আজকালের প্রতিবেদন
বিশ্ব জুড়ে অপুষ্টির বড়সড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে করোনা অতিমারী। বহু গরিব মানুষের পুষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পুষ্টিকর খাদ্যের গুণ এবং পরিমাণেও যথেষ্ট হেরফের ঘটছে। বিশেষত যাঁরা আর্থ–‌সামাজিক ভাবে পিছিয়ে আছেন তাঁদের ক্ষেত্রেই এই বিষয়টি বেশি প্রকট বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এসপারার অঙ্কো নিউট্রিশনের (ইওএন) নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়টেটিক্সের প্রিন্সিপাল কো–‌অর্ডিনেটর নাজনিন হুসেইন।
তিনি জানিয়েছেন, পুষ্টি সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষ ধাক্কা দিয়েছে  করোনা। অনেকেই লকডাউনের আগে বা পরেও জরুরি শারীরিক পরীক্ষাগুলি এড়িয়ে চলছেন। এড়িয়ে চলছেন পুষ্টি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরামর্শ, অস্ত্রোপচার বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি। যা তাঁদের শরীরে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত ক্যান্সার, মূত্রাশয়ের রোগীদের ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থা আরও জটিল করে তুলছে। 
বর্ষাও চলছে। প্রতি বছরই এই সময়টায় ম্যালেরিয়া, পেটের অসুখের মতো রোগগুলি অনেকটাই বেড়ে যায়। যা করোনা সংক্রমণ কালে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। অতিমারী সংক্রান্ত স্বল্প প্রমাণ ও গবেষণা বর্ষার রোগগুলির ক্ষেত্রে অজানা বিষয়গুলি নিয়ে আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। দেখা গেছে, ঋতু পরিবর্তন যেমন পুষ্টির ক্ষেত্রে ধাক্কা দেয় তেমনি জলবাহিত রোগেও প্রভাব ফেলে। বন্যার সময় পেটের অসুখ বাড়ে। প্রকৃতির এই খেয়ালে গরিব মানুষদেরই বেশি সমস্যা হয়। কারণ তাঁরা পর্যাপ্ত খাবার পান না এবং নানারকম রোগে সংক্রমিত হন। ব্যাঘাত ঘটে সঠিক পুষ্টির।
করোনা পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত খাবারের অভাব এবং আর্থিক কষ্টের কারণে স্বাভাবিক ভাবেই এই পরিবারগুলিতে পুষ্টির মান নামিয়ে দিয়েছে। চিকিৎসার জন্য টাকা সরিয়ে রাখতে গিয়ে টান পড়ছে পুষ্টিকর খাবারে। অনেকেই ডিম, দুধ, মাংস বা এই ধরনের খাবার এড়িয়ে চলছেন। পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বা চিনি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় আঘাত করছে। আর প্রতিরোধের ক্ষমতা যত কমছে, ততই করোনা বা বর্ষার সময়ে হওয়া অন্য রোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে। 
শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নাজনিনের পরামর্শ, আদা, রসুন, দারুচিনি, হিং যেমন উপকারী তেমনি আমিষভোজীদের ক্ষেত্রে কম চর্বিযুক্ত মাংস বা ডিমও উপকারী। এই তালিকায় যোগ করা উচিত বাজরাও। সেইসঙ্গে আমলকী, হলুদ, কলা বা অন্যান্য বেশ কয়েকটি ফলেও বাড়বে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।‌

জনপ্রিয়

Back To Top