আজকালের প্রতিবেদন:‌ বাবা ক্যান্সার আক্রান্ত। তাই গত মঙ্গলবার তাঁর শেষ ইচ্ছাপূরণে সম্প্রতি হাসপাতালেই বিয়ে সেরেছেন দিওতিমা সরকার। তারপরই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি এবং তাঁর স্বামী সুদীপ্ত। কিন্তু কীভাবে দেখা হয়েছিল দু’‌জনের?‌ জানা গিয়েছে, ব্যাঙ্কের ঋণ মেটাতে গিয়েই দিওতিমার আলাপ হয়েছিল সুদীপ্ত কুণ্ডুর সঙ্গে। সুদীপ্তর মায়ের মৃত্যুর কারণও ছিল ক্যান্সার। স্বাভাবিকভাবেই দুজনের মধ্যে সহমর্মিতা গড়ে উঠতে সময় লাগেনি। এরপরই ব্যাঙ্কে যাতায়াত। বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা। যা পূর্ণতা পেল। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সারেন দিওতিমা এবং সন্দীপ। বেডে শুয়ে মেয়ে–জামাইয়ের চারহাত এক হওয়ার দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছেন দিওতিমার বাবা সন্দীপ সরকার। 
আসলে দীর্ঘ কয়েকবছর বিভিন্ন ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে দিওতিমাকে। ২০০৭ সালে তাঁর বাবা সন্দীপ সরকারের জিভে ক্যান্সার ধরা পড়ে। মুম্বইয়ে ভর্তি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত রেলের ইঞ্জিনিয়ার সন্দীপবাবু। একদিকে পড়ার চাপ, অন্যদিকে বাবার অসুস্থতা। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের ছাত্রী দিওতিমার সময়টা তখন মোটেই ভালো যাচ্ছিল না। এসবের মধ্যে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো হল নোটবন্দি। সেইসময় ব্যাঙ্কের টাকাপয়সা লেনদেন নিয়ে ব্যাপক সমস্যায় পড়েন তিনি। বাড়ি মেরামত করানোর জন্য ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন সন্দীপবাবু। এতকিছু কী ভাবে সামলাবেন, বুঝে উঠতে পারছিলেন না দিওতিমা। তখনই আলাপ কাশীপুরের এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের আধিকারিক সুদীপ্তের সঙ্গে। ওই খারাপ সময়ে যিনি দিওতিমাকে সবরকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাই তাঁকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে দু’‌বার ভাবেননি এখন রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের শারীরবিদ্যার গবেষক দিওতিমা। আপাতত বিয়ের সামাজিক অনুষ্ঠান ১৬ ফেব্রুয়ারি।‌

জনপ্রিয়

Back To Top