অভিজিৎ বসাক
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সম্পূর্ণ অসত্য বলছেন বলে অভিযোগ করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্পর্কে কোনও তথ্য জানায়নি বলেই রাজ্য গরিবকল্যাণ রোজগার অভিযান থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ করেন নির্মলা। জবাবে সোমবার একটি ভিডিও সাংবাদিক সম্মেলনে অমিত মিত্র বলেন, ‘‌সম্পূর্ণ অসত্য। ২৩ জুন জেলাভিত্তিক পরিযায়ী শ্রমিকদের তথ্য চেয়েছিল কেন্দ্র। সেদিন সন্ধে ৭টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাঠানো হয়। আবার ২৫ জুন তথ্য চাওয়া হয়। এবার ব্লকভিত্তিক। সেদিনই সেই তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এবার আমি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করছি। তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে।’‌ ওই প্রকল্পে ছটি রাজ্যকে ৫০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আর বাংলার জন্য কিছু না!‌ বিজেপি আর সীতারামন বলছে, রাজ্য কোনও তথ্য দেয়নি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তথ্য চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য।
এদিন অমিত বলেন, ‘‌নতুন প্রকল্প করা হয়েছে— গরিবকল্যাণ রোজগার অভিযান। খুব সুন্দর নাম। বাংলাকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের একটাও জেলা নেই। কেন?‌ কারণ, আমরা নাকি তথ্য দিইনি!‌ এই মিথ্যাচারটা আমরা তুলে ধরতে চাই। ২৩ জুন দুপুরবেলায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে চিঠি এল, কোন জেলায় কত পরিযায়ী শ্রমিক এসেছেন, জানতে চেয়ে। সন্ধে ৭টার মধ্যে জেলাওয়াড়ি তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হল। ২৫ তারিখ আবার চিঠি এল, এবার ব্লকস্তরের তথ্য চেয়ে। ওইদিনই তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে দেখলাম ওঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকার নাকি তথ্য দেয়নি!‌ আমাদের কাছে কমবেশি সব কিছু ডিজিটাইজ্‌ড। চ্যালেঞ্জ করে বলছি। এত বড় মিথ্যে কথা বললেন ভারতের অর্থমন্ত্রী?‌ তাঁকে কেউ বলেননি!‌‌ নিজেই বলে দিলেন!‌‌ রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত এবং প্রণোদনের জন্য?‌ পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ‘‌স্নেহের পরশ’ প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। রেলের ভাড়া দিয়ে ফিরিয়ে এনেছেন ১৪ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিককে। ম্যাডাম সীতারামনের কাছে আশা করিনি। তারিখ দিয়ে চ্যালেঞ্জ করে বলছি। ২০ জেলার পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। তার তালিকা আছে। কতজন আছে, সবার তালিকা রয়েছে। ২০টি জেলা ওই প্রকল্পের মধ্যে আসা উচিত ছিল। অর্থমন্ত্রীর মেপে কথা বলা উচিত। তথ্য পাইনি বলে জেলাকে ঢোকাইনি— একথা একদম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত;‌ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর আর কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে না। চিঠি বের করুন। মানুষের কাছে ক্ষমা চান। বলুন— আমি জানতাম না। আমি ভুল করে বলে ফেলেছি।’‌
অমিত আরও বলেন, ‘‌৩০৯টি ট্রেন এসেছে, পুরো টিকিট রাজ্য সরকার দিয়েছে। তোমরা দিয়েছিলে?‌ বলেছিলে, ৮৫ শতাংশ দেবে। তারপর দরদাম শুরু করেছিলে!‌ আমাদের না জানিয়ে একদিন ৩৫টি ট্রেন পাঠিয়ে দেওয়া হল। আর কোনও রাজ্য নেই যে স্কিল ম্যাপিং করেছে। এ রাজ্য করেছে বলে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে ৪.‌৫ লক্ষ জন ১০০ দিনের কাজ করছেন।’‌
করোনা পরীক্ষা নিয়ে অমিত জানান, বিজেপি নেতারা বলছেন, রাজ্যে করোনার পরীক্ষা নাকি কম হচ্ছে। তথ্য নিয়ে দেখুন, সবচেয়ে কম পরীক্ষা হয়েছে যে পাঁচটি রাজ্যে, সেগুলি সবই বিজেপি–‌শাসিত।
তিনি বলেন, ‘‌বাংলা শস্য বিমার প্রিমিয়াম দেয় রাজ্য। সেখানে ৪৫ লক্ষ কৃষক নথিভুক্ত হয়েছেন। খারিফে  প্রযুক্তিভিত্তিক শস্যবিমা চালু হয়েছে। বৃষ্টিপাতের তথ্য, কত ফসল নষ্ট হয়েছে, রিমোট সেন্সিং, গ্রাউন্ড ট্রুথ এক্সারসাইজ কাজে লাগানো হচ্ছে। খারিফের জন্য চলতি অর্থ বর্ষে ৩৫.‌৮২ লক্ষ কৃষক নথিভুক্ত এবং উপকৃত। খরচ ২২৫৩ কোটি টাকা। আর তিনি বলে গেলেন, তিনি জানেন না! ‌অথবা জানলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেন।’‌ তিনি বলেন, ‘‌২০১৬ সালে স্বাস্থ্যসাথী শুরু করেছিল রাজ্য। কেন্দ্র ২০১৮–‌তে আয়ুষ্মান ভারত। কেন্দ্র চেষ্টা করল মমতার প্রকল্প নকল করতে। মেনে নাও, রাজ্য দুর্দান্ত কাজ করেছে। স্বাস্থ্যসাথীতে রাজ্যের ১.‌৫ কোটি পরিবার, মানে ৭.‌৫ কোটি মানুষ উপকৃত হয়েছেন। ওই প্রকল্পে প্রতি বছর ১৩৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ।’‌
অমিতের আক্ষেপ, খুব দুঃখিত দেশের অর্থমন্ত্রী বিজেপির হয়ে বলে গেলেন। মিথ্যচার, বিভ্রান্তি ছড়ালেন, ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেন। সত্যকে স্বীকার করলেন না। শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না!‌ 
 

জনপ্রিয়

Back To Top