আজকালের প্রতিবেদন
করোনা সংক্রমণ রুখতে মাইক্রো প্ল্যানিংয়ে সাফল্য পাওয়া গেছে কলকাতার বস্তি এলাকায়। সংক্রমণ রুখতে সেই মডেলই এবার প্রয়োগ করা হবে শহরের বহুতল আবাসনগুলিতে। বুধবার এ কথা জানিয়ে কলকাতা পুরসভার প্রধান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কন্টেনমেন্ট জোন মানে জেলখানা নয়। এটা  বুঝতে হবে। সংক্রমণ এড়াতে বিধাননগর পুর নিগম এলাকায় একদিন অন্তর পুরবাজারগুলি খোলার পরিকল্পনা হয়েছে। মাইকে এলাকাগুলিতে এ নিয়ে প্রচারও করা হচ্ছে। কলকাতার ২৫টি এবং বিধাননগর পুর নিগমের ৬টি জায়গার কয়েকটি বাড়ি বা আবাসন বা কিছু অংশকে কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। 
ফিরহাদ বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকায় সংক্রমণ রুখতে মাইক্রো প্ল্যানিং করে কাজ করেছে পুরসভা। তাতে সাফল্য মিলেছে। এবার বহুতল আবাসনগুলিতেও একই পদ্ধতিতে কাজ করার কথা ভাবা হচ্ছে। আবাসনের সোসাইটিগুলোকে পুর স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীদের ভিতরে ঢোকার অনুমতি দিতে হবে। আবাসনে কেউ একজন আক্রান্ত হলে সেই বিল্ডিংটা ঘিরে রাখতে হবে। আক্রান্তের পরিবারকে গৃহবন্দি হয়ে থাকতে হবে। তাঁরা কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। বিল্ডিংটা হবে কন্টেনমেন্ট জোন। অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা বাইরে কাজে যেতে পারবেন। তবে খুব সাবধানে। এলাকার অন্য বাসিন্দাদের সচেতন করতেই এলাকাটি ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হবে। কোনও বাড়ি বা আবাসনের বহুতলের কেউ আক্রান্ত হলে শুধু সেই বাড়িটিকেই কন্টেনমেন্ট জোনের মধ্যে রাখা হচ্ছে। এলাকায় দোকানপাট, বাজার খোলা থাকবে। গণপরিবহণ চালু থাকবে। তবে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বিধি ঠিকঠাক পালন ও সচেতনতার জন্যই জায়গাটি ঘিরে নজরদারি চালানো হবে। বহুতলের লিফট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘‌একজনের অসচেতনতার জন্য ১০০ জনের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে দেবেন না।’‌ এদিকে, কাঁকুড়গাছির একটি আবাসনে ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সেটিকে কন্টেনমেন্ট জোন করে কলকাতা পুলিশ ঘিরে দিয়েছে। আলিপুরের সত্যম টাওয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ওই আবাসনে একাধিক মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রচার হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। আবাসনের একজন আক্রান্ত। 
কলকাতার কন্টেনমেন্ট জোন
কাঁকুড়গাছির মতিলাল বসাক লেনের বস্তির একটি বাড়ি, সিআইটি স্কিম ৭–এর একটি আবাসন। আলিপুরের সত্যম টাওয়ার্স, জাজেস কোর্ট রোড  এবং বেলভেডিয়ার রোডের ৩টি আবাসন। ভবানীপুরের শরৎ বোস রোডের একটি আবাসন, চক্রবেড়িয়া রোডের ৪টি বাড়ি এবং একটি আবাসন। উল্টোডাঙার অধর চন্দ্র দাস লেনের পুরোটা এবং আরিফ লেনের একটি অংশ। বটতলার হরিপাল লেনের ৩টি বাড়ি। দত্তবাগানের জওহরলাল দত্ত লেন। আমহার্স্ট স্ট্রিটের রাজা রামমোহন সরণির কয়েকটি বাড়ি। করবাগানের উল্টোডাঙা মেন রোডের একটি বাড়ি। ফুলবাগানের সুরেন সরকার রোডের ২টি বাড়ি। জোড়ামন্দির বাজারের তরণ কৃষ্ণ নস্কর লেন ও চাউলপট্টি রোডের ক্রসিং। গিরিশ পার্কের বলরাম দে স্ট্রিটের ৩টি বাড়ি।  বেনিয়াপুকুরের লিন্টন স্ট্রিটের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে বিদ্যাপীঠ স্কুল পর্যন্ত। কসবার জিএস রোডের একটি অংশ। মুকুন্দপুরের পূর্বালোক ও বিজয়গড়ের একটি করে বাড়ি। অজয়নগরের সম্মিলনী পার্ক (‌মাঙ্গলিক থেকে যুবশক্তি সম্মিলনী ক্লাব পর্যন্ত)‌। কসবার ৮৫ থেকে ১৫৮ সুইনহো লেন। সখেরবাজারের বৈদ্যপাড়া হাইস্কুল থেকে ৪৬/‌১ ভুবন মোহন রায় রোড। ১২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহাত্মা গান্ধী রোড সংলগ্ন প্রগতি পল্লীর একটি বাড়ি।
বিধাননগরের কন্টেনমেন্ট জোন
কেষ্টপুরের সমরপল্লীর একটি অংশ। এফডি ব্লকের ৪টি, এফই ব্লকের ৩টি, আইবি ব্লকের ২টি, এইচসি ব্লকের এসবিআই আবাসন। বিই ব্লকের ২৩২ থেকে ২৪৯ নম্বর বাড়ি, দত্তাবাদ বড়পাড়ার তরুণ সঙ্ঘ ক্লাবের পেছনের দিক।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top