সাগরিকা দত্তচৌধুরি
রোগীর স্বার্থে যতটা সম্ভব নির্দিষ্ট সুরক্ষাবিধি অবলম্বন করে ধীরে ধীরে প্রাইভেট ক্লিনিক শুরু করেছেন অনেকেই। কেউ চেম্বারের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন তো কেউ আবার রোগী সংখ্যা। বিশেষত চক্ষু, দন্ত ও ইএনটি বিশেষজ্ঞের অধিকাংশই এতদিন চেম্বার করছিলেন না। কিন্তু এভাবে আর কতদিন চেম্বার বন্ধ করে ঘরে থাকা সম্ভব— বলছেন বিশেষজ্ঞরাই। কারণ কোভিড–১৯ এত তাড়াতাড়ি পিছন ছাড়ার নয়। থার্মাল গান, স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার, চেম্বারের মূল গেট থেকে রোগীদের বসার জায়গা, কেবিন, যন্ত্রপাতি বারে বারে জীবাণুমুক্ত করা সব কিছু বজায় রাখতে গিয়ে হচ্ছে বাড়তি খরচ। তাই কেউ কেউ বাধ্য হচ্ছেন কনসালটেশন ফিজ বাড়াতে।  
বিশিষ্ট দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ পি কে ব্যানার্জি বলেন, ‘‌সল্টলেক ও মানিকতলা  দুটি চেম্বারেই রোগীর সংখ্যা অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। এক একটি চেম্বারে দিনে সর্বোচ্চ চারজনের বেশি রোগী দেখছি না। নিজেও পিপিই, ফেস মাস্ক, ফেস গার্ড, ফেস শিল্ড প্রভৃতি পরে যতটা সম্ভব সাবধানতা অবলম্বন করছি। নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া কোনও রোগীকে আসতে না দেওয়া, দরজার সামনেই থার্মাল গান দিয়ে তাপমাত্রা মাপা, বাইরে জুতো খুলিয়ে, হাত স্যানিটাইজ করিয়ে, পালস রেট, অক্সিজেন স্যাচুরেশন দেখে, রোগীর বা পরিবারের কারও  জ্বর, সর্দি, কাশি হয়েছে কিনা, সংক্রমিত এলাকার বাসিন্দা কিনা বিস্তারিত তথ্য লিখিত নথিভুক্ত করা প্রভৃতি মেনে তারপরই রোগী দেখছি। পরবর্তী কোনও সময় কোভিড–১৯ রোগীর হলে সেক্ষেত্রে এই চিকিৎসকের চেম্বার কোনওভাবেই দায়ী নয় তার সম্মতিও নিচ্ছি।’‌
ডাঃ ব্যানার্জি আরও জানান, লালা, থুথু (‌এরোসেল)‌ নির্গত হবে না এমন পদ্ধতিকে আগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দাঁতের ফিলিং, স্কেলিং, রুট ক্যানাল করার সময় হাইসাকশন মেশিনের ব্যবহার করছেন। অতি সূক্ষ্ম ভাইরাস আটকাতে পারে এমন আধুনিক মেশিনেরও ব্যবহার করছেন তাঁর চেম্বারে। রোগীরা বুঝছেন তাদের স্বার্থেই এত সব কিছু করা। কোনও সার্জিক্যাল পদ্ধতির চার্জ না বাড়িয়ে শুধু কনসালটেশন ফি ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করতে বাধ্য হয়েছেন।  
লেক মলের উল্টোদিকে নিজের বাড়িতেই চেম্বার করেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ হিমাদ্রি দত্ত। তিনি বলেন, ‘আমার চেম্বারে রোগীদের প্রবেশ বাহিরের পৃথক ব্যবস্থা করা ছাড়াও, প্রয়োজনীয় সাবধানতা মেনে সব মিলিয়ে এখন ১০–১২ জনের বেশি দেখছি না। নিজেও হেড ক্যাপ, মাস্ক, চশমা, গ্লাভস পরছি। ফিজ এই মুহূর্তে বাড়াইনি ৭০০ টাকাই রয়েছে।’‌  
ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অসীম সরকার বলেন, ‘‌নো মাস্ক নো এন্ট্রি’ রোগীদের বলে দিয়েছি। চিকিৎসক হয়ে ভয় পেলে চলবে না। সংস্পর্শ এড়াতে দূরত্ব বজায় রেখে ২–৩ মিনিটের মধ্যে রোগী দেখা শেষ করে চেম্বারের বাইরে বসতে বলে তারপর প্রেসক্রিপশন লিখে বাড়ির লোককে বুঝিয়ে দিচ্ছি। সব রোগীর নাম, ফোন নম্বর লিখে রাখছি। সময় কমিয়ে সুরক্ষাবিধি মেনে এখন শুধু জানবাজারের চেম্বারটাই করছি। এই সঙ্কটের সময়ে ফিজ বাড়ানো উচিত নয় বলে মনে করি। সেবা করার মনোভাব নিয়েই চেম্বার করছি।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top