নীলাঞ্জনা সান্যাল
পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছেন আগেই। এবার মনোবিদের শরণাপন্ন হলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপিকা মেরুনা মুর্মু।
জাত এবং পদবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমাগত কটাক্ষ, হেনস্থা এবং সংগঠিত নেট–নিগ্রহের শিকার মেরুনা। গত ১২–১৩ দিন ধরে লাগাতার আক্রমণের মুখে তিনি। মেরুনার কথায়, ‘‌আমি খুব ক্লান্ত। গত কয়েক দিন ধরে ঘুমোতে পারছি না। মানসিকভাবে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছি। আমার লেখালিখিকে কেন্দ্র করে আগেও আক্রমণের মুখে পড়েছি। কিন্তু দলবেঁধে এবার যে আক্রমণের মুখোমুখি হয়েছি তা আগে ঘটেনি। বাধ্য হয়েই মনোবিদের শরণাপন্ন হয়েছি। ওষুধ খেতে হচ্ছে।’‌
কিছুদিন আগেই যাদবপুর থানায় পুলিশ আধিকারিককে ই–মেল করে অভিযোগ দায়ের করেছেন মেরুনা। অভিযোগে তাঁর কোন বক্তব্যের পেক্ষিতে তাঁর প্রতি এই বিষোদ্গার শুরু হয়েছে সবটাই জানিয়েছেন। মেরুনা বলেন, ‘‌যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে তা অবশ্যই এসসি–এসটি আইন অনুযায়ী তদন্তযোগ্য। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো ঠেকাতে যে আইন রয়েছে সেটাও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে মনে হয়েছে। আমি প্রথমে কোনও অভিযোগ জানাতে চাইনি। কিন্তু যা চলছে, তাতে অভিযোগ জানাতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছি। পুলিশ তাদের মতো তদন্ত করবে।’‌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেরুনার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অতিমারীর আবহে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের ফাইনাল পরীক্ষা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মেরুনার করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করেই যাবতীয় ঘটনার সূত্রপাত। প্রথমে তাঁকে জাত তুলে অপমান করা হয়। পরে সংগঠিত নেট–নিগ্রহের শিকার হন তিনি। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বেথুন কলেজের বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী। কলেজের পক্ষ থেকে এই ঘটনার নিন্দা করা হয়। মেরুনার সমর্থনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি জুটা, শিক্ষক সংগঠন আবুটা এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ছাড়াও একাধিক সংগঠন এগিয়ে এসেছে। সম্প্রতি ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার, তনিকা সরকার এবং অধ্যাপিকা সুপ্রিয়া চৌধুরি–সহ অনেকে জাতীয় এসসি–এসটি কমিশনে ঘটনাটির প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন। এরই মধ্যে অভিযুক্ত ছাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন।

জনপ্রিয়

Back To Top