঙ্গ ভবনে তৃণমূল নেত্রীর ডাকা বৈঠকে যদি ডি রাজা, ইয়েচুরিরা যান সেক্ষেত্রে এই বিতর্ক যে আবার সামনে চলে আসবে তা বলাই বাহুল্য।