আজকালের প্রতিবেদন: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক অধ্যাপকের গালে চড় মারার অভিযোগ উঠল এক ছাত্রের বিরুদ্ধে!‌
 ওই শিক্ষকের নাম ভাস্করচন্দ্র দাস। গৌরব দত্ত মুস্তাফি নামে এক ছাত্র তাঁর গালে চার–পাঁচটা চড় মেরেছেন বলে জানিয়েছেন ভাস্করবাবু। গৌরব বায়ো–ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করেন। শুধু চড় মারাই নয়, অকথ্য ভাষায় তাঁকে গালিগালাজ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই অধ্যাপক। দীর্ঘক্ষণ তাঁকে একটা ঘরে দরজা বন্ধ করে আটকে রাখা হয়। বুধবার বিষয়টি তিনি উপাচার্যকে লিখিত জানাবেন। ঘটনাটির সময় গৌরব মদ্যপ ছিলেন বলেও অভিযোগ। 
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সকালে। বিটেক–এর দ্বিতীয় সেমেস্টারের কয়েকজন ছাত্রছাত্রী পাশ করানোর দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এঁরা সবাই প্রসেস ক্যালকুলেশন পেপারে ফেল করেছেন। জুন মাসে পরীক্ষা হয়। নভেম্বরে ফল প্রকাশ হলে দেখা যায় ৪২ জনের মধ্যে ২৭ জন এই পত্রে ফেল করেছেন। রিভিউর পরও এঁরা কেউ পাশ করতে পারেননি। এই পড়ুয়াদের অভিযোগ, খাতা দেখেছেন ভাস্করবাবু। তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে ফেল করিয়েছেন। ভাস্করবাবুর সঙ্গে এই পড়ুয়াদের কথাকাটাকাটির মাঝে আচমকাই ঘরে ঢুকে ভাস্করবাবুর গালে চড় মারেন গৌরব। ভাস্করবাবু বলেন, ‘‌প্রথমে আমাকে হুমকি দেয়। পরে হঠাৎই সপাটে চড় মারতে শুরু করে ছাত্রটি। চার–পাঁচটা চড় মারে। অকথ্য ভাষায় গালি দেয়। কম্পিউটারের কি–বোর্ড ভেঙে দেয়। এক অধ্যাপকের সামনেই ঘটনাটি ঘটে। গৌরবের সঙ্গে আরও একটি ছাত্র ছিল।’‌ এর আগেও এক ছাত্রের হাতে এইভাবেই হেনস্থা হয়েছিলেন ভাস্করবাবু। তিনি বলেন, ‘‌এবার যা হয়েছে তা ‌লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট। উপাচার্যকে জানাব।’‌ এ বিষয়ে উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী ব্যানার্জি বলেন, ‘‌ঘটনাটি কানে এসেছে। প্রযুক্তির ডিনকে পাঠিয়ে ছিলাম। প্রয়োজনে সহ–উপাচার্য (‌‌শিক্ষা)‌‌ দেখবেন।’‌ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক লগ্নজিতা চক্রবর্তী বলেন, ‘‌ঘটনাটি খুবই নিন্দনীয়। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top