আজকালের প্রতিবেদন: বরাবরই মানুষের পাশে থাকতে ভালবাসতেন সন্তোষপুরের অপ্রতিম ঘোষ। অপ্রতিমের মরণোত্তর অঙ্গদানে ৪ জন নবজীবন পান। সকল গ্রহীতাই স্থিতিশীল আছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেশী থেকে আত্মীয়–স্বজন, বন্ধু–বান্ধব যখনই কারও কোনও সমস্যার কথা শুনতেন, ছুটে যেতেন। সর্বদা মানুষের পাশে থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। আগাগোড়া পরোপকারী স্বভাবের ছিলেন বলে জানান অপ্রতিমবাবুর পরিবারের সদস্যরা। অপ্রতিমবাবু সল্টলেকে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। সন্তোষপুরে তাঁর স্ত্রী, কন্যা রয়েছেন। স্ত্রী ঈপ্সিতা ঘোষ কনটেন্ট রাইটিংয়ের কাজ করেন। তাঁদের ৮ বছরের একটি কন্যান্তান আরাত্রিকা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। মেয়ের চোখ বাবাকে খুঁজলেও মা বুঝিয়ে দিচ্ছেন বাবার মহৎ কাজের কথা। অপ্রতিমবাবুর বাবা অমিতাভ ঘোষ আগেই মারা গিয়েছেন। মা কৃষ্ণা ঘোষ ভবানীপুরে থাকেন। ঘোষ পরিবারে প্রথম অপ্রতিমবাবুই অঙ্গদানের মতো মহৎ কাজ করলেন। সবসময় বাড়িতে অপ্রতিমবাবু আলোচনা করতেন অঙ্গদানের মতো মহান কাজে মানুষ কেন এগিয়ে আসে না।
স্বামী–স্ত্রী দু’‌জনেই বছরখানেক আগে মরণোত্তর অঙ্গদানে অঙ্গীকার করেছিলেন। বুধবার ঈপ্সিতা ঘোষ বলেন, ‘‌অঙ্গদান নিয়ে ফর্টিসে একটি শিবিরের আয়োজন হয়েছিল। ফেসবুক পেজেও ফর্টিসের সেই ক্যাম্পেন হয়। সেই ক্যাম্পেন দেখে আমরা দু’‌জনেই ফর্টিসের ওয়েবসাইটে গিয়ে অঙ্গদানের জন্য নাম নথিভুক্ত করিয়েছিলাম। ওর ডোনার কার্ড ছিল। বাড়িতে ও সবসময় অঙ্গদানের বিষয়ে বলত। ওর অঙ্গগুলো কারও কাজে আসুক সেটাই বলত। সেই হিসেবে আমার মনে হয় এটা তো ওর ইচ্ছে ছিল, তাই সেই ইচ্ছেকে সম্মান জানাতেই অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নিই। কারও কোনও সমস্যা হলে এক ডাকে চলে যেত। মানুষের উপকার করতে ভীষণ ভালবাসত। আমিও অঙ্গদানের জন্য ডোনার কার্ড করে রেখেছি। মুমূর্ষু কোনও রোগীর কাজে এলে তখনই জীবন সার্থক হবে বলে মনে করি।’‌ 
শনিবার রাত থেকে সমস্যা শুরু হয় বছর ৪২–এর অপ্রতিমবাবুর। রবিবার প্রচণ্ড মাথাযন্ত্রণা নিয়ে পিয়ারলেসের ইমার্জেন্সিতে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি করা হয়। ঘণ্টাখানেক পরে তিনি কোমায় চলে যান বলে চিকিৎসকেরা জানান। একজনের দেখে অন্যরা এগিয়ে আসুক সেটাই চান ঈপ্সিতা। 
কমান্ড হাসপাতালে ২৫ বছরের এক সেনা জওয়ানকে কিডনি দেওয়া হয়। এস এস কে এম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, হার্টগ্রহীতা গণেশ কুইল্যা এবং কিডনিগ্রহীতা তারক ডোমের অবস্থা স্থিতিশীল, আইসিইউ–তে আছেন। লিভারগ্রহীতা স্বরূপকুমার পালের ভেন্টিলেশন এদিন সকালে খুলে দেওয়া হয়েছে। আইসিইউ–তে ভাল আছেন বলে জানান ডাঃ অভিজিৎ চৌধুরি। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top